মা যেদিন আমার আর মুহিনের সম্পর্কটা টের পেলো সেদিন ছিলো ভরা জোছনার রাত।
মুহিন সন্ধ্যার পর পর ছোট্ট একটা মেসেজ পাঠিয়েছিল ,'ঋধি আমি আসবো ঠিক আট টায়, তোমার জন্য গিপ্ট আছে, আর আমার জন্য আচার আনতে ভুলো না যেন।' আমি কম্পিত হাতে মেসেজটি পড়ি। ঝটপট তিনবার পড়ে নিয়ে ডিলিট করে দিই।
মা তখন ঠাকুর ঘরে সন্ধ্যাপ্রদীপ দিচ্ছিল। আমি পড়ার টেবিলে বসে পড়ার চেষ্টা করি। এই খাতা,সে-ই খাতা,বই নাড়াচাড়া করতে থাকি। মূলত আমার মন এই টেবিলের কোথাও নেই। এই ঘরেও নেই।
মন টা তখন সময় আর মুহিনের অপেক্ষায়। গলা শুকিয়ে কাঠ, পেটের একপাশ মুচড়ে উঠছে উপরের দিকে। অস্থির আমি চটপট করতে থাকি যতটা, ঘড়ির কাঁটা যেন ততটাই পিছিয়ে পড়ে।
প্রতিবার মুহিনের সাথে দেখা হওয়ার আগে, কথা বলার আগে আমি এমন অস্থির হয়ে উঠি। এ-ই অস্তিরতার বড় কারণ ভয়। শুধু যে প্রেমের ভয় তা নয়। জাত-কুলের ভয়। ধর্মের ভয়। আমরা দুজন আলাদা আলাদা ধর্মের। মুহিন মুসলিম আর আমি হিন্দু। যেন তেন না, ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে। আচার্য পাড়ার আচার্য চ্যাটার্জীর বংশধর। যাকে ছোট বেলা থেকে শেখানো হয়েছে ধর্মজ্ঞান। যে গীতা পাঠ শেখায় পাড়ার ছোট ছেলে-মেয়েদের। মন্দিরের সাপ্তাহিক আয়োজনে যে আমি নিয়মিত গীতা পাঠ করি। যার পরিবার ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষায় নিয়োজিত বছরের পর বছর।
কিন্তু ভালোবাসা বড় অদ্ভুত জিনিস। পরিকল্পনা করে, নিয়ম মেনে অগ্রসর হওয়ার উপায় এই ভালোবাসা জিনিস টা দেয় না। মুহিন আমার দুই বছরের সিনিয়র। একই স্কুলে যেহেতু ছিলাম চেনাজানা আগে থেকেই ছিলো। দেখা হলে মুহিন ভাই যেমন ভালো-মন্দ খোঁজ খবর নিতো, আমিও জুনিয়র বোনের দায়িত্ব পালন করতাম ঠিকঠাক। আমাদের সম্পর্ক টা শুরু হয় আরো পরে। তখন মুহিন ভাই কলেজে পড়ে,আমি এসএসসি পরীক্ষার্থী।
আমার জীবনের দুর্ভিক্ষ বলি বা বসন্তকাল শুরুটা হয়েছে তখন।
২০১২ সাল। এক পৌষের সকাল। টেস্ট পরীক্ষা চলছে। সকালের প্রার্থনা শেষ করে পড়তে বসেছি। মা তখন রান্নাঘরে ব্যস্ত। সকালে বাবার কাজ অফিস ঘরে বসা। অফিস বলতে মন্দিরের সাথে লাগোয়া ছোট্ট একটা ঘর। একটা টেবিল, কয়েকটা চেয়ার আর দেয়াল জুড়ে ছবি। দেব-দেবী আর গত হওয়া শ্রদ্ধেয় গুরুজনদের ছবি। বাবা নিজ হাতে এই ছবিগুলোর বিশেষ খাতির-যত্ন করেন।
বাবা আমাদের আচার্য পাড়ার সর্দার। পাড়া প্রধান হিসেবে সবার শ্রদ্ধার পাত্র। পূজার কাজ থেকে শুরু করে আচার্য পাড়া কমিটির সবার ভালো-মন্দ দেখাশোনার দায়িত্ব বাবার। কমিটি প্রধান হিসেবে এ-ই দায়িত্ব আমার ঠাকুরদা পালন করেছেন বহুবছর। তিনি গত হওয়ার পর সেই দায়িত্বে বাবা।
সেদিন সকাল থেকেই বাবা খুব ব্যস্ত ছিলেন। রাজীব শর্মা, মানে আমাদের এক কাকার মেয়ের বিয়ে। বিয়ে নিয়ে পুরো পাড়া ব্যস্ত, হৈ হুল্লোড়ে মেতে আছে। আমি বাধ্য হয়ে পড়ার টেবিলে। হঠাৎ আনন্দ উৎসব কান্নায় পরিণত হলো। একসাথে অনেক গুলো মানুষ যখন চিৎকার, কান্না করে কিছু বুঝা যায় না। আমি বারান্দায় গিয়ে উঁকি দিলাম। সবাই ছুটাছুটি করছে। আহাজারি করছে। বাচ্চারা-মহিলারা চিৎকার করে কান্না করছে। হুট করে বিপদ টা আঁচ করা আমার মস্তিষ্ক ধারণ করছিল না। দেখলাম মা নিচ থেকে আমাকে ডেকে ডেকে কাঁদছে। পেছন ফিরে দেখি আগুন তখন আমাদের ঘরে।
আমি দুতলার বারান্দায় একপ্রকার আঁটকে যায়। ছুটে বের হওয়া সম্ভব কিন্তু ভয়ে আমার পা জুড়া অসাড়।
হঠাৎ মুহিন ভাই কোথা থেকে দৌড়ে এসে আমার হাত ধরে , তারপর আমাকে নিয়ে ছুটে বের হয়ে যায়। আমাদের পাড়া বাজারের সাথে লাগানো। তাই বাজারের অনেক মানুষই ছুটে এসেছিল। কিন্তু সবাই মুহিন ভাইয়ের মতো দৌড়ে ঘরে ঢুকেনি। আমার প্রতি এতটা উদগ্রীব কেউ হয়নি। আমাদের প্রায় চল্লিশ টা মতো বাড়ি পাশাপাশি ছিলো। একটার সাথে একটা জড়সড় ভাবে করা। তাই খুব কম সময়ে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ারসার্ভিস আসে অনেক দেরিতে। ততক্ষণে প্রায় সব শেষ। আমাদের জীবনে নেমে আসে দুঃসহ সময়।
কিন্তু আমার শোক পালনের সুযোগটুকুও হলো না। সেদিন আমার ইংরেজি পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষার কথা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। মুহিন ভাই তাড়া দিয়ে বলল, ঋধি তোমার স্কুলে যেতে হবে। পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র ২০ মিনিট বাকি। আমি স্তম্ভিত হয়ে চেয়ে রইলাম ধুঁয়া ওঠা আমাদের পোড়া ঘরটার দিকে।
আমার তখন বড় আপসোস হচ্ছিল বারান্দায় শখে লাগানো মধুমঞ্জুরি ফুল গাছ টার জন্যে। গাছটা র পাশেই আমার প্রিয় শালিক পাখির খাঁচাটি ছিলো। পোড়া খাঁচাটি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু ময়ূরাক্ষী কোথায়? পাখিটি কে আমি আদর করে ময়ূরাক্ষী ডাকতাম। ময়ূরাক্ষী নামটা হুমায়ূন আহমেদের বই থেকে নেওয়া। আমার নির্লিপ্ততা দেখে মুহিন ভাই আবারও আমার হাত ধরে স্কুলের দিকে নিয়ে চলল। স্কুলের ক্যান্টিন থেকে পানি আর অল্প খাবার খাওয়ালো জোর করে। তারপর হাতে কলম আর প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকিয়ে দিল।
সেদিনের পর থেকে একটু একটু করে আমাকে অসুখে ধরলো। ভালোবাসার অসুখ।
আমাদের ঘরবাড়ি ধীরে ধীরে গড়ে উঠল,মন্দির ঠিক হলো,সবার জীবন গুছিয়ে উঠলো, বাবা নতুন পাখি এনে দিলো, দাদা মধুমন্ঞ্জুরী লতার সাথে হাসনাহেনা আর শিউলি গাছ এনে দিলো। শিউলি গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। কিন্তু আমার অসুখ আর সারলো না। মুহিন ভাইয়ের যত্ন,যুক্তি, আন্তরিকতা, আশ্রয় ভরা চোখ আমাদের সম্পর্ককে টেনে নিয়ে গেলো নদীর তীরে। হুমায়ূন আহমেদের সেই ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে।
বসন্ত সবার জীবনে একবার হলেও আসে। আমার জীবনেও আসলো। আমার বসন্তে সুরেলা বাতাস,অজস্র ফুলের গান,পাখির কলতান,প্রকৃতির স্নিগ্ধতা..এই সব কিছুর সাথে আরেকটা জিনিসও ছিলো। তা হলো ভয়। জাত-ধর্ম আর ভালোবাসা হারানোর ভয়। আমি কোনো টা-ই হারাতে প্রস্তুত ছিলাম না।আমার মুহিন কে লাগবে,পরিবার লাগবে,ধর্ম লাগবে। এটা যে কত বড় অযুক্তিক আবদার আমার মন বুঝতে চাইতো না।
পরিবার, প্রিয় মানুষ, ধর্ম, বারান্দায় জমানো শখ, ভয় আর ময়ূরাক্ষী কে সাথে নিয়ে আমাদের সম্পর্ক দুই বছর পার করলো।
আমাদের সম্পর্ক এখন নতুন স্বপ্ন বুনে। আমাদের ঘর,আমাদের বারান্দা, বারান্দায় লাগানো গাছের লিস্ট, পর্দার রঙ.. সব ঠিক হয়ে আছে। আমাদের সন্তানের নামও ঠিক করেছি। দূ্ুজনে কৌশলে এমন নাম ঠিক করেছি যা সব ধর্মে চলে। ছেলে হলে শুভ,মেয়ে হলে শুভা।
আমরা সব ঠিক করি,সব বিষয়ে কথা বলি কিন্তু ধর্ম নিয়ে বলি না। এই একটা টপিক স্বন্তর্পণে দুজনেই এড়িয়ে যায়। যে-ই বিষয়টা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরে,চটপট করি,রাতের ঘুম কেড়ে নেয়.. সেই বিষয়টা আমরা মুখে আনতে পারিনা। এ-ই শব্দ উচ্চারণ নিষেধ! অলিখিত এক নিয়ম আমরা বিনা সন্ধিতে তৈরি করে নিলাম। কিংবা আপনাআপনি তৈরী হলো। অদ্ভুত মানব মন ; সব ভাবা যায় কিন্তু মুখ খুলে চাইতে নেই, সব স্বপ্ন আঁকা যায় কিন্তু চোখ খুলে পেতে নেই।
মা আমাদের সম্পর্কে কবে টের পেয়েছে জানি না। সেদিন মুহিন মেসেজ অনুযায়ী ঠিক আট টায় এসে আমাদের পুকুর পাড়ের আম গাছের আড়ালে দাঁড়িয়েছে। আমি ধীরে এগিয়ে যায়। জোছনার রাত। যেন একযোগে কয়েকটি নক্ষত্র জমিনে নেমে এসেছে। আম গাছের পাতারা পুকুরের পানিতে আল্পনা এঁকেছে। জোছনা মাখা আটপৌরে সাদা-কালো আল্পনা। আম পাতার ডগায় পূর্ণ চাঁদের প্রতিবিম্ব। যেন কপালে টিপ পড়ে আছে পাতারা। রুপালী আকাশ টা পানির ভিতর ক্ষনে ক্ষনে নড়ছে। ব্যাঙ,সাপ,মাছ কতকিছুই থাকে পানিতে। তাদের নড়াচড়ায় পুকুরের পানিতে ঢেউ উঠছে। ছোট ছোট সেই ঢেউয়ে মস্ত আকাশে কম্পন ধরেছে।
পাতার খসখস শব্দে আর আমার ভারি নিঃশ্বাসে, আমার উপস্থিতি টের পেয়ে মুহিন ক্ষানিকটা এগিয়ে এলো। থরথর করে কাঁপতে থাকা আমার হাত থেকে আচারের কোটা নিয়ে, আমার হাতে একটা কিছু ধরিয়ে দিলো। আমি ধরেছি ঠিকই কিন্তু কি ধরেছি সে দিকে ভ্রুক্ষেপ করার মতো সম্মিত আমার নেই।
মুহিন আমার মুখে একবার আলতু করে হাত রেখে বলল,
" তোমার উপস্থিতি আমার অক্সিজেন সাপ্লাই ঠিক করে, জানো তুমি ঋধি? তুমি কি বুঝতে পারো আমার বুকের অস্থিরতা, তোমার জন্য ভিতর-বাহির পোড়া আমি রিক্ত ধূসর পাতা?"
আমি এতো কথার উত্তর দিতে পারিনা। কখনোই পারিনি। আমার মনে গোছানো কথা,ভালোবাসার হাহাকার গলায় আঁটকে থাকে। ভয়ে অস্থির আমি কুঁকড়ে এতটুকু হয়ে যায়।
কোনো রকমে নিজেকে সামলে মুহিনকে বলি,'আমি আপনার অক্সিজেন হয়ে ই থাকতে চাই সারাজীবন, পিউর অক্সিজেন। '
ঘরের বা পাশের তুলসি গাছটি অবধি এসে আমার পা থেমে যায়। আমার সামনে মা দাঁড়ানো। মায়ের রক্তিম চোখের আভা অস্পষ্ট আলোয় দেখতে পাচ্ছি আমি। দৌড়ে ঘরে চলে আসি। আমার পেছন পেছন মা আসে। এসেই আমার মোবাইল টা কেঁড়ে নেয়,তারপর আমার হাতে থাকা মুহিনের গিপ্ট।
আমার সামনে ই টেনে খুলে গিপ্ট পেপার। আমার বুকে লাগে। যে-ই মানুষটার উপহার আমি আলতো স্পর্শে, যত্ন মেখে, মায়া মেখে খুলি, তা মা টেনেহিঁচড়ে খুলছে। কষ্টে চোখ বন্ধ করে নিই।
একটা হেড ফোন, লাভের আদলে নীল খামের একটা চিঠি, লাল গোলাপ আর মুহিনের হাতে বানানো চুড়ি। মা সবগুলো আগুনে দিলো। আমার কলিজায় আগুনের তপ্ত জ্বালানি, বুকের বাঁপাশে অজস্র হাতুড়ির করাঘাত সইয়ে আমি সরাসরি আগুনে হাত দিয়ে চিঠিটা তুলে নিলাম। লোম পোড়ার গন্ধ আর হাত পোড়ার জ্বালা আমার মস্তিষ্কে পৌঁছালো কিন্তু মনে পৌঁছালো হৃদয়ের হাহাকার। আস্ত চিঠি পুড়ে অল্প কিছু অংশ হাতে পাওয়ার জ্বালা আমি কি দিয়ে নেবাবো।
বেঁচে যাওয়া লাইন গুলো পড়তে অস্থির আমি রুমে ঢুকে দরজা লাগালাম। ভাজ করা চিঠির মধ্যের কিছু অংশ অবশিষ্ট ছিলো। আমার হঠাৎ মনে হলো সব হারিয়ে আঁকড়ে ধরার মতো এতটুকু তো পেলাম। আমি প্রবল উৎসাহ আর স্বস্তি নিয়ে সেটুকু পড়তে হামলে পড়লাম কালবিলম্ব না করে।
"আমার গলা দিয়ে খাবার নামতে পারে না, মুমূর্ষু রোগীর মতো আর ক'টা দিন বাঁচতে হবে ভেবে অল্প খাই। জানো ঋধি, বহুদিন আমার চোখে একলা ঘুম নামে না। তোমার নাম,তোমার চোখ, তোমার হাসি গুনি। গুনতে গুনতে যেটুকু ঘুম ধরা দেয়, সেই ঘুমও আমার হয় না। ঘুৃম জুড়ে চলে তোমার অবাধ বিচরণ। কখনো তোমার নাম ধরে ডাকতে গিয়ে আমার ঘুম ভেঙে যায়। ঋধি' শব্দ টা কেউ শুনে ফেললো না-কি ভেবে চারপাশে চোখ বুলায়। কখনো চোখের জলে ভেজা বালিশের অস্বস্তিতে ঘুম ভাঙ্গে, কখনো তোমায় হারানোর ভয়ে আৎকে উঠে ঘুম ভাঙ্গে।
আনমনে দিন দুপুরে তোমায় ডেকে বসি, নিজের অজান্তে হাসি, ইচ্ছে করে গাড়ি ছাড়া পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরি, উদ্দেশ্য তোমাকে নিয়ে বেশি ভাবার সুযোগ। কখনো কখনো পথ ভুল করি, ঘর পার হয়ে যায়, বৃষ্টিতে খেয়ালহীন হেঁটে চলি। খেতে ভুলে যায়, নিত্য কাজে ভুল করি,শুধু তোমায় ভাবতে ভুল হয় না। আমার কি হবে ঋধি? আমি ভয় পাই, কখন জানি নিজেকেও চিনতে পারবোনা। তোমায় এতো বেশি পড়ছি,এত বেশি জানছি,এত বেশি ভাবছি যে জাগতিক সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেছে। চকচক করে শুধু তোমার অবয়ব। আমার কোথাও আমি নেই। তুমি কি আমায় খুঁজে দিবে, ঋধি?
আমার একি দশা হলো ঋধি!"
আর কিছু নেই। পুড়া আকাঁবাঁকা রেখার শেষাংশে তিনটা অক্ষরের একটা শব্দ বাকি আছে- 'পরাণে'
'পরাণে' র আগে পরে কি ছিলো জানতে ইচ্ছে করছে খুব। অতৃপ্ত মন নিয়ে পুড়া অংশটুকু পড়তেই থাকি। বারবার। অসংখ্যবার।
মা সেদিন অনেক কিছুই বুঝলেন। যে-ই মেয়ে চা ঢালতে গিয়ে হাতে গরম আঁচ লাগলে উঁহু করে উঠে, সে কিনা জলন্ত আগুন থেকে চিঠি টেনে নেয়!
মা যেমন আমার ভালোবাসার তীব্রতা বুঝলেন তেমনি বুঝলেন আগামী বিপদ কতো কঠিন। দূর্বিষহ এক ঘটনা মা বুঝে গেলেন। তিনি মরিয়া হয়ে উঠলেন মেয়েকে বাঁচাতে, সাথে ধর্ম।
জাত-কুল একজন মায়ের কাছে বড় কিন্তু সন্তানের জীবনে জড়িয়ে থাকে মায়ের আধেক পরাণ।
মায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আমি ভীত।
কিন্তু আমি আটকে আছি পুড়া চিঠির শেষাংশের 'পরাণে' শব্দে।
পরবর্তী পর্বে শেষ।