শুভ্র জলরাশি, সবুজ পাহাড় আর প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন হলো রাঙামাটির কাপ্তাই লেক। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ।
ইতিহাস ও সৃষ্টি
পটভূমি: ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা ১৯৬০ সালে শেষ হয়। মূলত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যেই এই বাঁধ দেওয়া হয়েছিল।
সৃষ্টি: বাঁধের কারণে কর্ণফুলী নদীর পানি আটকে গিয়ে বিশাল জলাধারের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে কাপ্তাই লেক নামে পরিচিতি পায়।
ভৌগোলিক প্রভাব: এই জলাধার সৃষ্টির ফলে রাঙামাটি জেলার প্রায় ৫৪,০০০ একর কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যায় এবং এর নিচে তলিয়ে যায় পুরাতন চাকমা রাজবাড়িসহ অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন ও শতাধিক গ্রাম।
আকার ও গভীরতা
আয়তন: এই লেকটি প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ২৯২ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর শাখা-প্রশাখা রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, লংগদু, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে।
গভীরতা: স্থানভেদে এর গভীরতা ৩০ থেকে ১৫০ ফুটের বেশি হয়ে থাকে।
কাপ্তাই লেকের প্রধান আকর্ষণসমূহ
ঝুলন্ত সেতু: রাঙামাটি শহরের কাছে অবস্থিত এই ঝুলন্ত সেতুটি লেকের দুই তীরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে এবং এটি রাঙামাটির অন্যতম প্রধান প্রতীক।
শুভলং ঝর্ণা: নৌকায় ভ্রমণ করে শুভলং এলাকায় যাওয়া যায়, যেখানে বর্ষাকালে ঝর্ণার রূপ সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
পেদা টিং টিং ও টুকটুকি: লেকের মাঝে অবস্থিত বিভিন্ন দ্বীপ, যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশ্রামের দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজবন বিহার: লেকের তীর ঘেঁষেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ বিহারটি, যা দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আকর্ষণীয়।
পাহাড় ও জলের এই অপরূপ মিশ্রণ এবং নৌভ্রমণের অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য কাপ্তাই লেক ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক দারুণ গন্তব্য। এই লেককে ঘিরেই মূলত পুরো রাঙামাটির পর্যটন শিল্পটি গড়ে উঠেছে।