Story

অদ্ভুত আগন্তুক

October 3, 2026

50 views

মধুপুরের শালবনের গভীরে যখন অন্ধকার নামে, তখন প্রকৃতি যেন এক আদিম নীরবতায় রূপ নেয়। ঘন শালগাছের ডালপালায় হাওয়া লেগে যে শনশন আওয়াজ ওঠে, তা শুনলে দূর থেকে মনে হয় কেউ যেন ফিসফিস করে কোনো প্রাচীন অভিশাপের কথা বলে যাচ্ছে। অক্টোবরের প্রথম দিক। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ছিল বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, যা অতিদ্রুত রূপ নিতে পারে এক প্রলয়ংকরী সাইক্লোনে। কিন্তু সেই পূর্বাভাসকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ড. অরূপ সেনগুপ্ত। ষাটোর্ধ্ব এই অধ্যাপকের জীবনের ধ্যানজ্ঞান প্রাচীন ইতিহাস আর শিলালিপি। শালবনের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের জীর্ণ ভিক্টোরিয়ান ডাকবাংলো ‘ছায়াবিথী’তে তিনি গত তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন। সঙ্গে তাঁর তরুণ সহকারী ও গবেষক সৌম্য আর বহু পুরোনো বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার ও বাবুর্চি রহমত মিয়া।

ড. সেনগুপ্তের এখানে আসার উদ্দেশ্য সাধারণ নয়। সম্প্রতি স্থানীয় আদিবাসীরা বনের এক গহীন জলাশয়ের কাছে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এক চতুর্দশ শতকের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে। লোকমুখে রটেছে, সেটি কোনো সাধারণ হিন্দু বা বৌদ্ধ মন্দির নয়; বরং এক তান্ত্রিক রাজার গোপন উপাসনালয়, যেখানে তিনি একটি রহস্যময় কৃষ্ণপাথরের মূর্তি বা সিলমোহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কথিত আছে, সেই পাথরে খোদাই করা আছে অদ্ভুত সব প্রতীক, যা ডিকোড করতে পারলে নাকি এই বনাঞ্চলের এক গুপ্তধনের সন্ধান মেলে।

বিকেল চারটা বাজতেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলো। আকাশ ভেঙে নামল অঝোর ধারায় বৃষ্টি, সাথে দমকা হাওয়া। ডাকবাংলোর পুরোনো সেগুন কাঠের জানালাগুলো বাতাসের ধাক্কায় আর্তনাদ করে উঠছে।

"স্যার, আবহাওয়া তো মোটেও সুবিধের মনে হচ্ছে না," সৌম্য কফি মগে চুমুক দিয়ে বলল। সে ড্রয়িংরুমের বিশাল ফায়ারপ্লেসের কাছে বসে ল্যাপটপে কিছু নোট গোছাচ্ছিল। "বাইরের যে অবস্থা, আজ রাতে বনের ভেতরের কাঁচা রাস্তা নিশ্চয়ই কাদা আর ধসে বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।"

ড. সেনগুপ্ত একটা ভারী চামড়ায় বাঁধানো বই থেকে মুখ তুলে চশমাটা নাকের ডগায় নামালেন। তাঁর মুখে মৃদু কৌতুকের হাসি। "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আবিষ্কারগুলো কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেই হয়েছে, সৌম্য। ভয় পেয়ো না। এই বাংলো দেড়শ বছর ধরে কত সাইক্লোন সয়েছে, আজকেও টিকে থাকবে।"

ঠিক তখনই একটা বিকট শব্দে যেন পুরো বন কেঁপে উঠল। কোথাও কোনো প্রাচীন শালগাছ ভেঙে পড়েছে। তার পরপরই একটা মৃদু ঝলকানি দিয়ে ডাকবাংলোর জেনারেটরের আলো দপ করে নিভে গেল। পুরো বাড়িটা ডুবে গেল ঘুটঘুটে অন্ধকারে।

"রহমত! হ্যারিকেনটা নিয়ে আসো," ড. সেনগুপ্ত হাঁক ছাড়লেন।

অন্ধকারের ভেতর থেকে রহমতের কাশির শব্দ আর দেশলাই জ্বালানোর খসখস আওয়াজ ভেসে এলো। সে দুটি পিতলের হ্যারিকেন জ্বালিয়ে এনে ড্রয়িংরুমের ওক কাঠের বড় গোল টেবিলটায় রাখল। হ্যারিকেনের হলুদ, কাঁপা আলোয় ঘরের আসবাবগুলোর দীর্ঘ ছায়া দেয়ালে প্রেতের মতো নাচতে লাগল। রহমতের চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। সে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, "হুজুর, এই রাইতে বনে ভালো কিছু ঘুরে বেড়ায় না। আমাদের গ্রামের বুড়ারা কয়, এমন ঝড়ের রাইতেই ‘ওরা’ মাটি ফুঁড়ে বের হয়। মেহেরবানী করে কপাট সব ভালো কইরা বন্ধ রাখতে হবে।"

সৌম্য হেসে উড়িয়ে দিতে চাইল, "রহমত চাচা, তোমার ওই ভূতের গল্প বন্ধ করো তো! অন্ধকার হলে তোমার সব জায়গায় ভূত "

সৌম্যর কথা শেষ হলো না। ঝড়ের তুমুল গর্জন, বৃষ্টির তাণ্ডব আর জানালার কাচের কাঁপুনির ভেতর থেকেও অত্যন্ত স্পষ্ট, ছন্দবদ্ধ তিনটি আঘাতের শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো ডাকবাংলোর সদর দরজায়। ঠক... ঠক... ঠক।

শব্দটা এত ভারী আর অস্বাভাবিক শান্ত যে মুহূর্তের মধ্যে ঘরের তিনজন মানুষই পাথরের মতো জমে গেল।
বাইরে যখন গাছপালা উপড়ে পড়ার মতো তুফান বইছে, বনের দশ মাইলের ভেতরে কোনো লোকালয় নেই, তখন এই ডাকবাংলোর দরজায় কে কড়া নাড়তে পারে?

"কোনো পথভ্রান্ত গ্রামবাসী হয়তো আশ্রয় চাইছে," ড. সেনগুপ্ত নিজেকে শান্ত রেখে বললেন। "রহমত, দরজাটা খোলো।"

রহমত নড়ল না। সে ভয়ে ফিসফিস করল, "না হুজুর! এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কোনো ইনসান এই গহীন জঙ্গলে আইতে পারে না। ওটা মানুষ না!"

"বাজে কথা বোলো না। মানুষ বিপদে পড়ে এসেছে, দরজা না খোলা অমানবিক হবে," ড. সেনগুপ্ত নিজেই উঠে দাঁড়ালেন। সৌম্যও তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।

ড. সেনগুপ্ত সদর দরজার ভারী পিতলের ছিটকিনি নামিয়ে এক পাল্লা ফাঁক করলেন। বাতাসের তীব্র ঝাপটায় ঘরের হ্যারিকেনের আলো প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হলো। ঠান্ডা বৃষ্টির ছাঁট তাঁদের মুখে এসে আছড়ে পড়ল। বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে একজন দীর্ঘকায় মানুষ। লোকটির পরনে একটা অদ্ভুত পুরোনো ধাঁচের কালো লম্বা ওভারকোট, যা গোড়ালি পর্যন্ত নেমে এসেছে। মাথায় চওড়া রিমওয়ালা কালো হ্যাট। হ্যাটের কানায় বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ছে, যার ছায়ায় তার মুখের উপরিভাগ প্রায় ঢাকা। লোকটির হাতে একটি ভারী, রূপোর বাঁট দেওয়া আবলুস কাঠের লাঠি। পায়ে ধুলো বা কাদার চিহ্নমাত্র নেই, যদিও পুরো বনের পথ এখন কর্দমাক্ত। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো  বাইরে এমন উন্মত্ত ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও লোকটির কাঁধ বা পোশাকে কোনো জলের ছিটেফোঁটা লেগে নেই। সে যেন এক অদৃশ্য ছাতার তলে হেঁটে এসেছে।

"হ্যালো," আগন্তুক কথা বলে উঠল।

তার কণ্ঠস্বর গভীর, ভারী, কিন্তু অস্বাভাবিক মিষ্টি ও শান্ত। সেই কণ্ঠে এমন এক অদ্ভুত অনুরণন ছিল যা কান দিয়ে নয়, যেন সরাসরি মস্তিষ্কের স্নায়ুতে গিয়ে আঘাত করে।

"বড়ই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। আমার গাড়িটা বনের কাদায় আটকে গেছে। পথ হারিয়ে এই আলোর সন্ধান পেয়ে এলাম। অনুমতি দিলে কি আজকের রাতটুকু এই আশ্রয়ে মাথা গোঁজার সুযোগ পাব?"

ড. সেনগুপ্ত কিছুটা সতর্ক হলেন, তবে তাঁর ভদ্রতা তাঁকে পিছু হটতে দিল না। "অবশ্যই। এমন রাতে কাউকে বাইরে ফিরিয়ে দেওয়া অসম্ভব। ভেতরে আসুন।" আগন্তুক ঘরের ভেতরে পা রাখল। সে কোনো শব্দ না করে ঘরে ঢুকল। ঘরের ভেতরে আসতেই রহমত এক কোণে সরে গিয়ে ভয়ে বিড়বিড় করে দোয়া পড়তে লাগল।

লোকটি হ্যাটটা মাথা থেকে খুলল। হ্যারিকেনের ম্লান আলোয় তার মুখাবয়ব স্পষ্ট হলো। তার বয়স অনুমান করা অসম্ভব। মসৃণ ত্বক, কোনো বলিরেখা নেই, কিন্তু চোখের দৃষ্টি এত গভীর ও প্রাচীন যেন সে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পৃথিবীটাকে দেখে আসছে। চোখ দুটো সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বেশি উজ্জ্বল, পিউপিলগুলো গাঢ় নীলচে-কালো। মুখে আলতো, রহস্যময় এক হাসি।

"আমার নাম মৈত্রেয়। নীলকণ্ঠ মৈত্রেয়," আগন্তুক নিজেই পরিচয় দিল।

"আমি ড. অরূপ সেনগুপ্ত। আর এ আমার সহকারী সৌম্য," ড. সেনগুপ্ত হাত বাড়িয়ে দিলেন।

মৈত্রেয় হাত মেলাল। সৌম্য খেয়াল করল, মৈত্রেয়র হাতের তালু বরফের মতো ঠান্ডা। কোনো জীবিত মানুষের শরীরের তাপমাত্রা এমন হতে পারে না।

"বসুন মিস্টার মৈত্রেয়। রহমত, ওনার জন্য গরম কফি নিয়ে এসো," ড. সেনগুপ্ত বললেন।

মৈত্রেয় সোফায় বসল। সে ঘরের চারপাশটা একবার চোখ বুলিয়ে দেখল। দেয়ালে ঝুলতে থাকা পুরোনো শিকারের ছবি, হরিণের শিং আর টেবিলে রাখা প্রাচীন পুঁথি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নকশাগুলোর ওপর তার দৃষ্টি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল।

"ধন্যবাদ ড. সেনগুপ্ত," মৈত্রেয় বলল। "তবে আমি কফি বা চা পান করি না। এই উত্তপ্ত অগ্নিকুণ্ডের উষ্ণতাই আমার জন্য যথেষ্ট।"
সৌম্যর ভেতরে এক তীব্র অস্বস্তি দানা বাঁধছিল। সে আধুনিক বিজ্ঞানের ছাত্র, ভূত-প্রেত বা অতিপ্রাকৃতিক জিনিসে তার বিশ্বাস নেই। কিন্তু এই মানুষটির আচরণ, তার নির্লিপ্ত চাহনি এবং ঝড়ের রাতে হঠাৎ উদয় হওয়াটা কোনো যুক্তির ছকে মিলছে না। টেবিলের ওপর রাখা ছিল সেই চতুর্দশ শতকের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া মাটির পাত্রের কিছু ভাঙা টুকরো এবং একটি জটিল প্রাচীন লিপির ছবি। ড. সেনগুপ্ত গত দুই দিন ধরে সেই লিপি পড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ওটা ব্রাহ্মী বা খরোষ্ঠী লিপি নয়, বরং কোনো এক হারিয়ে যাওয়া উপজাতীয় সাংকেতিক ভাষা।

মৈত্রেয় হঠাৎ সেই কাগজটির দিকে আঙুল নির্দেশ করল। "পাল রাজত্বের শেষদিকের কোনো সংকেত, তাই না ডক্টর?"

ড. সেনগুপ্ত চমকে উঠলেন। "আপনি প্রাচীন লিপি বোঝেন?"

মৈত্রেয় মৃদু হাসল। "লিপি তো মানুষের মনেরই ভাষা। যখন মানুষ কোনো কথা সাধারণের চোখ থেকে লুকাতে চায়, তখনই সে প্রতীকের জন্ম দেয়। এই সংকেতটি আসলে কোনো ভাষার বর্ণমালা নয়, এটি একটি নির্দেশিকা।"

ড. সেনগুপ্ত যেন হাতে চাঁদ পেলেন। তিনি চেয়ারটা টেনে মৈত্রেয়র কাছাকাছি নিয়ে এলেন। "আপনি কি এটা পড়তে পারছেন? আমি তো কোনোভাবেই এর সূত্র খুঁজে পাচ্ছি না।"

মৈত্রেয় কাগজটা হাতে নিল। তার ফ্যাকাশে আঙুলগুলো লিপির ওপর দিয়ে ভেসে গেল। সে খুব শান্ত গলায় পড়তে লাগল:

"যেখানে শালবনের ছায়া তিনভাগ পাথরে মেশে,

নাগকন্যার চোখ যেথা সূর্যের প্রথম কিরণ শুষে নেয়,

সেথা সুপ্ত রয়েছে অন্ধকারের রক্ষক 

যে তাকে জাগাবে, সে হারাবে তার ছায়া,

যে তাকে স্পর্শ করবে, সে হবে কালের গ্রাস।"

ঘরে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা। বাইরে ঝড়ের গর্জন যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। ফায়ারপ্লেসের আগুনের কাঠ চটচট করে ফেটে উঠল।

সৌম্য ঢোক গিলে বলল, "অন্ধকারের রক্ষক? এসব তো কুসংস্কারমূলক রূপকথা।"

মৈত্রেয় চোখ তুলে সৌম্যর দিকে তাকাল। সেই নীলচে-কালো চোখের দৃষ্টি এত তীব্র ছিল যে সৌম্য অবচেতনভাবেই দৃষ্টি সরিয়ে নিল।

"রূপকথা আর ইতিহাসের মধ্যে পার্থক্য শুধু সময়ের, তরুণ বন্ধু," মৈত্রেয় ধীরস্থিরে বলল। "যে সত্যের ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিতে পারে না, মানুষ তাকে রূপকথা বলে ব্র্যাকেটবন্দী করে স্বস্তি খোঁজে। কিন্তু সত্য তার নিজের জায়গাতেই থেকে যায়, বদলায় না।"

ড. সেনগুপ্ত উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। "মিস্টার মৈত্রেয়, আপনি কি জানেন ওই ধ্বংসাবশেষের নিচে আসলে কী আছে? স্থানীয়রা বলে সেখানে এক তান্ত্রিক রাজার গুপ্তধন লুকানো।"

মৈত্রেয়র মুখে সেই অদ্ভুত হাসিটা আবার ফুটে উঠল। তবে এবার সেই হাসিতে এক হিমশীতল ঔদাসীন্য মিশে ছিল।

"গুপ্তধন? মানুষ সবসময় সবকিছুর ভেতর সোনাদানা আর পার্থিব সম্পদের সন্ধান করে। সেখানে কোনো সোনা নেই ডক্টর। সেখানে যা আছে, তা হলো একটি 'চাবি'। এমন এক দরজার চাবি, যা গত সাতশো বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এবং বিশ্বাস করুন, সেই দরজা বন্ধ থাকাই মানবজাতির জন্য মঙ্গলজনক।"

রাত গভীর হতে লাগল। ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁইছুঁই। বাইরে ঝড় আরও তীব্র রূপ নিল। ঘরের ভেতর হ্যারিকেনের আলো ক্রমশ ম্রিয়মাণ হয়ে আসছে। রহমত এক ফাঁকে সৌম্যকে রান্নাঘরের দিকে ইশারা করে ডাকল। সৌম্য ড. সেনগুপ্ত আর মৈত্রেয়র আলোচনার মাঝখান থেকে উঠে কিচেনে গেল। কিচেনে গিয়ে সে দেখল রহমত থরথর করে কাঁপছে। তার হাতে একটা বড় ছুরি।

"কী হয়েছে রহমত চাচা? এমন করছ কেন?"

"ছোট হুজুর, সর্বনাশ হইয়া গেছে!" রহমতের গলা দিয়ে যেন আওয়াজ বের হচ্ছিল না। "ওই লোকটা... ওই লোকটা মানুষ না!"

"আবার তোমার পাগলামি শুরু হলো? উনি একজন বিদ্বান মানুষ, দেখতেই পাচ্ছ প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে ওনার গভীর জ্ঞান আছে।"

"আরে ছাই জ্ঞান!" রহমত প্রায় কেঁদে ফেলল। "আপনি ওনার পায়ের দিকে তাকাইয়া দেখছেন? ভালো কইরা দেখেন নাই! আমি যখন ওনার সামনে জলের গ্লাস রাখছিলাম, তখন দেখছি  ওনার পায়ের কোনো ছায়া নাই! ওই ফায়ারপ্লেসের এত বড় আগুন জ্বলতাছে, ঘরের সব কিছুর ছায়া দেয়ালে পড়ছে, কিন্তু ওই মৈত্রেয় সাহেবের কোনো ছায়া মেঝেও পড়ে নাই, দেয়ালেও পড়ে নাই!"

সৌম্যর মেরুদণ্ড বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। "ছায়া নেই? কী যা তা বকছ!"

"বিশ্বাস না হয় নিজের চোখে গিয়া দেখেন! আর আরেকটা কথা... আমি জানালা দিয়া দেখছি, ওনার গাড়ি আটকাইয়া যাওয়ার কথা কইল না? বাইরে কোনো গাড়িই নাই! আমাদের বাংলোর সামনের বালির রাস্তায় কোনো চাকার দাগ নাই, কোনো পায়ের ছাপ নাই! লোকটা যেন বাতাস থেইকা নাইমা আসছে!"

সৌম্যর বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। সে বিজ্ঞানের ছাত্র, যুক্তি দিয়ে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে চায়। কিন্তু মনের অবচেতন কোণে যে ভয়টা এতদিন ঘুমিয়ে ছিল, তা যেন ফণা তুলে দাঁড়াল। সে নিঃশব্দে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ড্রয়িংরুমের দরজার আড়ালে দাঁড়াল। ফায়ারপ্লেসের লেলিহান শিখা ঘরের ডানদিকের দেয়ালে আলো ফেলছে। ড. সেনগুপ্তের দীর্ঘ ছায়া স্পষ্ট কাঁপছে দেয়ালে। সোফার ছায়া আছে, টেবিলের ছায়া আছে।

কিন্তু সোফায় বসে থাকা মৈত্রেয়র শরীরের কোনো ছায়া পেছনের দেওয়ালে নেই! আগুন যেন তাকে ভেদ করে চলে যাচ্ছে, তার শরীরের কোনো অস্বচ্ছ অস্তিত্ব সেই আলোর সামনে বাধা তৈরি করতে পারছে না!

সৌম্যর গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠল। সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। সে তার পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করল। ক্যামেরা অন করে কোনো শব্দ না করে মৈত্রেয়র দিকে তাক করল। সে ছবি তুলতে চায়  ডিজিটাল সেন্সর কখনো মিথ্যা বলে না।

ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই সৌম্যর হাত থেকে ফোনটা প্রায় খসে পড়ার উপক্রম হলো। ক্যামেরার স্ক্রিনে সোফা দেখা যাচ্ছে, ড. সেনগুপ্তকে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সোফার যে অংশটায় মৈত্রেয় বসে আছে, সেই জায়গাটা সম্পূর্ণ ফাঁকা! সেখানে শুধু শূন্য বাতাস কাঁপছে!

ঠিক সেই মুহূর্তে মৈত্রেয় ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার আড়ালে থাকা সৌম্যর দিকে তাকাল। তার মুখে সেই একই শান্ত, অতিপ্রাকৃতিক হাসি। যেন সে জানত সৌম্য কী করছে।

"সৌম্য," মৈত্রেয়র কণ্ঠস্বর ঘরের বাতাস ভেদ করে সোজা সৌম্যর কানের কাছে প্রতিধ্বনিত হলো, যেন সে পাশেই দাঁড়িয়ে ফিসফিস করছে, "লেন্স কেবল দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ধরতে পারে। যা আলোর অতীত, তাকে ফ্রেমে বাঁধা যায় না।"

সৌম্য আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে কাঁপতে কাঁপতে ঘরের ভেতরে এলো। "স্যার! উঠে আসুন ওখান থেকে! স্যার, উনি মানুষ নন! ওনার কোনো ছায়া নেই, ক্যামেরায় ওনাকে দেখা যাচ্ছে না!" সৌম্য চিৎকার করে উঠল। ড. সেনগুপ্ত হতবাক হয়ে তাকালেন। "কী বলছ সৌম্য? মাথা খারাপ হলো নাকি তোমার?"

মৈত্রেয় কোনো রাগ বা বিস্ময় প্রকাশ করল না। সে খুব ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়াল। তার হাতের আবলুস কাঠের লাঠিটা মেঝের ওপর ঠুকে দিল। এক আশ্চর্য শব্দ হলো  যেন কোনো গভীর খাদের ভেতর ভারী ঘণ্টা বেজে উঠল।

মুহূর্তের মধ্যে ঘরের সমস্ত হ্যারিকেনের আগুন নীলবর্ণ ধারণ করল। ফায়ারপ্লেসের আগুন দপ করে নিভে গেল, কিন্তু ঘরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেল। চারপাশের বাতাস এত ভারী হয়ে উঠল যে ড. সেনগুপ্ত এবং সৌম্য দুজনেরই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগল। ড. সেনগুপ্ত এবার আতঙ্কিত চোখে মৈত্রেয়র দিকে তাকালেন। তিনি দেখতে পেলেন, মৈত্রেয়র পায়ের নিচে মেঝেতে কোনো ছায়া নেই।

"কে... কে আপনি?" ড. সেনগুপ্তের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে এলো।

মৈত্রেয় জানালার দিকে এগিয়ে গেল। ঝড়ের তাণ্ডব তখনও বাইরে চলছে, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মৈত্রেয় জানালার কাচে হাত রাখতেই বাইরের ঝড় যেন বশ্যতা স্বীকার করে শান্ত হয়ে এলো। বৃষ্টির তীব্রতা কমে এক ভৌতিক কুয়াশায় রূপ নিল।

"আমি কে, তা জানার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি কেন এসেছি," মৈত্রেয় শান্ত গলায় বলল। "ডক্টর সেনগুপ্ত, আজ থেকে সাতশো বছর আগে, ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দে এই শালবনের নাম ছিল মধুপুরী অরণ্য। এখানকার রাজা নরসিংহ দেব তান্ত্রিক শক্তির মোহে অন্ধ হয়ে এমন এক শক্তির উপাসনা শুরু করেছিলেন, যা এই পৃথিবীর নিয়মবিরুদ্ধ। তিনি এক উল্কাপিণ্ডের কালো পাথর কেটে তৈরি করেছিলেন 'কালভৈরবী মুদ্রা'। সেই মুদ্রা রক্ত দাবি করত। হাজারো নিরীহ মানুষের রক্তে সেই পাথরকে জাগ্রত করা হয়েছিল।"

ড. সেনগুপ্তের চোখ বিস্ফারিত হলো। "সেই চতুর্দশ শতকের মন্দির... আপনি সেই সময়ের কথা বলছেন?"

"হ্যাঁ," মৈত্রেয় ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখ দুটো এখন অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে নীলাভ আগুনের মতো। "রাজা নরসিংহ দেব ভেবেছিলেন তিনি মৃত্যুকে জয় করবেন। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের বাইরে কেউ যেতে পারে না। যখন সেই তান্ত্রিক শক্তি গোটা অঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল, তখন একদল সাধক নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে সেই মুদ্রাকে মাটির নিচে এক বিশেষ বৃত্তের ভেতর সিলগালা করে দেন। সেই সিলমোহর রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজনকে... যাকে কোনো মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না, যাকে সময়ের কোনো নদী ভাসিয়ে নিতে পারে না।"

"আপনি..." সৌম্য শুকনো গলায় বলল, "আপনি সেই রক্ষক?"

"নাম কোনো বিষয় নয় সৌম্য," মৈত্রেয় বলল। "মানুষ আমাকে যুগে যুগে নানা নামে ডেকেছে। কেউ বলেছে অমর পরিব্রাজক, কেউ বলেছে অদ্ভুত আগন্তুক, কেউ বা অপদেবতা। কিন্তু আমার একমাত্র কাজ  যে দরজা বন্ধ থাকা উচিত, তাকে বন্ধ রাখা। ডক্টর সেনগুপ্ত, আপনি কাল সকালে আপনার খননকাজ শুরু করার যে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে সেই প্রাচীন সিলমোহরটি ভেঙে যাবে। আর তা যদি একবার উন্মুক্ত হয়, তবে এই বনের অন্ধকার শুধু এই বনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা ছড়িয়ে পড়বে দূর-দূরান্তে।"

ড. সেনগুপ্ত থরথর করে কাঁপছিলেন। ইতিহাসের এক জীবন্ত, অবিশ্বাস্য সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর সমস্ত বৈজ্ঞানিক যুক্তি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

"কিন্তু... কিন্তু আমি তো শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য  "

"আমি জানি," মৈত্রেয় ড. সেনগুপ্তের কাঁধে হাত রাখল। সেই স্পর্শে কোনো উষ্ণতা ছিল না, কিন্তু এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছিল, যা ড. সেনগুপ্তের ভেতরের সমস্ত ভয়কে নিমেষে মুছে দিল। "আপনার নিয়ত খারাপ নয় ডক্টর। আপনি জ্ঞানের সন্ধানী। কিন্তু কিছু জ্ঞান মানুষের ধারণক্ষমতার বাইরে। আগুনের সৌন্দর্য দূর থেকে দেখতে হয়, তাকে স্পর্শ করতে গেলে হাত পুড়ে ছাই হয়ে যায়।"

ঘরের পরিবেশ কেমন যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে এলো। সৌম্য অনুভব করল তার চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। একটা অদ্ভুত সম্মোহনী সুবাস  চন্দন আর পুরোনো ধূপের মিশ্র গন্ধ  পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। রহমত রান্নাঘরের দরজার কাছে বসে ইতোমধ্যেই গভীর ঘুমে ঢলে পড়েছে। মৈত্রেয় ড. সেনগুপ্তের টেবিল থেকে সেই লিপির কাগজটি তুলে নিল। তারপর নিজের হাতের তালুর সামান্য ছোঁয়া দিতেই কাগজটিতে দাউদাউ করে নীল আগুন জ্বলে উঠল। কোনো ছাই অবশিষ্ট রইল না, এক নিমেষে কাগজটি বাতাসে মিলিয়ে গেল।

"কাল সকালে যখন সূর্য উঠবে," মৈত্রেয়র মোহময় কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল, "আপনারা দেখতে পাবেন জলাশয়ের ধারের সেই মাটির ঢিবি ধসে গেছে। কাদামাটি আর পাথরের নিচে চিরতরে চাপা পড়ে গেছে সেই অন্ধকার মন্দিরের প্রবেশদ্বার। আপনারা এই বন ছেড়ে চলে যাবেন। এবং এই রাতের কথা... পৃথিবীর কারও কাছে প্রকাশ করবেন না। কারণ যদি করেন, মানুষ আপনাকে উন্মাদ বলবে। সত্যের ভার বহন করার ক্ষমতা সবার থাকে না।"

সৌম্য মেঝেতে বসে পড়ছিল। সে প্রাণপণে চোখ খোলা রাখার চেষ্টা করল। সে দেখল, মৈত্রেয় তার হ্যাটটা আবার মাথায় পরল। রূপোর বাঁট দেওয়া আবলুস কাঠের লাঠিটা হাতে নিল। তারপর সে সদর দরজার দিকে হাঁটল না। সে সোজা হেঁটে গেল ডাকবাংলোর পাথরের শক্ত দেয়ালের দিকে। যেন দেয়ালটি কোনো কঠিন বস্তু নয়, কেবল এক টুকরো কুয়াশা। মৈত্রেয়র অবয়বটি সেই দেয়ালের ভেতর দিয়ে নিঃশব্দে গলে ওপারে মিলিয়ে গেল। সৌম্যর শেষ যে দৃশ্যটি মনে ছিল, তা হলো  হ্যারিকেনের নীল আলোটি আবার স্বাভাবিক হলুদ রঙে ফিরে এলো, আর দূর থেকে ভেসে এলো এক অদ্ভুত, প্রাচীন বাঁশির সুর...

তারপর শুধুই এক অতল অন্ধকার।
পরদিন সকালে যখন সৌম্যর ঘুম ভাঙল, তখন একফালি উজ্জ্বল সোনালী রোদ এসে পড়েছে তার মুখের ওপর। পাখিদের কলকাকলিতে শালবন মুখরিত। রাতের প্রলয়ংকরী ঝড়ের কোনো চিহ্নই যেন আর আকাশে নেই, কেবল ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর ভাঙা ডালপালা সাক্ষী দিচ্ছে কালকের তাণ্ডবের। সৌম্য ধড়মড় করে উঠে বসল। সে ড্রয়িংরুমের সোফায় শুয়ে ছিল। সামনেই টেবিলে বসে আছেন ড. অরূপ সেনগুপ্ত। তাঁর সামনে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। রহমত ব্যস্ত হয়ে নাশতা বানাচ্ছে রান্নাঘরে, তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে রাতের কোনো কথাই স্পষ্ট মনে করতে পারছে না  কেবল জানে কাল রাতে খুব ঝড় হয়েছিল আর সে ভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

সৌম্য ড. সেনগুপ্তের দিকে তাকাল। "স্যার! কাল রাতের সেই লোকটা... মৈত্রেয়... ওটা কি স্বপ্ন ছিল?"

ড. সেনগুপ্ত কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি নিঃশব্দে চায়ের কাপে চুমুক দিলেন। তাঁর মুখাবয়বে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। সেই অস্থির প্রত্নতাত্ত্বিক কৌতূহল যেন এক গভীর প্রজ্ঞাময় শান্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

"স্যার, আপনি কিছু বলছেন না কেন?" সৌম্য তাড়া দিল। "আমরা কি আজ সেই খননস্থলে যাব না?"

"একটু আগেই ফরেস্ট রেঞ্জার ফোন করেছিলেন সৌম্য," ড. সেনগুপ্ত শান্ত গলায় বললেন। "কাল রাতের অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ের মতো ঢল নেমে জলাশয়ের ধারের সেই পুরো টিলাটা ধসে গেছে। কয়েকশ টন কাদা আর পাথরের নিচে চাপা পড়েছে সেই প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ। ওটা আর কোনোদিন উদ্ধার করা সম্ভব নয়।"

সৌম্য স্তব্ধ হয়ে গেল।

"তাহলে... তাহলে কাল রাতের ঘটনা সত্যি ছিল? সেই অদ্ভুত আগন্তুক  "

"সৌম্য," ড. সেনগুপ্ত থামিয়ে দিলেন। তিনি টেবিলের এককোণে রাখা একটি বস্তুর দিকে আঙুল নির্দেশ করলেন। সৌম্য টেবিলের দিকে তাকাল। সেখানে রাখা রয়েছে একটি প্রাচীন, পোড়ামাটির তৈরি ছোট্ট মুদ্রা। তার ওপর খোদাই করা একটি প্রতীক  একটি প্রস্ফুটিত পদ্ম, যার কেন্দ্রে একটি চোখ আঁকা। মুদ্রাটির ঠিক পাশেই ওক কাঠের টেবিলের মসৃণ তলে একটি রূপার আংটি দিয়ে যেন কোনো কিছু গভীরভাবে খোদাই করে লেখা হয়েছে। হস্তাক্ষরটি অবিশ্বাস্যরকম সুন্দর ও রাজকীয়।

সেখানে প্রাচীন সংস্কৃতে লেখা তিনটি শব্দ, যার বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায়:

"শান্তিই একমাত্র সত্য।"

সৌম্য সেই মুদ্রাটি হাতে তুলে নিল। পাথরটা বরফের মতো ঠান্ডা, ঠিক যেমনটা ছিল সেই আগন্তুকের হাতের স্পর্শ।

ডাকবাংলোর বাইরে তখন শালবনের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ছে। সৌম্য বারান্দায় এসে দাঁড়াল। বনের মেঠোপথের দিকে তাকাল সে। কোথাও কোনো মানুষের চিহ্ন নেই, কোনো গাড়ির চাকার দাগ নেই। কেবল অসীম, আদিম অরণ্য দাঁড়িয়ে আছে হাজার বছরের রহস্যকে নিজের বুকের ভেতর সযত্নে লুকিয়ে রেখে। সৌম্য বুঝতে পারল, এই মহাবিশ্বে এমন কিছু প্রহরী আজও নিঃশব্দে ঘুরে বেড়ায়, যাদের অস্তিত্ব কোনো ইতিহাসবিদ লিপিবদ্ধ করতে পারে না, কোনো বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারে না। তারা আসে ঝড়ের রাতে অদ্ভুত আগন্তুক হয়ে, মানবতার ভারসাম্য রক্ষা করে, এবং আবার হারিয়ে যায় সময়ের অনন্ত কুয়াশায়।

 

Picked up where you left off

Comments

তানভীর হোসেন was this story’s first reader

+40 XP

    Please login to post comment. Login

  • Kabir Al Mamun 2 weeks ago

    ভাই, অঙ্কে ধন্যবাদ।

  • তানভীর হোসেন 2 weeks ago First reader

    গা ছমছমে পরিবেশ আর দারুণ সাসপেন্স! এক নিঃশ্বাসে পড়ার মতো একটি গল্প।