শুক্রবার বিকেল পাঁচটার কয়েক মিনিট আগে রায়হান পুরোনো রেলস্টেশনে পৌঁছাল। স্টেশনটি প্রায় জনশূন্য। প্ল্যাটফর্মের এক পাশে একটি চায়ের দোকান, অন্য পাশে ভাঙা বেঞ্চ। দূরে রেললাইনের ওপরে সূর্যের শেষ আলো পড়েছে।
ঘড়িতে পাঁচটা বাজতেই একটি ট্রেন ধীরে ধীরে স্টেশনে ঢুকল। রায়হান কোনো কারণ না জেনেই ট্রেনটির দিকে তাকিয়ে রইল। ট্রেনটি থামল না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চলে গেল।
তারপর পেছন থেকে একজন বলল, “রায়হান।”
তার শরীরের ভেতর কেমন একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল।
চিঠিতে লেখা ছিল—ফিরে তাকাবে না।
সে তাকাল না।
লোকটি আবার বলল, “তোমার মা তোমাকে শেষবার দেখতে চেয়েছিলেন।”
রায়হান এবারও ঘুরল না।
লোকটি ধীরে ধীরে তার পাশে এসে দাঁড়াল। তার হাতে একটি পুরোনো কাপড়ের ব্যাগ।
“এটা তোমার মায়ের।”
রায়হান ব্যাগটি নিল।
“আপনি কে?”
লোকটি বলল, “যে মানুষ তোমার মাকে ১৯৯৮ সালে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।”
রায়হান এবার ঘুরে দাঁড়াল।
কিন্তু লোকটি তখন অনেক দূরে চলে গেছে।
ব্যাগটি খুলে রায়হান দেখল, ভেতরে একটি পুরোনো ছবি, একটি ছোট চাবি এবং একটি ডায়েরি।
ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা—
“যে সত্য তোমার বাবা লুকিয়েছিল, তার থেকেও বড় সত্য আমি লুকিয়েছি।”
রায়হান ডায়েরিটি শক্ত করে ধরে ফেলল।