ঠিকানাহীন এক চিলতে মেঘ
আমি এক ঠিকানাহীন এক চিলতে মেঘ,
বাতাসের খেয়ালে ভেসে চলা এক অন্তহীন বেগ।
যার কোনো নীল সীমানা নেই, নেই কোনো আপন ঘর,
এই ভরা পৃথিবীর মাঝেও সবাই আমার বড্ড পর।
মাথার ওপর থমকে আছে শরতের ধূসর আকাশ,
শুভ্রতার ভিড়েও সেখানে যেন এক বিষণ্ণ দীর্ঘশ্বাস।
চারিদিকে কাশের দোলা, আলোর উৎসবের মেলা,
আর আমার ভাগ্যে লেখা শুধু একলা পথের খেলা।
উদ্দেশ্যহীন হেঁটে চলি আমি, ক্লান্ত দুখানি পায়,
ধুলোবালি ওড়ে স্মৃতির পাতায়, চেনা-অচেনা রাস্তায়।
কোনো গন্তব্য নেই জানা, নেই কারো প্রতীক্ষা,
নিঃসঙ্গতার চাদর জড়িয়ে বেঁচে থাকার এই তো শিক্ষা।
বুকের ভেতর জমে আছে এক বিশাল শূন্যতার নদী,
হাহাকার করে ওঠে মন—কেউ এসে হাত বাড়িয়ে ডাকত যদি!
আপন বলতে কেউ নেই কোথাও, নেই জড়িয়ে ধরার সুখ,
ভবঘুরে এই জীবনে আমার নিয়তিই একাকীত্বের মুখ।
দিন ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামে, পাখিরা ফেরে আপন নীড়ে,
আমি শুধু হারিয়ে যাই এক নিঝুম অন্ধকারের ভিড়ে।
ঠিকানাহীন এক চিলতে মেঘের মতোই আমার গতি,
দুঃখের চাদরে নিজেকে ঢেকে কেটে যায়
এভাবেই প্রতিটি রাতি।