আমি কুকুর বলছি।
না।
আমি কোন ধনীর দুলালীর কোলে থাকা অভিজাত কুকুর নই।
নই শ্যাম্পুর ঘ্রাণ গায়ে নিয়ে বসে থাকা পমেরিয়ান।
অথবা আত্মমেহনরত যুবতীর পায়ের কাছে বসে থাকা আইরিশ সেটার।
আমি ইউরিনময় ফুটপাথে বাস করা কুকুর।
আমার সারা গায়ে রোঁয়া ওঠা, সাথে পচা-বাসি গন্ধ।
আমার বাম কানের গোঁড়ায় পুঁজ জমে আছে।
আমার লেজের পশমে পশমে অসভ্য মানুষের মল।
আর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় "লালশিটে" ক্ষত।
আমার দিন শুরু হয় ডাস্টবিন এর "জিহ্বায় জল" আনা গন্ধে।
আধ পচা মুরগির হাড়গুলোর দিকে পাগলের মতো তেড়ে যাই;
চিবুতে চিবুতে কামচোখে তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখি এক মাদীর নিতম্ব।
চিবুনো শেষে তীব্র কামনা নিয়ে এগিয়ে যাই পরবর্তী খাবারের দিকে।
তপ্ত দুপুরে চলে "আইনস্টাইন" স্টাইলে অবিরাম জিহ্বা প্রসারণ;
আর আতঙ্কিত চোখে খুঁজি "ঘরে নির্যাতিত" পুরুষ মানব।
তারা রাতের "২ সেকেন্ড স্থায়িত্বের" ব্যর্থ-গরম দেখায় আমাদের পাছায়।
হায়রে মানুষ!!!
এজন্যই বুঝি রাস্তায় আমাদের লীলাখেলায় তাদের হিংসে হয়।
সন্ধ্যার পর শুরু হয় শয়তানের রাজত্ব।
মানব-মানবীরা প্রতিযোগিতায় নামে,
কে কার আগে "কুত্তা" উপাধি নেবে।
তারপর একসময় আধো অন্ধকার রাস্তার পাশেই মঞ্চায়ন হয় ডগি স্টাইলের।
আমি অপমান চোখে চেয়ে দেখি।
আমার টাইমিংও ওদের থেকে ঢের ভালো।
এভাবেই সময় চলে যায়।
মধ্যরাতে তরতাজা খাবারের খোঁজে ফিরে যাই ডাস্টবিনের কাছে।
আরেকটা গোবদা কুকুরকে খাবার খুঁজতে দেখে ক্ষেপে উঠি।
"ঘেউ", “ঘেউ…”;
তেড়ে গিয়ে কামড়ে ধরি ওর মুখ গহ্বরে ঢুকতে থাকা রুটির অন্য প্রান্তে।
কিন্তু ওর চোখের দিকে চেয়ে চমকে উঠি…
মানুষের চোখ।
মানুষের মুখ।
একজন মানুষ।
ভয়ে ছিটকে সরে আসি। অপেক্ষায় থাকি তেড়ে আসার।
না।
মানুষটি নির্জীব চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রুটি চিবুতে থাকে।
গলাধকরণ শেষে তার দৃষ্টি আকর্ষিত হয় একটি মাছিবেষ্টিত গরুর হাড়ের দিকে।
সারাদিনে এই একটি সময়ে নিজেকে কেনও জানি ধন্য মনে হয়।
বাসা-বাড়ির একটা বড় ময়লার পুটলি মুখে তুলে বসে পড়ি ফুটপাতের কোণে।
উচ্ছিষ্টের তাজা গন্ধে পেটে খিদে চাগাড় দিয়ে ওঠে।
চোখাচোখি হয় হাড় চাটতে থাকা কঙ্কালসার মানুষটির সাথে।
কিছু সময় পর আমি মৃদু কুই কুই শব্দে ওকে জানিয়ে দিই…
“আমার কাছে তুমি নিরাপদ,
কারণ আমি মানুষ নই,
আমি কুকুর বলছি।"