কয়েক মাস পর মায়ার শরীর খারাপ হতে শুরু করল। এক সন্ধ্যায় তিনি রায়হানকে ডাকলেন।
“তোর জন্য আরেকটা চিঠি আছে।”
রায়হান অবাক হলো।
“আরেকটা?”
মায়া হাসলেন।
“এটাই শেষ।”
চিঠিটি হাতে নিয়ে রায়হান বলল, “তুমি নিজে পড়ে শোনাও।”
মায়া মাথা নাড়লেন।
“না। এবার তুই পড়বি।”
রায়হান চিঠিটি খুলল।
“রায়হান, মানুষ জীবনে অনেক কিছু হারায়। কখনো মানুষ, কখনো সময়, কখনো নিজের বিশ্বাস। কিন্তু সব হারানোর পরও যদি হৃদয়ের ভেতর ভালোবাসা থাকে, তাহলে মানুষ পুরোপুরি একা হয় না। তুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা ছিলি। তোর বাবাও ছিল। নীলাও ছিল। আমাদের সবাইকে সময় আলাদা করে দিয়েছে, কিন্তু ভালোবাসা পারেনি।”
চিঠির শেষ অংশ পড়তে পড়তে রায়হানের চোখ ঝাপসা হয়ে গেল।
“যেদিন আমি থাকব না, সেদিন পুরোনো বাড়ির জানালাটা খোলা রাখিস। আমি জানি, সেখানে দাঁড়ালে তুই আকাশ দেখতে পাবি। আর মনে হবে, আমি এখনও তোকে দেখছি।”
রায়হান চিঠিটি বুকে চেপে ধরল।
মায়া শান্তভাবে বললেন,
“এবার আমার ভয় নেই।”
রায়হান মায়ের হাত ধরে বলল,
“আমারও নেই।”