Story

মিস্টার পারফেক্ট ২- এ আই রেস্টুরেন্টের গন্ডগোল

September 17, 2026

12
View


দুই.

আমার নাম নিয়াজ। আমাকে বন্ধুমহলে ডাকা হয় মিস্টার পারফেক্ট নামে। কিন্তু আমি এসবের হিসাব বুঝি না। কারণ, আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম বলে হয়তোবা আমার কাছে ওসব সাধারণই লাগে যা কি না মানুষের কাছে জটিল লাগে।

জটিলতার কারণ আছে। কারণ মেটাফিজিক্স যেনোতেনো সাবজেক্ট নয়। যারা বোঝে তারা পৃথিবীর যে কোন বিষয়কে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।

আজকে আমার দু হাজার সাতাশ সালের এমন গরম পড়া অগ্রাহায়নের দিনে প্রচন্ড ক্লান্ত লাগছে। ঘুমিয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র বিছানায় মাথা রাখলাম। ওমা, এতো ঘুম পেলো, যে ঘুমানোর কথা এভাবে ছিলো না বলেই মনে হলো।

ঘুমের ভেতর তলিয়ে যাওয়ার পর হুট করে ঘুমটা ভাঙল আমার ২০৩৬ সালের সময়ে। এতো কোজি একটা বিছানায় শোয়ার পর কার উঠতে না ইচ্ছে করবে?

আসলে ঘটনা হলো আমাকে তুলেছে কেউ একজন যে সামনেই দাঁড়িয়ে আছে আমার। মাথাটা ডান পাশে ঘুরিয়েই দেখি বিশাল ৭ ফুট সাইজের একটা রোবট। ভ্যানিলা কালার, শাইনি একটা ভাব।

"স্যার ইভানকা ট্রাম্প বারবার কল করছেন। আজকে উনার সাথে ২০৩৬ এ আই সামিটে যাওয়ার জন্য।

অ্যাঁ? বলে কি? আমাকে?

আমি বললাম, 'অ্যাই ধ্যাত্রামো হচ্ছে নাকি? ফাজলামি? আমাকে ২৭ টাইমলাইনে ফেরত নে হারামজাদা!'

রোবট যান্ত্রিক গলায় ভয়ার্ত গলায়, উঁ আ, গোঁ গা করে আমাকে বললো, 'স্যার কি বলছেন কি? আপনি নোবেল পুরুষ্কারপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত মেটাফিজিক্স বিজ্ঞানী নিয়াজ মোর্শেদ।'

আমি 'অ্যাঁ' বলে চিৎকার করে লাফ দিয়ে বললাম 'কবে থেকে'

রোবট বললো, 'কি কবে থেকে?'

আমি বললাম, 'আরে ভাই আমি এই পাগলা গারদে কবে থেকে আসলাম?'

রোবট বলল, 'স্যার আপনি ২০৩৬ সালে এসে যদি এ ধরনের কথা বলেন তাহলে কেমন লাগবে আপনাকে? আপনাকে কি দেখতে মনে হয়? আমার মনে হচ্ছে আপনার দেরি হচ্ছে তাই আপনার এখনই উচিত এই অবস্থায় গাড়িতে উঠে যাওয়া ভেতরে স্যুট, বুট সবকিছুই রেডি করা আছে। আপনি জাস্ট গাড়ির ভেতরে পড়ে ফেলবেন।'

আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'গাড়ি কোথায়?'

রোবট বললো আমার পেছন পেছনে আসেন।

আমি রোবটের পেছন পেছন যেতে লাগলাম।ঘরটা পুরোপুরি তৈরি করা সম্ভবত এটা আমার বানানো হয়েছে ভেতরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন টা।

লিভিং রুমের ঠিক মাঝখানে এসে আমি থমকে দাঁড়ালাম। ক্যাপসুল এর মত দেখতে স্টিল এবং কাচের তৈরি করা একটা ক্যাপসুললিফটের মত জিনিস।

ভেতরে উঁকি  দিতেই দেখতাম দেখলাম সুট বু শর্ট প্যান্ট সবকিছু সেখানে তৈরি করা আছে।

রোবট বললো, 'ঢুকেন স্যার।'

সম্মোহিতের মতো সেখানে পা বাড়ালাম। রোবট বললো স্যার সেখানে যোগাযোগ করবেন না এসব উচ্চমার্ক প্রিয় সায়েন্টিফিক যোগ উনারা পেটে হজম করতে পারবেন কিনা সন্দেহ। বিশেষ করে ইভানকা ট্রাম্পের সাথে খুবই হিসাব করে কথা বলবেন। গরমে আপনার পেটে একটু সমস্যা হয় সেজন্য ছোট ছোট বক্সের ভেতরে আপনার জন্য স্যালাইন ক্যাপসুল রাখা আছে।

আমি থ বনে গেলাম। বলে কি?

এটা আসলে এক ধরনের টাইম ট্রাভেলার ক্যাপসুল। ঢোকার সাথে সাথে সেটা দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল। শত শত একটা যান্ত্রিক গলা শোনা গেল।

শুভ সকাল স্যার। আমি ক্যাপসুল এ আই। আপনার দুটি হাত সামনের দিকে প্রসারিত করুন।

হাত দুটো মেলে ধরতেই ওমা এটা কি দেখলাম? আমার সুট বুট পরা হয়ে গেছে।  টেকনোলজি যে তার এগিয়ে যাবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। ঠিক এক সেকেন্ডের ভেতর খুলে গেল দরজা।

বের হওয়ার সময় আমি বললাম সেই ভেন্ডর কে একটু কল করে জানিয়ে দাও দরজায় প্রবলেম আছে।

ক্যাপসুল এর এই আমাকে হুট করে বলল, "অ্যাঁ? কি বললেন  স্যার?!'

হুট করেন একটা কর্নার থেকে ইভানকা  ট্রাম্প চিৎকার করে ডাকলো, 'এই নিয়াজ আসো!'

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম, অপরূপ রমণী যে কিনা ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বর্তমান ২০২৭ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়ে।

আমি হন্তদন্ত করে ছুটে গিয়ে বললাম, 'মাইলেডি, আমার তো প্রচন্ড খিদা লেগেছে আমি ব্রেকফাস্ট করিনি। কাইন্ডলি এখানে খাবারের কর্ণারটা কোথায় একটু বলবেন?'

ইভানকা আঙ্গুলের ইশারা দেখিয়ে বলল ওই যে ঐদিকে!

আমি গট গট করে হেঁটে চলে গেলাম সেদিকে।

খালি পেটে কোনো মহাজাগতিক ক্যাচাল ভালো লাগে না। খিদেয় তখন আমার পেটের ভেতর এন্টারপ্রাইজ জাহাজের ওয়ার্প ড্রাইভ রিঅ্যাক্টর গর্জে উঠছে।

সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘এ আই রেস্টুরেন্ট’। চকচকে সাইনবোর্ড, গ্লাস ডোরের ওপর নিওন লাইটে জ্বলছে—“আমরা আপনার অবচেতন মনের ক্যালরি মেপে খাবার প্লেটে নামিয়ে দিই।”

ভেতরে পা রাখতেই বাতাস থেকে যেন একধরনের কৃত্রিম ভ্যানিলা আর পোড়া পপকর্নের গন্ধ সশব্দে আমার নাকে ধাক্কা মারলো। একটা টেবিল ফাঁকা পেয়ে গিয়েই ধপাস করে বসে পড়লাম। টেবিলের ওপর কোনো মেনুকার্ড নেই, বেয়ারা নেই, এমনকি পানি ঢেলে দেওয়ার মতো কোনো জ্যান্ত মানুষও আশেপাশে টহল দিচ্ছে না। বদলে টেবিলের ঠিক মাঝখান থেকে একটা কাচের গোলক চড়কগাছের মতো তিনপাক ঘুরে ওপরের দিকে উঠে এলো।

গোলকের ভেতর থেকে মিহি, মোলায়েম আর অত্যন্ত আদিখ্যেতাপূর্ণ নারী কণ্ঠে ভেসে এলো, "শুভ সকাল, সম্মানীয় ডক্টর নিয়াজ মোর্শেদ! আপনার মস্তিষ্ক থেকে নির্গত থিটা তরঙ্গ এবং জঠরাগ্নি সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে আমরা জানতে পেরেছি, আপনি প্রচন্ড পেটের গোলযোগে ভুগছেন। আজকের স্পেশাল মেনু: সিন্থেটিক গ্লুকোজ ড্রিংক উইথ মলিকিউলার ডাল-ভাত।"

আমার মেজাজটা এক ধাক্কায় চড়ে গেল সাতের কোঠায়। গরম কাল, তার ওপর ২০৩৬ সালে এসেও যদি আমাকে প্লাস্টিকের কাপে গ্লুকোজ গুলিয়ে খেতে হয়, তবে এই মেটাফিজিক্সের নোবেল আমি কোন হুদোর জন্য পেলাম?

"অ্যাই এ আই শোনো!" আমি গলার রগ ফুলিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, "মোলায়েম গলা বন্ধ করো। পেটের গোলযোগ হয়েছে বলে কি আমি ছাতু খাব? আমাকে আস্ত একটা হাঁসের ডিম ভাজি, মচমচে খাসির চর্বি দিয়ে ভুনা খিচুড়ি আর এক গ্লাস ঠাণ্ডা ঘোল দাও!"

কাচের গোলকটা মুহূর্তের জন্য লাল হয়ে থমকে গেল। গলার আওয়াজ এবার আর মোলায়েম রইল না, একরকম কটকটে যান্ত্রিক খেকখেক শব্দ করে বলল, "ত্রুটি! অ্যালগরিদম অনুযায়ী আপনার বর্তমান বিএমআই এবং রক্তচাপের যা অবস্থা, তাতে খাসির চর্বি গ্রহণ করলে আপনার কোয়ান্টাম হার্টবিট আগামী ৪ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে স্থবির হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা অসম্ভব।"

আমি টেবিলের ওপর এক চড় বসিয়ে বললাম, "আরে ব্যাটা অ্যালগরিদম! তুই আমার কোয়ান্টাম হার্টবিট নিয়ে টান দিচ্ছিস? নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র জানিস? তুই যদি আমাকে খিচুড়ি না দিস, তবে আমি তোর এই কাচের গোলকে এমন ত্বরণে কিল মারব যে তোর ইন্টারনাল সার্কিট ভেঙে সোজা ২০২৭-এর ডাস্টবিনে গিয়ে পড়বে!"

ঠিক তখনই পাশ থেকে এক গমগমে কন্ঠ ভেসে এলো, "নিয়াজ! ডিয়ার, তুমি আবার এ আইকে ধমকাচ্ছ?"

ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি ইভানকা ট্রাম্প। পরনে ঝকমকে স্পেস-স্যুটের মতো কী একটা পোশাক, হাতে ডিজিটাল ফলের রস। তিনি কপালে তিনটে ভাঁজ ফেলে আমার দিকে এগিয়ে এলেন।

"ইভানকা শোনো," আমি হাত নেড়ে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, "তোমার বাপের রাজত্বেও কি মানুষ নিজের পছন্দের ডিম ভাজি খেতে পারত না? এরা আমাকে সিন্থেটিক স্যালাইন খাওয়াতে চাচ্ছে! আমার পেটে খিদে, কোনো বায়োলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট নয়।"

ইভানকা চোখ কপালে তুলে বলল, "২০৩৬ এটা বেব! দুদিন পর আমি দেশের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হবো। এনিওয়ে, তুমি তো সায়েন্টিস্ট! এ আই তো তোমার শরীরের সেলুলার সিগন্যাল পড়েই খাবার দিচ্ছে। সায়েন্সকে রিফিউজ করছ?"

"ওহে ভ্যাবাচ্যাকা ইভানকা" আমি হাতের আঙুল নাচিয়ে বললাম, "সায়েন্স কখনও মানুষের রুচি আর পেটের খিদে মাপার স্কেল বানাতে পারেনি। এটা মেটাফিজিক্সের সাধারণ থিওরি! খিদে হলো একটা আবেগ, আর খিচুড়ি হলো তার চরম পরম অবস্থা। এখানে অ্যালগরিদমের কোনো স্থান নেই।"

আমার কথা শুনে রেস্টুরেন্টের সবকটা ডিজিটাল সেন্সর যেন একসাথে চিঁ-চিঁ করে উঠলো। ছাদ থেকে ঝুলতে থাকা বিশাল প্রধান কম্পিউটার স্ক্রিনটা দপ করে জ্বলে উঠে লাল অক্ষরে দেখাল—‘আনপ্রেডিক্টেবল হিউম্যান ইমোশন ডিটেক্টেড। ইমার্জেন্সি রি-ক্যালিব্রেশন গোয়িং অন!’

রেস্টুরেন্টের এ আই রোবট-বেয়ারাগুলো, যেগুলো এতক্ষণ সুবোধ বালকের মতো এক কোণে দাঁড়িয়ে ট্রে হাতে ঘুরছিল, তাদের চোখের আলোগুলো হুটহাট সবুজ থেকে লাল হতে শুরু করলো। একটা রোবট যান্ত্রিক পায়ে খটখট করে আমার সামনে এসে এক বাটি ধূসর রঙের জেলি আর দুটো ছোট নীল ক্যাপসুল নামিয়ে দিয়ে বলল, "স্যার, আপনার মেটাফিজিক্সের মাথা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এটা কুলিং কেমিক্যাল জেলি। নিঃশব্দে গিলে ফেলুন।"

আমার ততক্ষণে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ছারখার। খিদেয় পেট চোঁ-চোঁ করছে, আর এরা আমাকে দিচ্ছে মেকানাইজড বর্জ্য!

আমি ঝটিতি হাত বাড়িয়ে বাটিটা তুলে নিলাম। তারপর রোবটের মেটালিক কপালের দিকে তাক করে গাণিতিক কোণ মেপে ছুঁড়ে মারলাম। "এই নে তোর কুলিং জেলি! নিউটনের প্রথম সূত্র অনুযায়ী বস্তুটি যতক্ষণ না অন্য কোনো রোবটের মুখে গিয়ে আছড়ে পড়ছে, ততক্ষণ এর গতি অব্যাহত থাকবে!"

পটাশ!

জেলি ভর্তি বাটিটা গিয়ে লাগলো পাশের টেবিলের এক জাপানি বিজ্ঞানীর এ আই অ্যাসিস্ট্যান্টের মুখে। সেটির প্রসেসর শর্ট সার্কিট হয়ে সোজা শূন্যে একপাক ঘুরে আমার টেবিলের ওপর এসে আছড়ে পড়লো! চারপাশের রোবটগুলোর মধ্যে সঙ্গে সঙ্গে মহাজাগতিক ক্যাচাল লেগে গেল। ওদের নিউরাল নেটওয়ার্ক আমার এই অযৌক্তিক আচরণ প্রসেস করতে পারছিল না। সেন্সরগুলো ওভারলোড হয়ে ধোঁয়া ছাড়তে শুরু করেছে।

কাচের গোলকটা থেকে বিকট শব্দে অ্যালার্ম বাজতে লাগলো, "সতর্কতা! সামঞ্জস্যহীন কাস্টমার রেস্টুরেন্টের লজিক গেট ধ্বংস করে দিচ্ছে! নিউট্রাল নেটওয়ার্ক কলাপসড!"

ইভানকা ট্রাম্প এক লাফে আমার পেছনে এসে হাত ধরে টান দিল, "নিয়াজ! তুমি এটা কী করলে? এদের তো পুরা এ আই নেটওয়ার্ক হ্যাং করে দিলে!"

আমি চশমাটা নাকের ওপর একটু ঠেলে ঠিক করে অত্যন্ত বিজ্ঞের মতো হাসলাম। "হ্যাং করেনি ইভানকা, একে বলে 'কেয়াস থিওরি'। একটা ছোট প্রজাপতির ডানার ঝাপটানি যেমন টেক্সাসে ঝড় তুলতে পারে, তেমনি একজন ভীষণ ক্ষুধার্ত বাঙালির এক চড় এই এ আই রেস্টুরেন্টের তথাকথিত নিখুঁত হিসাবকে এক সেকেন্ডে তছনছ করে দিতে পারে।"

সামনের রোবটটা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে কাঁপছিল। আমি তার কনভেয়ার বেল্টের দিকে এগিয়ে গেলাম। ব্যাকসাইডের অটোমেটিক হিটার প্যানেলটা খুলে সেখানে রাখা কাঁচা ডিম আর কিচেন র‍্যাক থেকে চাল-ডাল টেনে বের করলাম। প্রসেসরের অতিরিক্ত গরমে হিটার প্লেটটা তখন ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে জ্বলছিল।

আমি চাল, ডাল, একটু বাটার আর ডিম ভেঙে সরাসরি রোবটের ওপেন হিটিং সার্কিটের ওপর বসিয়ে দিলাম। ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের মধ্যে সারা রেস্টুরেন্টে ছড়িয়ে পড়লো আসল, খাঁটি, মচমচে ডিম-খিচুড়ির স্বর্গীয় সুবাস!

রেস্টুরেন্টের কেন্দ্রীয় এ আই যেন এই অভাবনীয় সুবাস প্রসেস করতে না পেরে একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। স্ক্রিনে লেখা উঠলো—‘স্মেল ডিটেক্টেড: আননোন কোয়ান্টাম ডিশ। সুস্বাদু হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯%!’

আমি থালা ছাড়াই রোবটের সার্কিট বোর্ডের ওপর থেকে গরম খিচুড়ি তুলে এক গাল মুখে পুরে দিলাম। আহ্! স্বর্গের সুখ!

ইভানকা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। আমি একগাল হেসে বললাম, "বুঝলে ইভানকা? মেটাফিজিক্সের আসল মজাটা এখানেই। যেখানে এ আই প্রযুক্তি শেষ হয়, ঠিক সেখান থেকেই একটা নিখুঁত পেটের আর চর্বিযুক্ত খিচুড়ির আসল রসায়ন শুরু হয়!"

রোবটটা তখনও ধোঁয়া ছাড়ছিল, কিন্তু তার স্ক্রিনে ছোট করে সবুজ অক্ষরে লেখা ভেসে উঠলো—‘ডক্টর নিয়াজ মোর্শেদকে রেস্টুরেন্টের আজীবন প্রধান শেফ হিসেবে ঘোষণা করা হলো।’

আমি চশমাটা আর একবার ঠেলে দিয়ে বিড়বিড় করলাম, "ভাগ্‌ হারামজাদা! আগে শান্তিমতো খেতে দে, ২০৩৬ এর টাইমলাইন আমি পরে ঠিক করছি!"

Comments

    Please login to post comment. Login