Biography
নিজেকে এখনো লেখক বলতে পারি না। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার প্রথম এবং একমাত্র বই প্রকাশিত হয় আমার ৪০ বছর বয়সে। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করছিল যে ৪০ বছর বয়সে থ্রিলার লেখকরা কেমন ছিলেন। পড়েছি, জেনেছি এবং জানাতে চাচ্ছি। ১০ জন লেখক এলোমেলো ভাবে বাছাই করেছি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী চেষ্টা করবো তুলে ধরতে।
সিরিজের নাম দিলাম “৪০ এ প্রথম বই”…
পর্ব_২
******
টনি মরিসন: স্মৃতি, অন্ধকার ও মানুষের আত্মার এক অসাধারণ কথাশিল্পী
Toni Morrison (1931–2019)
কিছু লেখক গল্প লেখেন, আর কিছু লেখক মানুষের স্মৃতির গভীরে নেমে গিয়ে এমন কিছু দরজা খুলে দেন, যেগুলো পাঠক নিজের অজান্তেই বহুদিন বন্ধ করে রেখেছিল। টনি মরিসন ছিলেন সেই দ্বিতীয় ধরনের লেখক। তাঁর সাহিত্য শুধু আফ্রিকান-আমেরিকান মানুষের ইতিহাস, বেদনা ও সংগ্রামের কথা বলে না; তা মানুষের পরিচয়, ভালোবাসা, অপমান, স্মৃতি, অপরাধবোধ এবং বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষার কথাও বলে। তাঁর ভাষা কখনও কবিতার মতো কোমল, কখনও অন্ধকারের মতো ভারী, আবার কখনও এমন ধারালো যে একটি বাক্যও দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়। ১৯৯৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ছিলেন সাহিত্যে নোবেল পাওয়া প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী।
টনি মরিসনের জন্ম ১৯৩১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লোরেইন শহরে। জন্মের পড়ে তাঁর নাম ছিল Chloe Ardelia Wofford। তিনি ছিলেন জর্জ ওফোর্ড ও রামাহ উইলিস ওফোর্ডের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। পরিবারটি ছিল শ্রমজীবী কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার, যেখানে অর্থের প্রাচুর্য ছিল না, কিন্তু গল্প, গান, পারিবারিক স্মৃতি এবং আত্মমর্যাদার অভাব ছিল না। তাঁর বাবা জর্জ নানা ধরনের কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই টনি বই পড়তে ভালোবাসতেন। তাঁর বাবা আফ্রিকান-আমেরিকান লোককথা ও জীবনের নানা গল্প বলতেন, আর সেই মৌখিক গল্প বলার ঐতিহ্য পরবর্তী সময়ে মরিসনের নিজের লেখার একটি গভীর ভিত্তি হয়ে ওঠে।
লোরেইনের জীবন ও আমেরিকার বর্ণবৈষম্য তাঁকে খুব অল্প বয়সেই বুঝতে শেখায়, সমাজ কীভাবে মানুষের গায়ের রং, পরিচয় ও সৌন্দর্যকে মূল্যায়ন করে। পরবর্তীতে The Bluest Eye-এর Pecola Breedlove চরিত্রের ভেতর দিয়ে তিনি এই প্রশ্নটিকেই ভয়াবহ ও মর্মস্পর্শীভাবে সামনে আনবেন: একটি শিশু কখন নিজের চেহারাকে ঘৃণা করতে শেখে? আর কে তাকে শেখায় যে সুন্দর হতে হলে তাকে অন্য কারও মতো দেখতে হবে?
১৯৪৯ সালে তিনি Howard University-তে ভর্তি হন এবং ১৯৫৩ সালে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর Cornell University থেকে ১৯৫৫ সালে আমেরিকান সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল William Faulkner ও Virginia Woolf-এর লেখায় আত্মহত্যার ধারণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা তাঁর সাহিত্যবোধকে গভীর করে এবং মানুষের অন্তর্গত অন্ধকারকে সাহিত্যিক ভাষায় দেখার ক্ষমতা তৈরি করে।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি Texas Southern University-তে শিক্ষকতা করেন এবং ১৯৫৭ সালে Howard University-তে ফিরে আসেন। সেখানেই তাঁর জীবনে আসেন জ্যামাইকান স্থপতি Harold Morrison। ১৯৫৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর Chloe Wofford পরিচিত হন Toni Morrison নামে। তাঁদের দুই ছেলে হয়, Harold Ford এবং Slade Kevin। কিন্তু বিবাহিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৬৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মূলত একক মা হিসেবে দুই সন্তানকে মানুষ করতে করতে তিনি নিজের সাহিত্যিক জীবন গড়ে তোলেন।
Howard University-তে থাকার সময় তিনি একটি লেখালেখির দলে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি ছোট গল্পের খসড়া লিখতে শুরু করেন, যার কেন্দ্র ছিল এমন এক কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে, যে নীল চোখ পাওয়ার জন্য মরিয়া। সেই গল্পই বহু বছর পরে তাঁর প্রথম উপন্যাস The Bluest Eye-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে। দিনের জীবনে ছিল চাকরি, সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব; অন্যদিকে ছিল লেখা। প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে প্রথম উপন্যাস প্রকাশ করার আগে তাঁকে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
১৯৬৫ সালে তিনি প্রকাশনা জগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে Syracuse-এর L. W. Singer Publishing Company-তে কাজ করেন, পরে নিউইয়র্কে Random House-এর সম্পাদক হন। সেখানে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের লেখা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সম্পাদিত ও উৎসাহিত কাজের মধ্যে Toni Cade Bambara, Gayl Jones, Angela Davis এবং Muhammad Ali-র মতো গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠের বই ছিল। তিনি বুঝেছিলেন, কে প্রকাশিত হবে এবং কার গল্প ইতিহাসে জায়গা পাবে, সেটিও ক্ষমতার প্রশ্ন।
১৯৭০ সালে, ৩৯ বছর বয়সে, প্রকাশিত হলো তাঁর প্রথম উপন্যাস The Bluest Eye। বইটি প্রথমদিকে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসে পরিণত হয়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Pecola Breedlove, একটি কৃষ্ণাঙ্গ শিশু, যে বিশ্বাস করে তার জীবন সুন্দর হবে যদি তার চোখ নীল হয়। নীল চোখ এখানে শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এটি এমন এক সমাজের প্রতীক, যেখানে শ্বেতাঙ্গ সৌন্দর্যের মানদণ্ডকে এতটাই স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে যে একটি শিশু নিজের পরিচয়কে ঘৃণা করতে শেখে।
১৯৭৩ সালে আসে Sula। এখানে দুই কৃষ্ণাঙ্গ নারীর বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা, সমাজের বিচার এবং নিজের জীবন বেছে নেওয়ার অধিকারকে কেন্দ্র করে মরিসন নতুন সাহিত্যিক জগৎ তৈরি করেন। Sula Peace এবং Nel Wright একই জীবনের দুই বিপরীত সম্ভাবনার মতো। একজন সামাজিক নিয়মকে অস্বীকার করে, অন্যজন পরিবার ও সমাজকে আঁকড়ে থাকে। কিন্তু মরিসন কাউকেই সম্পূর্ণ ভালো বা খারাপ করে দেখাননি। তাঁর চরিত্রদের নৈতিকতা জটিল, ঠিক বাস্তব মানুষের মতো।
১৯৭৭ সালে প্রকাশিত Song of Solomon তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে বড় সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Macon ‘Milkman’ Dead নিজের পরিচয় ও পারিবারিক ইতিহাসের অনুসন্ধানে ধীরে ধীরে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও আফ্রিকান-আমেরিকান ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়। Milkman-এর যাত্রা শুধু পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার নয়; নিজের শিকড়কে ফিরে পাওয়ার যাত্রা। উপন্যাসটি National Book Critics Circle Award লাভ করে।
তারপর এল Beloved। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস টনি মরিসনের সাহিত্যিক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বেদনাময় অধ্যায়। এর কেন্দ্রে Sethe, একজন সাবেক দাস নারী, যার অতীত তাকে কখনও ছেড়ে যায় না। এখানে ভূত শুধু অতিপ্রাকৃত কোনো উপস্থিতি নয়; ভূত হয়ে ওঠে ইতিহাসের স্মৃতি। যে অতীতকে মানুষ ভুলে যেতে চায়, সেই অতীতই ফিরে আসে। ১৯৮৮ সালে Beloved Pulitzer Prize for Fiction লাভ করে এবং পরে আধুনিক আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
Beloved-এর অসাধারণ শক্তি হলো স্মৃতিকে মরিসন কেবল অতীত হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে স্মৃতি জীবন্ত, কখনও শরীরের মতো, কখনও ভূতের মতো। দাসত্ব শেষ হয়ে গেলেও তার মানসিক ক্ষত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে যেতে পারে। Sethe-র জীবন সেই ক্ষতের প্রতীক। ইতিহাসের ভয়াবহতা শুধু বইয়ের পাতায় থাকে না; তা মানুষের শরীর, পরিবার, ভাষা, ভালোবাসা এবং নীরবতার মধ্যেও বেঁচে থাকে।
১৯৯৩ সালে টনি মরিসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী যিনি এই সম্মান পান। তাঁর আগে কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের সাহিত্যকে আমেরিকান সাহিত্যের মূলধারার বাইরে রাখার প্রবণতা ছিল প্রবল। মরিসন সেই দেয়াল ভেঙে দেন। তিনি শুধু কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের জন্য লেখেননি; তিনি লিখেছেন মানুষের জন্য। তবে তাঁর সাহিত্যিক অবস্থান ছিল স্পষ্ট: ইতিহাসে যাদের কণ্ঠ চাপা পড়ে গেছে, তাদের কণ্ঠকে সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে আসা দরকার।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে Tar Baby, Jazz, Paradise, Love, A Mercy এবং Home। প্রতিটি বইয়ে তিনি নতুন আঙ্গিক ও নতুন সময়ের দিকে তাকিয়েছেন। Jazz-এ প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও নগরজীবনের অস্থিরতা; Paradise-এ একটি কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ক্ষমতা, ধর্ম ও সহিংসতা; A Mercy-তে আমেরিকার দাসপ্রথার আগের সময়ের জটিল ইতিহাস; আর Home-এ যুদ্ধ-পরবর্তী আমেরিকায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের নিজের ঘরে ফিরে আসার গল্প উঠে আসে। তাঁর লেখায় ইতিহাস কখনও পেছনের দৃশ্য নয়; ইতিহাস সবসময় বর্তমানের ভেতর হাঁটে।
টনি মরিসনের জীবনের একটি অত্যন্ত বেদনাময় ঘটনা ছিল তাঁর ছোট ছেলে Slade-এর মৃত্যু। Slade ছিলেন একজন শিল্পী এবং মায়ের সঙ্গে শিশুদের জন্য বইও লিখেছিলেন। ২০১০ সালে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় মরিসন Home উপন্যাসের কাজ করছিলেন। ছেলের মৃত্যু তাঁকে এতটাই ভেঙে দেয় যে তিনি কিছু সময়ের জন্য লেখাটি থামিয়ে দেন। পরে আবার লেখায় ফিরে এসে বইটি সম্পূর্ণ করেন এবং ২০১২ সালে Home প্রকাশিত হয়।
থ্রিলার বা রহস্যের বিষয়ে মরিসনের সাহিত্যিক পদ্ধতি ছিল গভীর মনস্তাত্ত্বিক। তিনি প্রচলিত অর্থে থ্রিলার লেখক ছিলেন না, কিন্তু তাঁর গল্পে suspense, গোপন অতীত, অপরাধবোধ, সহিংসতা, রহস্য এবং মানসিক আতঙ্কের প্রবল উপস্থিতি আছে। Beloved-এর ভূত, The Bluest Eye-এর ধীরে ধীরে ট্র্যাজেডির দিকে এগিয়ে যাওয়া, Jazz-এর সম্পর্কের গোপন উত্তেজনা কিংবা Paradise-এর সহিংসতার রহস্য পাঠককে ‘এরপর কী হবে’ প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কেন এমন হলো’ প্রশ্নটিও করতে বাধ্য করে। তাঁর কাছে ভয় শুধু বাইরের কোনো বিপদ নয়; ভয় মানুষের স্মৃতি, পরিবার, শরীর এবং পরিচয়ের ভেতরেও বাস করতে পারে।
লেখা নিয়ে তাঁর সংগ্রাম ছিল নিজের কণ্ঠকে খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম। তিনি এমন সময়ে লিখতে শুরু করেছিলেন, যখন আমেরিকান প্রকাশনা জগতে কৃষ্ণাঙ্গ নারীর অভিজ্ঞতা মূলধারার সাহিত্যে যথেষ্ট জায়গা পেত না। তাঁর সন্তান ছিল, চাকরি ছিল, সংসারের দায়িত্ব ছিল। তবু তিনি লিখেছেন। প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে প্রথম উপন্যাস প্রকাশ করে তিনি দেখিয়েছিলেন যে সাহিত্যিক হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। কখনও কখনও একজন লেখককে নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেতে জীবনের বহু বছর অপেক্ষা করতে হয়।
তাঁর ভাষা ছিল একই সঙ্গে কবিতাময় এবং নির্মম। আফ্রিকান-আমেরিকান মৌখিক গল্প বলার ঐতিহ্য, লোককথা, গান, ধর্মীয় প্রতীক, স্মৃতি এবং আধুনিক সাহিত্যিক কৌশল তাঁর ভাষায় একসঙ্গে মিশেছে। তাঁর চরিত্ররা শুধু কথা বলে না; তারা তাদের সঙ্গে নিয়ে আসে বহু প্রজন্মের ইতিহাস। এই কারণেই তাঁর বই পড়া শুধু একটি গল্প পড়া নয়; যেন একটি মানুষের ভেতর দিয়ে একটি সম্পূর্ণ জাতির স্মৃতি অতিক্রম করা।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট, ৮৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কের The Bronx-এ টনি মরিসনের মৃত্যু হয়। নিউমোনিয়ার জটিলতায় তাঁর জীবন শেষ হয়। কিন্তু একজন লেখকের মৃত্যু তাঁর বইয়ের মৃত্যু নয়। মরিসনের ক্ষেত্রে যেন উল্টোটা সত্য। সময় যত এগিয়েছে, তাঁর বইয়ের প্রয়োজনীয়তা তত বেড়েছে। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাস ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়ে, কীভাবে সমাজ একজন মানুষকে নিজের চোখে দেখতে শেখায় এবং কীভাবে ভালোবাসা কখনও কখনও সেই ক্ষত সারানোর একমাত্র পথ হয়ে ওঠে।
টনি মরিসনের সাহিত্য তাই শেষ পর্যন্ত অন্ধকারের গল্প হয়েও শুধু অন্ধকারের সাহিত্য নয়। তাঁর বইয়ে ভয় আছে, সহিংসতা আছে, বর্ণবাদ আছে, শোষণ আছে, বিশ্বাসঘাতকতা আছে; কিন্তু তার পাশাপাশি আছে স্মৃতি, বন্ধুত্ব, মাতৃত্ব, ভালোবাসা, আত্মপরিচয় এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, ইতিহাসকে ভুলে গেলে ইতিহাস মুছে যায় না; বরং তা অন্য কোনো রূপে ফিরে আসে। একজন সত্যিকারের সাহিত্যিকের কাজ হয়তো সেই ফিরে আসা ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে বলা, ‘দেখো, এখানে একজন মানুষ ছিল।’ টনি মরিসন সেই কাজটিই করেছেন অসাধারণ শক্তি, সৌন্দর্য এবং সাহসের সঙ্গে।
সম্পাদনা-নোট: The Bluest Eye প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে, যখন Morrison-এর বয়স ৩৯। জন্মনাম ছিল Chloe Ardelia Wofford। ১৯৯৩ সালে তিনি সাহিত্যে Nobel Prize লাভ করেন এবং ১৯৮৮ সালে Beloved-এর জন্য Pulitzer Prize for Fiction পান।
একটা বিষয় উল্লেখ করা ভালো: সাহিত্য ইতিহাসে ঠিক ৪০ বছর বয়সে প্রথম বই প্রকাশ হওয়া লেখক খুব বেশি নেই। অনেকেই ৪০–৫০ এর মধ্যে শুরু করেছেন এবং তারপরেই বিশ্বখ্যাত হয়েছেন।
Note: Info collected from www-loc-gov. Pic collected from Columbia Magazine.