❑
স্প্রুসের সর্বোচ্চ ডালে এসে বসে একটি ম্যাগপাই। নর্ডিক ভোর তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। দূরের জলাভূমি থেকে–এক জোড়া হুপার রাজহাঁস ডেকে ওঠে। বনের ভেতর সরু পথ। দুই পাশে নরওয়েজিয়ান কনিফার, স্কটস পাইন আর রূপালি বার্চ। রাতভর পড়া তুষার এখনো ডালের গায়ে নরম সাদা স্তর হয়ে লেগে আছে। একটি লাল কাঠবিড়ালি দাঁত দিয়ে পাইনকোন ভাঙছে, নিচে সাদা বরফের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে বীজের খোসা।
ফিয়েলের ঢাল বেয়ে একটি মেয়ে হাঁটছে। তার উলের কোটের পকেটে—এক মুঠো শুকনো রেইনডিয়ার লাইকেন, একটি ধূসর হুপার রাজহাঁসের পালক, আর নানুর পুরোনো পুক্কো ছুরি—যে ছুরি দিয়ে তিনি বসন্তে কাটা বার্চের ডাল ছেঁছে শিশুদের জন্য ছোট্ট বাঁশি বানাতেন।
আজ নানু নেই।
•••
তবু পথের ধারে সেই রেইনডিয়ার লাইকেনগুলো এখনো আগের মতোই গ্রানাইটের গায়ে বিছিয়ে আছে, যেন বরফ সরে গেলেও এই উত্তরের বন কাউকে ভুলে যেতে শেখেনি।
বরফকাটা খাঁড়ির তীরে-উল্টো করে রাখা একটি কাঠের স্লেজ। গত শীতে—তার টাউ-লাইন ধরে টেনে টেনে তার ছোট ভাই হেসেছিল। এ বছর—স্লেজটি আর নড়ে না।
তবু যে মানুষ একবার
উত্তরাঞ্চলীয় পাইনবনের রেজিনের গন্ধে শীতের সকাল চিনেছে, বার্চের সাদা গায়ে হাত রেখে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ভেবেছে, আর তুষারের ওপর
একটি নেকড়ের পায়ের ছাপ দেখে—পশ্বাচারের মিউটেড অভিঘাতে—নিজের উইথড্রনকে চিনে ফেলেছে—সে জানে, কিছু কিছু বন মানুষের ভেতরেই জন্মায়। বসন্ত এলেও—সেখানকার তুষার পুরোপুরি গলে না।