Post

রংপুর ট্রাজেডি ও দুই ইয়াবাখোরের বয়ান!

August 24, 2026

155 views

মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ 
ইয়াবাখোর দুই মামাতো ভাই।

রংপুরের ফোর মার্ডারের হোতা। ছাদে বসে ইয়াবা খেতে বাধা দেয়ায় একটা পরিবারকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছে ওরা। পুলিশ তাদের পাকড়াও করেছে। পুলিশ বলছে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বাকিটা চূড়ান্ত রিপোর্টে জানা যাবে। এত দ্রুত কোনোকিছুই স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেয়ার দরকার নাই। ফরেনসিক রিপোর্ট আছে, অধিকতর পুলিশি তদন্ত হবে, কোর্টে আইনজীবীদের সওয়াল জবাব হবে -তারপর বলা যাবে আসল সত্য কী। আগে দেখা যেত প্রতিবেশি বা নিকট স্বজনরা বৈষয়িক রেষারেষি থেকে খু'নখারাবিতে জড়াত। এখন ওই জায়গাটি দখল করেছে 'ইয়াবা'!

আমার গ্রামের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি -সেখানে ভাইরাসের মতো ইয়াবা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রত্যেকটা গ্রামের অবস্থাও তাইই। একই পরিস্থিতি মফস্বল ও শহরগুলোতেও।

গ্রামের ছেলেদের কোনো খেলাধুলা, নাটক, থিয়েটার, সংস্কৃতি চর্চা ও ভালো কাজের নমুনা নাই। ইয়াবা খায়, বাজারে টিভি দেখে, মা বাপ পেটায় -কেউ কাউকে সমীহ করে না। গ্রামজুড়ে চুরিচামারি লেগেই আছে। কারো এসির তামার পাইপ থাকছে না, কারো গাছের পাকা কলাটাও রাখা যাচ্ছে না। একজন মানুষ যখন ইয়াবা খায় -মুরগির বিষ্ঠাও সে গোগ্রাসে গিলে নিতে পারে। দুই বছরের শিশুর ওপর লালসা নিয়ে চড়াও হতে পারে। যাকে তাকে তুচ্ছ কথায় দুনিয়াছাড়া করে দিতে পারে। কারণ তার মগজটা আর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ইয়াবায় থাকে মেথঅ্যাম্ফিটামিন (প্রায় ২০-৩০ মিগ্রা) ও ক্যাফেইন (প্রায় ৪৫-৬৫ মিগ্রা)। এই দুইটা উপাদানই মগজ গিলে খাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

দেশের এক নাম্বার সমস্যা এখন লাগামহীন জনসংখ্যা। 
এবং দুই নম্বর সমস্যাই হলো ইয়াবা। তিন নাম্বার একটা সমস্যা আছে সেটি নিয়ে কথা বলাটা লাইফের ওপর বড় রিস্ক। শুধু এটা বলি বাংলাদেশে গণহারে সরকারি নিবন্ধনবিহীন যত্রতত্র যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠছে সেখানে পড়াশোনা বলতে কিছুই হয় না। মনুষ্যত্বের শিক্ষা দেয়া হয় না। চারপাশে কেবলই প্রতিহিংসা, জিঘাংসা ও ঘৃণার চাষাবাদ। সর্বধর্মের মানুষের একটাই সঙ্গী -নেশা! ফলাফল আজকের রংপুরের ন্যাক্কারজনক ঘটনা। কাল আপনি আমি যে কেউ ওই ফেরে পড়তে পারি।

ইয়াবা কেন গ্রামে পৌঁছে গেল।
সেখানকার চেয়ারম্যান -মেম্বার ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা গ্রাম্য প্রধানরা এখন ইয়াবা ব্যবসার বড় ঠিকাদার। ফড়িয়াগিরিতেও হিউজ লাভ। এদের কাছে টাকাটাই বড়। হিউম্যানিটি এদের লাগেই না। জানা যাচ্ছে, চেয়ারম্যান সাহেব ও তার লাফাঙ্গা ছেলেরা একসাথে বসেই ইয়াবা খায়। ফুর্তি করে।

এই জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 
আমাদেরকে কেউ সভ্য মানুষ করে গড়ে তুলতে পারবে না আর। কেউই অতল নিমজ্জন থেকে ফেরাতে পারবে না। আগেও বলেছি। আবারও বললাম।

আমরা ডুবে যাচ্ছি। 
নষ্টদের অধিকারে সব দিয়ে দিচ্ছি।
আমরা ডুবতেই থাকব।

ফুটনোটস: 
ইয়াবা থাই শব্দ। এর অর্থ পাগল করার ওষুধ।
আমাদের দেশে যারা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত -যারা এর অর্থনৈতিক সুবিধাভোগী; টপ টু বটম তারা সবাই একযোগে পাগল। পাগলদের থেকে প্রতিকার বা সুবিচার আশা করা যায় না।

লেখক: সাংবাদিক 

২৩ আগস্ট ২০২৬

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login