Posts

চিন্তা

বেপরোয়া ওদের উল্লম্ফন থেকে আমাদের রেহাই দিন

August 24, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

25
View

কোনো Orthodox preacher 
আল্লাহ্'র কসম খেলে তাকে বেশি করে অবিশ্বাস করবেন। নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শিশুটির বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

নেত্রকোণার ওই black sheep মোল্লা ফেসবুক লাইভে এসে আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলেছিল তাকে ফাঁসানো হয়েছে। কন্যাতুল্য মেয়েটিকে সে অ্যাবিউজ করে নাই। এই মোল্লা ও তার শিষ্যদের যদি বিজ্ঞান সম্পর্কে ন্যুনতম ধ্যানধারণা থাকত -ও এইভাবে মিথ্যা বলত না আর ওর অন্ধ মুরিদেরাও ওর পক্ষ নিয়ে পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ত না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকই ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আশা করা হচ্ছে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি

ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

মানবাধিকার কর্মী কোহিনূর বেগম গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন অনুযোগ অভিযোগের পর আজকে যেহেতু ডিএনএ-তে প্রমাণিত হয়েছে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষকই ধর্ষণকারী। সেহেতু আমাদের দাবি দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। যাতে এই শাস্তির মাধ্যমে সমাজের সচেতনতার সৃষ্টি হয় এবং ধর্ষণের মতো ন্যাক্কার জন্য ঘটনা না ঘটে।

আমরা ১১ বছরের শিশুটির ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। নিজের জীবনের এমন সর্বনাশ নিয়ে শিশুটি মিথ্যা বলতে পারে -এমন ভাবনটাও ছিল আমাদের কাছে কল্পনার অতীত। শিশুটি তার প্রতি মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছে।

যারা এই মোল্লার পক্ষ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন -তারা একবার ভাবুন তো গেল ১০ মাস ধরে মেয়েটির ওপর কী ঝড় বয়ে গেছে। চিকিৎসকরা এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে কিছুতেই রেহাই দিতে পারছিলেন না। অবশেষে শিশুটি আরেক শিশুর মা হয়ে মানবসভ্যতার প্রতি কষে একটা লাথি মেরেছে। আর সেই লাথির ছাপ পড়েছে প্রতিটি বদমাশ মোল্লা ও তাদের ভাবশিষ্যদের গালে। নির্লজ্জ বেহায়া যারা কন্যাশিশু বিয়েকে আইনি বৈধতার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাইক গরম করে তাদের পশ্চাৎদেশ বরাবর।

আপনারা যারা শয়তানের জারজ সন্তান আমান উল্লাহ'র পক্ষ নিয়েছিলেন তাদের এখন লজ্জা করছে না? আর এই যে তৌহিদি জনতা আপনাদের বলি, নৌকাবাইচ ও কনসার্টের পেছনে না লেগে মাদ্রাসা-মসজিদ-উপাসনালয় থেকে ছেলে ও কন্যাশিশু ধর্ষকদের ফাইন্ড আউট করে শিক্ষায়তন ও সমাজকে কলুষমুক্ত করুন। ওটাই হবে আপনাদের আসল ডিউটি। দেশের সংস্কৃতির পেছনে লেগে খুব বেশি জনসমর্থন পাবেন না। যারা আপনাদেরকে চান্দা দিয়ে প্রমোট করে -তাদের মনও পাবেন না।

সারাদেশজুড়ে ২২ ফুট গলিতে এক ডজন মাদ্রাসা। কোনো নিবন্ধন নাই, সরকারি নজরদারিও নাই। কীসের পড়াশোনা ওখানে? কারা ওখানকার শিক্ষক? আমান উল্লাহদের মতো কু/লা/ঙ্গা/রদের দল ভারী করে এভাবে ছেলেমেয়েদের জীবন নষ্ট করে দিয়ে জাতিগতভাবে বিশেষ কী অর্জন করতে চাইছি আমরা? আমরা চারপাশে তাকালে তো আমান উল্লাহদের মতো অমানুষদেরই আস্ফালন বেশি দেখি এখন। বেপরোয়া ওদের উল্লম্ফন থেকে আমাদের রেহাই দিন প্লিজ।

ফুটনোটস:
যেই নারী ডক্টর এই ঘটনা প্রথম সামনে এনেছিলেন হুমকি দিতে দিতে তার জীবন জেরবার করে ফেলেছিল পোটেনশিয়াল ধর্ষকেরা। এইক্ষণে ওই নারী চিকিৎসকের প্রতি অতল শ্রদ্ধা জানাই।

লেখক: সাংবাদিক 
২৪ আগস্ট ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login