Article

ইহা কোন রিভিউ নয়

September 24, 2026

24 views

আমি রিভিউ দিতে পারি না সবসময়ই বলি। বিরক্ত হবেন না প্লিজ। রিভিউ দিয়ে লেখা বা রান্না জাজ করা আমার ভালো লাগে না।

যাইহোক, সেটা অন্য আলাপ। বই নিয়ে বলি……

বছরের শেষে ভেবেছিলাম জনাব মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সাহেবের রবীন্দ্রনাথ আর বেগ-বাস্টার্ড সিরিজ দিয়ে শেষ করবো। যেই কথা সেই কাজ, প্রথমে পড়লাম “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি” এরপরে পর পর পড়লাম “নেমেসিস”, “কন্ট্রাক্ট” আর “নেক্সাস”।

রবীন্দ্রনাথ সিরিজ দেখা ছিল। পড়তেও ভালো লাগলো।

নেমেসিস পড়ে আমি জোরে একটা বাড়ি খেলাম। কি জিনিস ভাই? অসাম……

কন্ট্রাক্ট আর নেক্সাস পড়ে আমি কিঞ্চিৎ বোরিং হতে শুরু করলাম।

এই লেখক টুইস্ট খুব ভালো দেন। ওনার ঢাবাকা পড়ে আমি ৭ দিন বেহুস ছিলাম।

কিন্তু আমার মতন কম জ্ঞ্যানি পাঠকরা পড়তে পড়তে টুইস্ট ধরার চিন্তা করতে থাকে। আর আমি বেশীরভাগ সময় টুইস্টএর খুব কাছাকাছি চলে যাই। তো ব্যাক টু ব্যাক একি প্যাটার্নের টুইস্ট পড়ে বোরিং লাগতে শুরু করলো।

একি জিনিস হয়েছিল সাম্ভালার ক্ষেত্রে। সেই হাইপ, ভালো রিভিউ, আমিও খুব এক্সসাইটমেন্ট নিয়ে শুরু করলাম। কিন্তু সাম্ভালা ২ এর অর্ধক যেতে যেতে আমি বোরিং হতে লাগলাম। তাই অনেক কষ্টে সাম্ভালা ২ শেষ করে কিছুদিন অন্য বই পড়ে আবার সাম্ভালা ৩ ধরলাম। তখন আবার খারাপ লাগেনি।

এদিক থেকে আবার “টাটা/তাতা” আমাকে খুব উত্তেজিত রেখেছিল পুরোটা সময়। অনেকে চিনবেন হয়তো, উইলবার স্মিথ সাহেবের মিশরিও মিথলিজির প্রধান চরিত্র। এই সিরিজটা আমি একটানা পড়েছিলাম। পড়ার জন্য উদগ্রীব থাকতাম। এভাবে এখন পর্যন্ত কোন বইএর সিরিজ আমাকে কমই ধরে রাখতে পেরেছে।

যাইহোক, বোরিং ভাব কাটানোর জন্য ভাবলাম একটু রক্তারক্তি পড়ি। হাতে নিলাম আহমাদ স্বাধীন সাহেবের অ্যাজটেক সভ্যতায় নরবলি। বই মেলা থেকে কিনেছিলাম। সামনে, পিছনে পড়ে ভেবেছিলাম হয়তো মিশরিও মিথলিজির মতন কিছু হবে।

কিন্তু আমি ধোঁকা খেলাম। এটা একটা সমাজ বিজ্ঞান বই।

লেখক পরিচিতি পড়ে দেখলাম, লেখক ভদ্রলোক শিশুসাহিত্যিক। হয়তো এই কারনে এই ধরনের নরবলি বা রক্তারক্তি ব্যাপার গুলো কিভাবে নির্মম, লোমহর্ষক, গায়ে কাটা দেয়ার মতন করে তুলে ধরতে হয়, সেখানে বেশ গ্যাপ রয়ে গেছে।

যেমন, আমরা সমাজ বইতে পড়তাম না,

“নিচে তুলে ধরা হচ্ছে মুঘল সম্রাজ্যের দৈন্য দশার কিছু অংশ।“ উনি এই প্যাটার্নে লিখে গেছেন। আমি পড়ে শেষ করতে পারিনি। এরমাঝে আমার চিকুন-গুনিয়া ধরা পড়লো। ভাবলাম, ভালো হইছে। ঘোর লাগা অবস্থায়, জ্বর নিয়ে শেষ করি। তাও পারলাম না।

২০৮ বা ২১০ পৃষ্ঠার বই খুব কষ্টে ৭০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত গেলাম। এরপরে বন্ধ করে আমার গিভওয়ে/সেল লিস্টে তুলে নতুন একটা বই ধরলাম।

প্রিন্স আশরাফের একটি লোমহর্ষক হরর থ্রিলার "আমি হয়তো মানুষ নই"। অনেক দূর পড়া হয়ে গেছে। প্রথম ভাগ যখন পড়ছিলাম সেই রাতে আমার ঘুম আসছিল না জ্বরের জন্য। জ্বর নিয়েই প্রথম ভাগ শেষ করে আমি “থ” মেরে গেলাম। এভাবেই হয়তো নির্মম, লোমহর্ষক, গায়ে কাটা দেয়ার মতন অনুভূতি মানুষকে দিতে হয়। এই ধরনের যত গুলো বই আমি পড়েছি, যেমন, পিনবল, অবিনশ্বর, গথ, তামাম শুদ বা এই মিশরিও মিথলজি, ভাইরে ভাই একটা ঘটনা ঘটানোর আগে যে আবহ তৈরি করে সেটা বলার ভাষা থাকে না আর। যাইহোক, এখনো পড়ছি। গায়ে চিকুন-গুয়ের ব্যাথা আর জ্বর নিয়ে। শেষ করে লিখবো আসলে কেমন লেগেছে।

সর্বোপরি, মানুষের প্লান অনুযায়ী দুনিয়া চলে না। আল্লাহ্‌ ইজ দ্যা গ্রেট প্লানার। তাই বছর আর বেগ-বাস্টার্ড দিয়ে শেষ হবে না। এই বছরের ২৯ নং বই আর শেষ বই হবে "আমি হয়তো মানুষ নই"। ভেবেছিলাম ৩০ টা পড়বো। কিন্তু এই অসুস্থতায় আর কুলাচ্ছে না। পুরো ডিসেম্বর আমি বুকশেলফের বই পড়া থেকে নিজেকে দূরে রাখবো। বিশ্রাম। হয়তো অন্য কিছু পড়বো। ভেবেছি ২০২৬ প্রথম ৬-৭ মাস শুধু খাটি ইংরেজি বই পড়তে থাকবো ইন-শাহ-আল্লাহ।

ধন্যবাদ,
আবার আসবেন। বেশী বেশী বই পড়বেন।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login

  • Salam Khokon 3 days ago

    তবুও পড়ুন ...

    • Md. Aftab Hossen 3 days ago

      আবার জিগায়, পড়তে হবে।