রাতটা খুব দীর্ঘ ছিল। রায়হান, মায়া এবং সুমন পুরোনো বাড়ির ভেতরে বসে ছিল। বাইরে কয়েকজন লোক বাড়িটিকে ঘিরে রেখেছিল। কিন্তু এবার রায়হান পালাল না।
তার কাছে প্রমাণ আছে।
চিঠি আছে।
ডায়েরি আছে।
আর আছে বহু বছরের সত্য।
সুমন বলল, “তুই যদি এখন সব নথি প্রকাশ করিস, অনেক মানুষ ধরা পড়বে।”
রায়হান বলল, “আর যারা এত বছর ভয়ে বেঁচেছে?”
মায়া তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “সত্য কখনো সহজ হয় না।”
ভোরের দিকে পুলিশ বাড়িতে এল। আগের দিনই রায়হান সব নথির কপি নিরাপদ জায়গায় পাঠিয়ে রেখেছিল।
ঘটনার তদন্ত শুরু হলো।
সুমনও নিজের বাবার পুরোনো নথি জমা দিল।
বহু বছরের গোপন সত্য অবশেষে প্রকাশ্যে এলো।
নীলার মৃত্যুর ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু হলো।
কিন্তু সবচেয়ে বড় সত্যটি ছিল অন্য জায়গায়।
সালেহ অপরাধী ছিলেন না।
তিনি বরং বহু বছর ধরে মায়া ও রায়হানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।
নীলার ডায়েরিতে তার বিরুদ্ধে যে সন্দেহ ছিল, সেটি ছিল ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
রায়হান বুঝল—
সত্য কখনো কখনো মিথ্যার মতো দেখতে হয়।
আর মিথ্যাও কখনো কখনো সত্যকে ঢেকে রাখে।