রায়হান মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে সবকিছু জানতে চাইল। মায়া অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর বললেন, “আমি তোমার কাছে এই কথাটা কোনোদিন বলতে চাইনি।”
“কেন?”
“কারণ তুমি আমাকে যে মা হিসেবে চিনেছ, সেই মানুষটাকে হারাতে চাইনি।”
রায়হান বলল, “তাহলে সত্যিটা কী?”
মায়া জানালেন, ১৯৯৮ সালের ঘটনায় নীলার ওপর হামলার পর তিনি বুঝেছিলেন, তার পরিবার নিরাপদ নয়। কিন্তু তার চেয়েও বড় একটি সত্য তিনি জানতে পেরেছিলেন—নীলার হাতে থাকা প্রমাণের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলা একটি বড় প্রতারণার চক্রের যোগ ছিল।
“আমি তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তোমাকে নিয়ে চলে যাব।”
“কোথায়?”
“চট্টগ্রামে।”
রায়হান স্তব্ধ হয়ে গেল।
“তাহলে বাবা?”
মায়া চোখ নামিয়ে বললেন, “তোমার বাবা আমাদের খুঁজছিলেন। কিন্তু আমি চাইনি তুমি ফিরে আসো। কারণ যারা আমাদের অনুসরণ করছিল, তারা তখনও সক্রিয় ছিল।”
“তাহলে এত বছর?”
“আমি তোমাকে দূর থেকে দেখেছি।”
রায়হান তাকিয়ে রইল।
“কীভাবে?”
মায়া মৃদু হাসলেন।
“তোমার স্কুলের প্রথম দিন। তোমার প্রথম পুরস্কার পাওয়ার দিন। তোমার কলেজে ভর্তি হওয়ার দিন। এমনকি তুমি যখন প্রথম ঢাকায় চাকরি পেলে, সেদিনও আমি দূর থেকে তোমাকে দেখেছিলাম।”
রায়হানের চোখে পানি চলে এল।
“তুমি সামনে আসোনি কেন?”
মায়া বললেন, “কারণ তোমাকে ভালোবাসতাম।”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর রায়হান বলল, “তাহলে এই চিঠি?”
মায়া মাথা নাড়লেন।
“ওটা আমি লিখিনি।”
রায়হান চমকে উঠল।
“কী?”
মায়া বললেন—
“আমার হাতের লেখা নকল করা হয়েছে।”