হে চাঁদ, তুমি রূপের অহংকার করিও না।
তোমাকে যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন,
আমাকে ও আমার এই ক্ষুদ্র জীবনকে,
তিনিই অতি পরম যত্নে সৃষ্টি করিয়াছেন।
অতএব,
তুমি আমার কাছে কোনো বড়াই করিও না।
তুমি আকাশে আলো ছড়াও,
আমি এই মাটিতে পথ চলি।
তুমি রাতের আঁধার দূর করো,
আমি হৃদয়ের আঁধার কাটাই।তুমি দূর থেকে রূপের মায়া ছড়াও,
আমি কাছে থেকে জীবনের গান গাই।
তুমি ভাবো তুমি অনেক উঁচুতে আছো,কিন্তু মনে রাখিও,
আমার ভাবনা তোমার চেয়েও উঁচুতে।
তুমি কেবল একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরো,
আর আমার মন সীমানাহীন মহাবিশ্বে ওড়ে।
তোমার আলো ধার করা, সূর্যের দয়ায় তুমি দীপ্ত,
আর আমার ভেতরের আলো আমার আত্মার দান।
তোমার বুকে আছে শুধুই মরা পাথর আর ধুলা,
আমার বুকে আছে ভালোবাসা, দয়া আর মায়া।
তুমি হাসো কিন্তু তোমার নিজের কোনো অনুভূতি নাই
,আমি কাঁদি, আমি হাসি, আমার জীবন্ত প্রাণ আছে।
তুমি হাজার বছর ধরে একই রূপ ধরে আছো,আমি প্রতিদিন নতুন অভিজ্ঞতায় বদলে যাই।
হে চাঁদ, তোমার ওই রূপের জ্যোতি ক্ষণস্থায়ী,অমাবস্যার রাতে তুমি নিজেই হারিয়ে যাও।
তুমি তখন এক ফোঁটা আলোও দিতে পারো না,কিন্তু আমার ভেতরের বিশ্বাস কখনো নিভে যায় না।
দুঃখের কালো মেঘ আমাকে ঢাকলেও,আমি নিজের ভেতরে আশার প্রদীপ জ্বেলে রাখি।
তুমি শুধুই রাতের আকাশের এক প্রহরী,দিনের আলো ফোটার আগেই তুমি বিদায় নাও।
তোমার অহংকার কেবল রাতের অন্ধকারের ওপর,কিন্তু মানুষের মন আলো আর অন্ধকার দুই রাজ্যেই জেতে।
তুমি যতই বড় হও, তুমি এক জগত জড় বস্তু,আর আমি সৃষ্টিকর্তার সেরা সৃষ্টি, এক অনন্য মানুষ।
আমরা দুজনেই এক মহাজাগতিক নিয়মে বাঁধা,একই মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা দুটি ছবি।
তুমি আকাশে থেকে তোমার কর্তব্য করো,আমি মাটিতে থেকে আমার জীবন যুদ্ধ লড়ি।
তাই রূপের গর্বে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবিও না
,স্রষ্টার দরবারে আমরা দুজনেই অতি সাধারণ।
কবিতাটি আপনার কেমন লাগলো কমেন্টসে জানাতে পারেন।