বেশ খাটুনি যাচ্ছে অফিসে লোকবল সংকটের কারণে। মাথা ঠান্ডা রেখে হাসিমুখে কাস্টমার সার্ভিস দিচ্ছি। একদিন-দুদিন হলে আপত্তি ছিল না; কিন্তু এ যে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। জীবনীশক্তি তলানিতে এসে ঠেকেছে। বয়স চল্লিশের কোঠায়, তাতেই চোখে সমস্যা, হার্টের সমস্যা, চুল-দাড়ি পেকে যাচ্ছে হু হু করে। আবার প্রমোশনও পাই না সময়মতো; অথচ যারা কাজে ফাঁকি দেয়, তারা কিভাবে যেন ঠিকই প্রমোশন নিয়ে নেয়। তাও আফসোস থাকত না, যদি লোকবলের সংকট না থাকত।
"ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলান"—এর মতো অবস্থা। “প্রমোশন চাই না, নতুন লোক নিয়োগ দিন”—কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই আবদার এখন।
তো, এই করে দিন চলে যাচ্ছিল। কী আর করা!
একদিন এক গ্রাহক শাখায় এসে আমার চারপাশে এত ভিড় দেখে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকলেন। ভিড়টা কমে গেলে তিনি এসে আমার সামনে বসে বললেন, “আপনি সবাইকে ঠান্ডা মাথায় হাসিমুখে বিদায় দিলেন দেখে খুব ভালো লাগল। অন্য কেউ হলে এতক্ষণে রেগে যেত।”
আমাদের চাকরিটা বেশ একঘেয়ে, বিরক্তিকর; তাই সুযোগ পেলে আমি মাঝে মাঝে গ্রাহকদের সঙ্গে মজা করে একঘেয়েমি দূর করার চেষ্টা করি। তেমনি হাসিমুখে বললাম, “আমিও ভেতর ভেতর রেগে যাচ্ছিলাম। যতই রেগে যাচ্ছিলাম, ততই মুখে হাসি ফুটিয়ে রেখেছি।”
গ্রাহক আমার রসিকতা ধরতে পেরে হাসিমুখে বললেন, তাঁর নাম অ্যাডাম ডি কস্তা।
আমি আমার নাম বললাম। অন্য কেউ না থাকায় গল্প করতে করতে তাঁর কাজ করছিলাম।
তিনি জানালেন, দীর্ঘ ২০ বছর তিনি ইতালি প্রবাসী। দু’বছর পর একবার করে দেশে আসেন। দেশের এত অনিয়ম দেখে ভালো লাগে না। ইতালিতে মানুষ কত সুন্দর নিয়ম মেনে চলে।
কাজ শেষ হলে তিনি বেশ সন্তুষ্ট মনে বললেন, “আপনি একদিন অনেক ভালো অবস্থানে যাবেন।”
তাঁর কথা শুনে আমার বেশ হাসি পেল। হাসিমুখে বললাম, “আপনার আশা দেখে আমার খুব ভালো লাগল। যদিও আমি ততটা আশান্বিত নই।”
তিনি বললেন, “ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, আপনি একদিন এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে যাবেন।”
বললাম, " তিনি আপনার কথা শুনতে পাবেন না।"
"কেন, কেন?"
বললাম, “ঈশ্বর তো নিহত। আমরা তাকে হত্যা করেছি।”
তিনি আমার দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকালেন।
বললাম,“এটা আমি না, নিৎসে বলেছেন।”