চাঁদ সামলে রাখে জোছনা যখন জোনাকিরা ডানা মেলে
নিরব নিঝুম রাত —
বসে আছি মাটিকে গভীর স্পর্শ করে৷
ওদিকে জোনাকিরা এসে গায়ে
টোকা দেয়—গল্প করবে বলে৷ আমি মাথা নিচু করে থাকি৷ একটুও চোখ তুলে তাকাই না ওদের দিকে৷
ধোঁয়া সুরসুর করে এসে আশেপাশ দিয়ে ঘোরে৷
বুঝি—মনোযোগ টেনে নেবার ইচ্ছে৷ তাদের ইচ্ছে কে কিঞ্চিৎ গুরুত্ব দিই৷ জোনাকিরা অভিযোগ করে বসে৷
নিঝুম নিশির ধোঁয়া কে পাত্তা দিলে আমাদের নয় কেন?ধোঁয়া বুঝি তোমার আপন হলো বেশি আমাদের থেকে!
ঠোঁটের কোনে শামুকে ভরা হাসি নিয়ে বলি—ওমনটা কিছু নয়৷ মনের শরীরে কিছুটা অভিমান ভর করেছে —বুঝলে৷ উঠতে বসতে কেবল স্মরণ করিয়ে দেয় —চুপ থাকতে হবে৷ নইলে দু আঙুলের ডগায় নুন পরিমাণ ঝামেলা হতে পারে৷
এই লাল-নীল অভিযোগ, সামান্য অনুযোগ ইত্যাদি পাঁচ মিশেলি ফোঁড়ান৷
সামান্য অনুযোগ কম কী বলো— এসব মনে মনে বেঁধে বলি৷ জ্যোৎস্না তার কোলভরা আলো নিয়ে বসে থাকে৷ আর তার কোলে মাথা দিয়ে মনের শরীরের দুঃখ আর অভিমান খেদিয়ে দিই ধীরে ধীরে৷
মান্না দা'র ভেসে আসা সুরের ঢঙে মিনতি করে বলি " ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে " ৷
তারপর একটু একটু করে কোথা থেকে যেন ভালো লাগা উড়ে চলে আসে বাতাসে৷ সমস্ত গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়৷ চোখ, মুখ, নাক, গাল সবেতেই স্পর্শ করে৷
তরাক করে মনের গায়ে জোর এসে হাজির হয়৷ ফের সকল অভিমান, অনুযোগ, অনুরাগ ঝেরে ফেলে দিয়ে গেয়ে উঠে মন স্বয়ং " ও জোনাকি কি সুখে আজ ওই ডানা দুটি মেলেছ? "