ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা চলতি বছরের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ. নফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ নামের স্মৃতিকথাটি ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে। বিশাল পরিসরের অথচ একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতির ছোঁয়ায় লেখা এই বইতে ভারতকে দেখার এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির স্বাধীনতা পরবর্তী উত্তাল ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক সংগ্রামের চিত্র এবং গত ছয় দশকে দেশটির ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়ে একজন প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষকের গভীর ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ।
ইতালির লুসিয়ানার বাসিন্দা সোনিয়া মাইনো ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে একটি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে রাজীব গান্ধীর সাথে পরিচিত হন। ১৯৬৮ সালে সোনিয়া ও রাজীব গান্ধী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরার হত্যাকাণ্ডের পর রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯১ সালে তিনিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
এরপর সোনিয়া গান্ধী রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হন। যদিও শুরুতে তিনি রাজি হননি, তবে পরে মত পরিবর্তন করে কংগ্রেস দলের সভাপতি হন এবং ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ‘ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স’ নামের বিরোধীদলীয় জোটের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ভারতের পার্লামেন্টের একজন সদস্য।
আলফ্রেড এ. নফ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ মূলত এক সাহসী নারীর গল্প, যিনি নিজের জীবন নতুন করে গড়ে তোলার এবং দেশের সেবা করার মতো মনোবল খুঁজে পেয়েছিলেন। এই বইতে তিনি তার ভাবনা ও উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন।
এদিকে ৭৯ বছর বয়সী সোনিয়া গান্ধী এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'আমি চেয়েছিলাম এই স্মৃতিকথাটি যেন আমার জীবনের কোমল আনন্দ ও গভীর হতাশার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত আমার হৃদয়ের যাত্রাপথের এক দলিল হয়ে ওঠে। আমার পরিবারকে নিয়ে অনেক কিছুই লেখা হয়েছে, কিন্তু খুব কম লেখাই তাদের কাজের পেছনের উদ্দেশ্য, তাদের কার্যকলাপ এবং এমনকি তাদের একান্ত মানবিক দুর্বলতাগুলোর প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরতে পেরেছে। নানা দিক থেকেই এই বইটি তাদের সেই মানবিক সত্তার প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি।'