Poetry

পরের অধ্যায়ে এক চেনা বৃদ্ধ

September 29, 2026

4 views

একটা পাখির পালক উড়ে যায় উঠোনের দক্ষিণ প্রান্ত ঘেঁষে,

যেমন চলে যায় কোনো স্মৃতি, অথচ মন উপচে আছে আবেশে।

বৃদ্ধ মানুষটি চায়ের কাপে ঝুঁকে পড়েন। কাপে কোনো চা নেই।

তখনও তার ঠোঁটে চায়ের তৃষ্ণা, অথচ ঘড়িটা দৌড়াচ্ছেই।

জানালায় উঁকি মেরে দেখেন,

তার সন্তানদের এখন আর সেখানে দেখা যায় না।

ভোরবেলা এক বিড়ালের ডাক শোনা গিয়েছিলো ঘরের ভেতর।

নাকি ওটা তারই বুকের মধ্যে জন্মানো অতীতের কন্ঠস্বর?

আকাশ কখনো বৃষ্টি আনে, কখনো ছেঁড়া মেঘের ভেলা।

বৃদ্ধ চুপচাপ দেখেন,

নিঃস্পৃহ ভাবনায় মনে হয় সব চোখের খেলা।

স্মৃতিময় জীবন তার কাছে এখন যেন পুরনো খসড়া খাতা।

সেখানে পড়ে আছে অসংখ্য আঁকিবুঁকির অর্থহীন হলদে পাতা।

একদিন তারও জীবনে ছিলো অসংখ্য সোনালী মনোলেখা,

তখন বুকের নদী ছিলো উচ্ছল, সে এখন শুধুই রেখা।

সন্ধ্যাবেলায়,

যখন পুরো গ্রাম ঘুমাতে যায় বিষণ্ন কাকের মতো,

তখন বৃদ্ধের চুলের মধ্যে হাজিরা দিতে আসে ঘুমের বার্তা।

যার কোনো গন্ধ নেই, তবে সে ফিসফিসিয়ে বলে কিছু শব্দ,

সেটি কেবল বৃদ্ধেরাই বোঝেন, জীবনের বোঝা বয়ে যারা স্তব্ধ।

একদিন তিনি উঠে দাঁড়ান,

খুব আস্তে আস্তে এগিয়ে যান

নিজের শূন্য ধানী জমির দিকে।

নিজেকে প্রশ্ন করেন তিনি।

কে বলেছে, বৃদ্ধেরা নিঃসঙ্গ?

তখনি জমির আগাছারা লিখে দেয় তার পায়ের পাতায়।

মানুষ মরে না, শুধু অধ্যায় বদলায়।

সবই লেখা আছে সবার ভবিতব্যের পাতায়।

একটা প্রজাপতিকে মনে পড়ে।

তাকে দেখেছিলেন আজ সকালে এক কাঁঠাল পাতায়।

জীবনের অধ্যায়গুলো তার কাছে তখনি হঠাৎ খুলে যায়।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+20 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login