Novel

তুষার কন্যা পর্ব-২

September 27, 2026

8 views

এরপর রাণী রাজার হাতে বইটা তুলে দিলো এবং বলতে লাগলো

এই বইএর ১০৭ তম পৃষ্ঠায় জ্বিনটি বন্দি আছে ঐ পৃষ্ঠায় হাত রেখে তিনবার একটা দোয়া পড়তে হবে এরপর জ্বিনটাকে আমাদের ইচ্ছার কথা বলতে হবে এরপর সে একটা শর্ত দিবে এবং সেই শর্ত আমাদের পালন করতে হবে যদি শর্তটি পালন করা না হয় তাহলে যে ইচ্ছাটি পূরণ করা হবে সেটায় তো ব্যাঘাত ঘটবেই সাথে আমাদের কাছে কিছু কেরে নেওয়া হয়

রাজার যেন এসব কিছু যায় আসে না সে সমূহান পাওয়ার আশায় সব ভুলে বইটির ১০৭ তম পৃষ্ঠা খোলে পৃষ্ঠাটিতে একটা ভয়ঙ্কর অবয়বের ছবি দেওয়া রাজার আর বুঝতে বাকি রইলো না এই ছবিতে যেই অবয়বটি দেখা যাচ্ছে সেটাই আসলে তার ইচ্ছা পূরনের চাবি কাঠি অর্থাৎ সেই অবয়বটিই হচ্ছে রাণীর বলা জ্বিন

রাণী তারা তারি বলো কি পড়তে হবে

এরপর রাণী তাকে একটা দোয়া বলে দিলো। রাজা ঐ দোয়াটি তিনবার পড়লো সাথে সাথে রাজার হাতে থাকা বইটিতে আগুন লেগে গেলো এবং বইটি মুহূর্তেই আগুনে পুরে গেলো আগুনটা বেশিক্ষন টিকলো না কিছুক্ষণ জলার পরেই আগুনটা নিভে গেলো আর নিভে যাওয়া মাত্রই ছাই থেকে ধোয়া বের হতে শুরু ধোয়াটা প্রথমে হালকা ছিলো তবে তা এখন ধীরে ধীরে গারো হচ্ছে হঠাৎ ধোয়া সরে গিয়ে দৃশ্যমান হলো বইটিতে থাকা জ্বিনটি তাকে দেখে রাজা রাণী একটু ভয় পায় তবে এতটা ও না রাণী কয় ভয় পাচ্ছ কারণ সে আগে থেকেই এই বিষয়ে ধারনা রাখতো আর রাজা সন্তান পাওয়ার খুশিতে ভয় কি জিনিস তা ভুলে গেছে

তোমাদের ইচ্ছা বলো আমার কাছে সময় নেই বেশি

আসলে জ্বিনটি এত বছর পর মুক্তি পেয়েছে তাই সেও অনেক উত্তেজিত কখন সে তাদের আশা পারণ করবে আর কখন সে মুক্ত আকাশে ঘুরবে

কি হলো তারা তারি বলো জ্বিনটি কথাটা একটু ধোমকের সরেই বলল

রাজা উত্তেজিত হয়ে বলল আমাদের কোন সন্তান নেই আমাদের একটা সন্তান চাই

পাশ থেকে রাণী বলল একটা না তিনটা চাই

আসলে রাণীর অনেক শখ ছিলো তার দুই মেয়ে আর এক ছেলে হবে তবে তার সন্তানই হয়নি এত বছর তাই আজ যখনা তার সন্তান প্রাপ্তির একটা সুযগ এসেছে তখন সে কখনোইএই ইচ্ছাটাকে অসম্পূর্ণ রাখবে না

জ্বিনটি বলল ঠিকআছে যেমন আপনাদের ইচ্ছা তবে এর জন্য আমার যে কিছু চাই

রাজা বলল আমার সব ধনা সম্পদ নিয়ে নাও আমার কিচ্ছু লাগবে না একটা সন্তান লাগবে দেস

জ্বিনটি মুচকি হেসে বলল আমার তো টাকা পয়সা চাই না

কি চাই তাহলে তোমার

আমি একটা কাহিনি দেখতে চাই

কি কাহিনি বুঝলাম না ঠিক এমন একটি কাহিনি যা সম্পূর্ণ আমার ইশারায় হবে যা কিছু হবে তা শুধু আর শুধু মাত্র আমিই পরিচালনা করবো

রাণী এবার বিত্ত হয়ে বলল ভালো ভাবে বলো কিসের কাহিনি কি পরিচালনা করবে তুমি

তোমাদের সন্তানদের ভাগ্য পরিচালনা করবো আমি

কথাটা বলেই জ্বিনটি জোরে জোরে হাসতে লাগলো

ভাগ্য পরিচালনা করবে মানে

যেহেতু এই সন্তানদের আমার শক্তির জন্য পৃথিবীতে আনা হচ্ছে তাই এদের জীবনো আমি পরিচালনা করতে পারবো আর আমি এদের জীবনকে একটা রূপ কথার কাহিনিতে রূপান্তর করবো

কি বলছো এই সব কেমন পরিবর্তন করবে তুমি

সব কিছু বলছি না তবে প্রথম অংশটুকু তো বলতেই পারি

রাজা বলল তাড়াতাড়ি বলো

আপনাদের তিন সন্তান এক সাথে বড় হতে পারবে না এরা হারিয়ে যাবে শুধু একজনই থাকবে আপনাদের কাছে তবে তারো একটা অভিশাপ লাগবে

রাণী এবার ভীষণ রাগ করে চিৎকার করে উঠলো আর বলল আমি যদি আমার তিন সন্তানকে এক সাথে রাখতেই না পারি তাহলে এত সন্তান দিয়ে আমি কি করবো তুমি আমাকে একটাই সন্তান দাও

জ্বিনটি আবার বলল যদি একজন সন্তান নাও তাহলে তার যে অভিশাপটা লাগবে তা কখনোই শেষ হবে না কিন্তু তিনজন হলে আপনার সন্তানরা আবার এক হবে আর আপনাদের কাছে থাকা সন্তানের অভিশাপও কেটে যাবে

কেনো করছো এরকম তুমি অন্য কিছু নিয়ে নাও দয়া করে আমাদের একটু শান্তি দাও

ঐ যে বললামা আমি কাহিনি দেখবো তাদের জীবনে কি কি হবে কিভাবে তারা এক হবে কিভাবে অভিশাপ লাগবে এবং তা কাটবে এগুলোই তো কাহিনির মূল আকর্ষণ যেই কাহিনি ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে

রাজার এত উত্তেজনা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেলো তার সুখের সংসার যে নষ্ট হতে চলেছে তবে তার এটা ভেবে শান্তি লাগছে যে তারা একটা সন্তান হবে কি হবে যদি তাদের একটা অভিশাপই দেওয়া হয় কি এমন অভিশাপ দেবে যে তার থেকে তার সন্তান দূরে চলে যাবে কিচ্ছু হবে না আর তার বাকি দুই সন্তানও তো তাদের কাছে আবার ফিরে আসবে

রাজা শুধু এইটুকুই ভেবে জ্বিনটা বলল আমি রাজি এবার আমাকে আমার সন্তান দাও

তবে রাণী এতে বাধা দেয় তার কিছু ঠিক মনে হচ্ছে না তাই সে রাজাকে বলে হয়তো আমাদের এটা করাটা উচিত হচ্ছে না ভেবে দেখো আমার সন্তানের জীবনে কি কি বিপর্যয় ঘটবে

দেখো রাণ আমি বুঝতে পারছি কিন্তু অভিশাপ তো কেটে যাবে তাই না বলো আর আমাদের বাকি দুই সন্তানও তো ফিরে আসবে

দেখো তারপরেও আমার কিছু ঠিক মনে হচ্ছে না ততদিনে যদি কারো কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে কি হবে

ধুর এত ভেবো না

রাণী রাজার কথা মান্য করে রাজা যা বলবে তাই সই কিছু ভুল হলে রাণী তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে তবে রাজাও তার কথায় অটল থাকে তাই রাণী পিছু ফিরে আসে এবারো তার ব্যতিক্রম হলো না

অতপর জ্বিনটা মনে মনে কিছু একটা পড়ে রাণীর পেটের দিকে তার হাত বাড়ালো সাথে সাথে জ্বিনটির হাত থেকে এক নীল আলো এসে পড়ে রাণীর পেটের উপর যা কিছুক্ষণ পড়ি গায়েব হয়ে যায়

ঠিকআছে এখন তোমার গর্ভে তোমাদের সন্তান বিদ্যমান ৯ মাস যেতেই তারা পৃথিবীর আলো দেখতে পাবে এবং তার পরেই শুরু হবে তাদের জীবনের এক অদ্ভুত কাহিনি

এরপর জ্বিনটা চলে গেলো সে এখন মুক্ত বাতাসে উড়ছে আর তার লেখা কাহিনি দেখার জন্য আকুল হয়ে বসে আছে

রাত ২ টা বাজে এখন রাজা রাণীর চোখে ঘুম নেই একদিকে তাদের সন্তান হওয়ার আনন্দ আরেকদিকে সেই সন্তানের জীবন দুর্বিষহ হওয়ার কষ্ট

এখন শুয়ে পড়েন

শুলে কি লাভ ঘুম তো আসবে না আসুক আর না আসুক শুয়ে পড়েন বুলে যাইয়েন না আপনার উপর এত বড় রাজ্যের দায়িত্ব আছে

রাণী মূলত রাজার উপর তুলনা মূলক একটু রেগেছে

সে তাকে বারবার বলল এটা না করতে এখন তো সে নিজেই আপসোস করছে এখন সারা রাত পায়চারি করবে আর তার কাণের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করবে

হঠাৎ রাজার চোখ পড়ে রাণীর পেটের উপর তৎক্ষনাৎ তার মনে পড়ে এই পেটে তো তার সন্তান যার জন্য সে এত প্রার্থনা করেছে সেই প্রার্থনা তো আজ পূরণ হয়েছে আর সব তো একদিন ঠিকই হয়ে যাবে তাহলে কিসের এত কষ্ট

হয়তো রাজা এগুলো বলে নিজেকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছে তবে তার চেষ্টা সফলও হয়েছে সে বিছানার কাছে গিয়ে রাণী পেটে হাত রেখে বলল তোমরা নিশ্চিন্তে পৃথিবীতে আসো বাবা আছে কিচ্ছু হবে না

রাণী একটু মুচকি হেসে বলল হ্যাঁ চিন্তার কোন কারণ নেই একদিন তো সবি ঠিক হয়ে যাবে

এরপর তারা আরো কিছুক্ষণ গল্প করে শুয়ে পড়লো ঘুমানোর জন্য

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login