মার্কিন লেখক ও কবি স্যাফায়ারের উপন্যাস 'পুশ' আমেরিকার ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সব পাবলিক স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে উটাহর স্কুলগুলোর শ্রেণিকক্ষ ও লাইব্রেরি থেকে স্যাফায়ারের প্রথম উপন্যাসটি সরিয়ে ফেলতে হবে। এটি এই অঙ্গরাজ্যের স্কুল্গুলোতে নিষিদ্ধ হওয়া ৩৭তম বই।
১৯৯৬ সালে নফ থেকে প্রকাশিত উপন্যাসটি নিউ ইয়র্কের হারলেমে বেড়ে ওঠা ১৬ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী ক্ল্যারিস প্রেশাস জোন্স এর গল্প। সে তার বাবার দ্বারা ধর্ষিত ও গর্ভবতী হয় এবং মায়ের চরম নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তীতে একজন শিক্ষিকার সহায়তায় সে লেখাপড়া শিখে নিজের জীবনকে নতুন রূপ দেয়।
এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করেই ২০০৯ সালে লি ড্যানিয়েলস পরিচালিত ‘প্রেশাস’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। এতে অভিনয় করেন গ্যাবোরে সিডিব ও মো’নিক। চলচ্চিত্রটি ছয়টি বিভাগে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রেশাসের মা মেরি লি জনস্টনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মো’নিক শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার এবং জিওফ্রে ফ্লেচার শ্রেষ্ঠ অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যের পুরস্কার জয় করেন।
উল্লেখ্য, ইউটাহর নতুন বিতর্কিত আইনের আওতায় উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে কার্যকর হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি রাজ্যের অন্তত তিনটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কোনো বইকে ‘যৌন উদ্দীপক বা আপত্তিকর বিষয়বস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেয়, তবে সেটি পুরো রাজ্যের সব পাবলিক স্কুলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
এর আগে গত মাসে স্টিফেন কিং এর নভেলার সংকলন ‘ডিফারেন্ট সিজনস’ ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সব স্কুলে নিষিদ্ধ করা হয়। রাজ্যটির সরকারি স্কুলগুলো থেকে যেসব বই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে টনি মরিসনের ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’, স্টিফেন চবোস্কির ‘দ্য পার্কস অব বিয়িং আ ওয়ালফ্লাওয়ার’ এবং জোডি পিকল্টের ‘নাইনটিন মিনিটস’।
এদিকে স্যাফায়ার তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘যখন আমরা পুশ এর মতো বই নিষিদ্ধ করি, তখন আমরা ঘৃণা, কুসংস্কার এবং অজ্ঞতার গহ্বরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকি।’ অপরদিকে বই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আমেরিকার লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ইতিমধ্যে ইউটাহ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।