পরদিন রায়হান সেই নম্বরে ফোন করল। অনেকবার চেষ্টা করার পরও কেউ ধরল না। দুপুরে আবার ফোন এল।
“আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুরোনো সিনেমা হলের সামনে এসো।”
রায়হান সেখানে পৌঁছে দেখল, প্রায় ত্রিশ বছরের একজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। মুখে ক্লান্তি, চোখে অদ্ভুত এক সতর্কতা।
“আমার নাম আরিফ।”
রায়হান বলল, “আপনি সালেহের ছেলে?”
“হ্যাঁ।”
“আপনার বাবা কোথায়?”
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “মারা গেছেন।”
“কখন?”
“দুই বছর আগে।”
রায়হানের বুক ধক করে উঠল।
“তিনি কি আমার মাকে চিনতেন?”
আরিফ বলল, “শুধু চিনতেন না। তিনি তোমার মাকে বাঁচিয়েছিলেন।”
রায়হান অবাক হয়ে গেল।
“তাহলে নীলার ডায়েরিতে তার বিরুদ্ধে এত কথা কেন?”
আরিফ মাটির দিকে তাকাল।
“কারণ নীলা শেষ পর্যন্ত পুরো সত্য জানতে পারেনি।”
“সত্যটা কী?”
আরিফ তার হাতে একটি পুরোনো ফাইল দিল।
“এটা আমার বাবা মৃত্যুর আগে আমাকে দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘রায়হান যখন আসবে, তখন তাকে দিয়ে দিস।’”
ফাইল খুলে রায়হান একটি ছবি দেখল।
ছবিতে তার বাবা, মা, নীলা এবং সালেহ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।
ছবির তারিখ—
১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই।
রায়হান অবাক হয়ে বলল, “এই ছবি তো মায়ের নিখোঁজ হওয়ার আগের।”
আরিফ মাথা নাড়ল।
“না। এর পরের।”
রায়হানের মুখ শুকিয়ে গেল।
“তার মানে?”
আরিফ ধীরে বলল—
“তোমার মা ১৯৯৮ সালে নিখোঁজ হননি।”
“তাহলে?”
“তিনি নিজের ইচ্ছায় অদৃশ্য হয়েছিলেন।”
রায়হান কিছু বলতে পারল না।