Article

৪০ এ প্রথম বই (George Eliot Biography) পর্ব_১ 

September 9, 2026

16
View

নিজেকে এখনো লেখক বলতে পারি না। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার প্রথম এবং একমাত্র বই প্রকাশিত হয় আমার ৪০ বছর বয়সে। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করছিল যে ৪০ বছর বয়সে থ্রিলার লেখকরা কেমন ছিলেন। পড়েছি, জেনেছি এবং জানাতে চাচ্ছি। ১০ জন লেখক এলোমেলো ভাবে বাছাই করেছি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী চেষ্টা করবো তুলে ধরতে। 

সিরিজের নাম দিলাম “৪০ এ প্রথম বই”…

পর্ব_১ 

******

জর্জ এলিয়ট: এক জীবনের ভিতর দিয়ে এক সাহিত্যিকের জন্ম

Mary Ann Evans (1819–1880)

উনিশ শতকের ইংরেজি সাহিত্যে জর্জ এলিয়ট এমন এক নাম, যার সঙ্গে শুধু উপন্যাসের ইতিহাস নয়, একজন নারীর নিজের পরিচয় নির্মাণের সাহসও জড়িয়ে আছে। তাঁর আসল নাম ছিল মেরি অ্যান ইভান্স, পরে মেরিয়ান ইভান্স নামে পরিচিত হন। ১৮১৯ সালের ২২ নভেম্বর ইংল্যান্ডের ওয়ারউইকশায়ারের নানীটন-সংলগ্ন চিলভার্স কোটনে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা রবার্ট ইভান্স ছিলেন একজন দক্ষ এস্টেট ম্যানেজার বা ভূমি-সম্পত্তির ব্যবস্থাপক। মা ক্রিস্টিয়ানা ইভান্স ছিলেন সংসারকেন্দ্রিক, ধর্মবিশ্বাসী নারী। বড় ভাই আইজ্যাক এবং বড় বোন ক্রিস্টিয়ানা ছিলেন তাঁর শৈশবের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রাম, গির্জা, কৃষিজীবন, ছোট শহরের মানুষ এবং পারিবারিক সম্পর্কের যে জগৎ তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই জগৎই তাঁর সাহিত্যের সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হয়ে ওঠে।

জর্জ এলিয়টের শৈশব ছিল মেধা ও আত্মশিক্ষার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তিনি দীর্ঘদিন প্রচলিত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা পাননি, কিন্তু বই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়। ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, ইতিহাস, ভাষা এবং ইউরোপীয় সাহিত্য তিনি গভীর আগ্রহে পড়তেন। তাঁর চিন্তার জগৎ ধীরে ধীরে এতটাই বিস্তৃত হয় যে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে তিনি নিজেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন। কৈশোর ও তরুণ বয়সেই তিনি বুঝতে পারেন, একজন নারীর জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ নয়। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতাই তাঁকে থামিয়ে দেয়নি; বরং পড়াশোনা, অনুবাদ, সমালোচনা এবং সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জন্য একটি সাহিত্যিক পরিচয়ের ভিত তৈরি করতে থাকেন।

১৮৪৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি কিছু সময় ইউরোপ ভ্রমণ করেন এবং পরে লন্ডনের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে প্রবেশ করেন। ১৮৫১ থেকে ১৮৫৪ সালের মধ্যে তিনি Westminster Review-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং একজন লেখক, সম্পাদক ও অনুবাদক হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রতিষ্ঠা করেন। লুডভিগ ফয়েরবাখের The Essence of Christianity-এর অনুবাদ তাঁকে বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি দেয়। তিনি শুধু গল্প লেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন না, তিনি মানুষ, সমাজ, ধর্ম, নৈতিকতা ও ক্ষমতার সম্পর্ককে গভীরভাবে বোঝার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন।

এই সময়েই তাঁর জীবনে আসেন জর্জ হেনরি লিউইস, একজন লেখক, সমালোচক ও দার্শনিক মননের মানুষ। ১৮৫৪ সালে তাঁরা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং নিজেদের সম্পর্ককে বৈবাহিক বন্ধনের মতোই গভীর ও পবিত্র বলে মনে করতেন, যদিও আইনগতভাবে তাঁদের বিয়ে সম্ভব ছিল না। ভিক্টোরীয় ইংল্যান্ডে এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সাহসী এবং একই সঙ্গে সামাজিকভাবে বিপজ্জনক। পরিবার ও সমাজের বিরূপতা তাঁদের সহ্য করতে হয়েছিল। তবু লিউইস তাঁর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক সহযাত্রী হয়ে ওঠেন। তাঁর উৎসাহেই মেরি অ্যান ইভান্স কথাসাহিত্যে প্রবেশের সাহস পান। তাঁদের সম্পর্ক প্রায় পঁচিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

এখানেই আসে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ১৮৫৬ সালে তিনি কল্পকাহিনি লেখা শুরু করেন এবং ১৮৫৭ সালে Blackwood’s Magazine-এ প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্প, The Sad Fortunes of the Reverend Amos Barton। গল্পটি প্রথমে বেনামে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে আরও দুটি গল্পের সঙ্গে মিলে ১৮৫৮ সালে Scenes of Clerical Life নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স প্রায় উনচল্লিশ। অর্থাৎ কথাসাহিত্যের বই প্রকাশের সময় তিনি আর তরুণী নন। তবে ‘৪০ বছর বয়সে প্রথম বই’ কথাটি জনপ্রিয়ভাবে বলা হলেও পুরোপুরি নির্ভুল নয়; তাঁর প্রথম কল্পকাহিনির বই প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে, যখন তাঁর বয়স ৩৮। তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস Adam Bede প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে, বয়স তখন ৩৯।

‘জর্জ এলিয়ট’ নামটিও ছিল একটি সচেতন সাহিত্যিক সিদ্ধান্ত। নারী লেখকদের নিয়ে তৎকালীন সমাজে অনেক ধরনের পূর্বধারণা ছিল। তিনি নিজেও সমকালীন ‘লেডি নভেলিস্ট’-দের দুর্বল ও কৃত্রিম লেখার সমালোচনা করেছিলেন। তাই নিজের নারী পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সামাজিক প্রত্যাশা থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে তিনি পুরুষ-নামসদৃশ একটি ছদ্মনাম বেছে নেন। ‘George’ নামটি লিউইসের নাম থেকে নেওয়া এবং ‘Eliot’ নামটি তাঁর পছন্দের একটি সহজ, উচ্চারণযোগ্য পদবি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ছদ্মনামের আড়ালে তিনি কেবল পরিচয় লুকাননি; তিনি নিজের লেখাকে পাঠকের পূর্বধারণা থেকে স্বাধীন করার একটি সুযোগও তৈরি করেছিলেন।

তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে সংগ্রাম ছিল বহুস্তরীয়। তাঁকে একই সঙ্গে নারী হিসেবে সমাজের বিচার, ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক এবং একজন নতুন কথাসাহিত্যিক হিসেবে পাঠকের সংশয় মোকাবিলা করতে হয়েছে। Scenes of Clerical Life-এর লেখক কে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরে Adam Bede প্রকাশের পর বইটি বিপুল জনপ্রিয় হয় এবং তাঁর পরিচয় নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে। এমনকি Joseph Liggins নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘George Eliot’ বলে দাবি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হয়। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্ময় ও সমালোচনা থাকলেও তাঁর সাহিত্যিক সাফল্য থেমে যায়নি।

Adam Bede-এর সাফল্যের পর যেন তাঁর সামনে একের পর এক দরজা খুলে গেল। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয় The Mill on the Floss, ১৮৬১ সালে Silas Marner, ১৮৬৩ সালে Romola এবং ১৮৬৬ সালে Felix Holt: The Radical। তাঁর ছোট উপন্যাস Silas Marner বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়। একাকী, অবিচারের শিকার তাঁতি Silas Marner এবং অনাথ শিশু Eppie-এর সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ভালোবাসা একজন মানুষের ভেঙে যাওয়া জীবনকে আবার অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাঁর চরিত্ররা নিখুঁত মানুষ নয়; তারা ভুল করে, দ্বিধায় পড়ে, ভালোবাসে, বিশ্বাসঘাতকতা করে, অনুতপ্ত হয় এবং কখনও কখনও নিজেদের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই মানবিক জটিলতাই তাঁর চরিত্রগুলোকে আজও জীবন্ত করে রেখেছে।

তাঁর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক কীর্তি সম্ভবত Middlemarch। ১৮৭১ থেকে ১৮৭২ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এই উপন্যাসকে ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Dorothea Brooke, Tertius Lydgate, Rosamond Vincy, Fred Vincy, Mary Garth এবং অন্যান্য চরিত্রের জীবন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে একটি ছোট শহরের সমাজজীবনের বিশাল ছবি তৈরি করে। এখানে প্রেম আছে, বিবাহ আছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, ব্যর্থতা আছে, অর্থ ও সামাজিক মর্যাদার টানাপোড়েন আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, আছে মানুষের অন্তর্জগতের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ। Dorothea-র আদর্শবাদ আর Lydgate-এর বৈজ্ঞানিক স্বপ্নের মতো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলো কীভাবে সমাজ, অর্থনীতি ও সম্পর্কের বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষে যায়, Eliot তা অসাধারণ গভীরতায় দেখিয়েছেন।

Daniel Deronda, ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত, ছিল তাঁর শেষ বড় উপন্যাস। এখানে Gwendolen Harleth এবং Daniel Deronda-র জীবন ও মানসিক দ্বন্দ্বের মাধ্যমে তিনি পরিচয়, নৈতিকতা, প্রেম, আত্মঅন্বেষণ এবং সমাজের সীমাবদ্ধতার মতো বিষয় অনুসন্ধান করেছেন। তাঁর লেখার শক্তি ছিল এই জায়গাতেই: তিনি কেবল ঘটনা লিখতেন না, ঘটনার পেছনে থাকা মানুষের মনটিকেও লিখতেন। একজন মানুষ কেন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, কেন ভালোবাসে এমন কাউকে যাকে ভালোবাসা উচিত নয়, কেন সমাজের চাপের কাছে নিজের স্বপ্ন হারিয়ে ফেলে, অথবা কীভাবে একটি ছোট সহানুভূতি একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, এসব প্রশ্ন তাঁর উপন্যাসের ভেতরে বারবার ফিরে আসে।

থ্রিলার বা রহস্যকাহিনি সম্পর্কে জর্জ এলিয়টের সরাসরি কোনো সুসংবদ্ধ ‘থ্রিলার তত্ত্ব’ পাওয়া যায় না। তাই তাঁকে আধুনিক অর্থে থ্রিলার লেখক বলা ঠিক হবে না। তবে তাঁর লেখায় suspense, secrecy, guilt, moral uncertainty, betrayal, hidden motives এবং psychological tension-এর শক্তিশালী ব্যবহার আছে। বিশেষ করে The Lifted Veil নামের ১৮৫৯ সালের নভেলাটিতে অতিপ্রাকৃত ও মনস্তাত্ত্বিক রহস্যের আবহ পাওয়া যায়। সেখানে একজন মানুষের অস্বাভাবিক মানসিক ক্ষমতা, অন্যের মনের গোপন কথা জানার ভয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক গল্পকে এক অস্বস্তিকর উত্তেজনার দিকে নিয়ে যায়। Eliot-এর কাছে উত্তেজনা শুধু ‘এরপর কী ঘটবে’ প্রশ্নে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ‘মানুষ কেন এমন করল’ এবং ‘এর নৈতিক পরিণতি কী’ এই প্রশ্নও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থে তাঁর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা পরবর্তী psychological fiction ও literary suspense-এর সঙ্গে একটি আকর্ষণীয় সেতু তৈরি করে।

জর্জ এলিয়টের ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল গভীর বেদনা ও সাহস। জর্জ হেনরি লিউইসের সঙ্গে তাঁর কোনো সন্তান হয়নি, তবে লিউইসের আগের পরিবারের তিন ছেলের সঙ্গে Eliot-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তাঁদের সৎমায়ের মতো ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৮৭৮ সালে লিউইস মারা গেলে Eliot গভীরভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি তখন শেষ হয়ে যায়। এরপর ১৮৮০ সালের মে মাসে তিনি পুরোনো বন্ধু জন ওয়াল্টার ক্রসকে বিয়ে করেন। এই বিয়েটিও সামাজিকভাবে আলোচিত হয়। তাঁদের ভেনিসের মধুচন্দ্রিমার সময় Cross হোটেলের বারান্দা থেকে খালে ঝাঁপ দিয়েছিলেন; তিনি বেঁচে যান। ঘটনাটি Eliot-এর জীবনের শেষ অধ্যায়ের এক অদ্ভুত ও বিষণ্ন স্মৃতি হয়ে আছে।

বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই Eliot-এর শরীর ভেঙে পড়তে থাকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শেষ দিকে গলার সংক্রমণও দেখা দেয়। ১৮৮০ সালের ২২ ডিসেম্বর লন্ডনে, মাত্র ৬১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে Highgate Cemetery-তে সমাহিত করা হয়, জর্জ এলিয়ট ও Mary Ann Cross দুই নামের স্মৃতিই সেখানে যুক্ত হয়ে থাকে। তাঁর Westminster Abbey-র Poet’s Corner-এ সমাধিস্থ হওয়ার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ধর্মীয় অবস্থান এবং প্রচলিত বিবাহপ্রথার বাইরে লিউইসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে সে সময় তাঁকে সেখানে জায়গা দেওয়া হয়নি।

জর্জ এলিয়টের জীবন তাই শুধু একজন সফল ঔপন্যাসিকের জীবন নয়। এটি এমন একজন নারীর গল্প, যিনি প্রচলিত পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে নিজের জন্য একটি বৌদ্ধিক ও সাহিত্যিক পৃথিবী তৈরি করেছিলেন। তিনি খুব অল্প বয়সে খ্যাতি পাননি; বরং জীবনের অনেকটা পথ প্রস্তুতি, অনুবাদ, সাংবাদিকতা, চিন্তা এবং আত্মসংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছেন। প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি বয়সে কথাসাহিত্যে প্রবেশ করে তিনি এমন সব চরিত্র সৃষ্টি করেছেন, যারা একশ বছরেরও বেশি সময় পরেও পাঠকের কাছে বাস্তব মানুষের মতো মনে হয়। তাঁর সাহিত্য আমাদের শেখায়, মানুষের জীবনকে বোঝার জন্য শুধু ভালো-মন্দের সহজ হিসাব যথেষ্ট নয়; মানুষের ভুল, দুর্বলতা, আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক অবস্থান এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিও বুঝতে হয়। এই মানবিক দৃষ্টিই George Eliot-কে শুধু Victorian যুগের একজন লেখক নয়, বিশ্বসাহিত্যের এক স্থায়ী সাহিত্যিক করে তুলেছে।

সম্পাদনা-নোট‘৪০ বছর বয়সে প্রথম বই’ কথাটি প্রচলিত হলেও তারিখ অনুযায়ী প্রথম কল্পকাহিনির বই Scenes of Clerical Life প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে, যখন Eliot-এর বয়স ৩৮। Adam Bede, তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে, বয়স ৩৯।

একটা বিষয় উল্লেখ করা ভালো: সাহিত্য ইতিহাসে ঠিক ৪০ বছর বয়সে প্রথম বই প্রকাশ হওয়া লেখক খুব বেশি নেই। অনেকেই ৪০–৫০ এর মধ্যে শুরু করেছেন এবং তারপরেই বিশ্বখ্যাত হয়েছেন।

Note: Info collected from www-georgeeliot-org, Wiki, plato-stanford-edu. Pic collected from Wiki.

Comments

    Please login to post comment. Login