আমাদের সবার সাথের একহারা গড়নের
ছেলেটা উদাস থাকতে থাকতে স্কুলের
গন্ডি পেরোবার আগে সবার অলক্ষ্যে
হারিয়ে যাবার বছরখানেক পর হঠাৎ এক
মাঝরাতে আমার বাড়ি এসে বলল,
একটু ভাত খাওয়াবি আমাদের?
সাথে আরো পাঁচজন আছে। অবাক বা ভয়ে
ভয়ে খেতে দিলাম। রাত দুপুরে কোথা থেকে
এসেছিল কে জানে! কোমরে গুঁজে রাখা অস্ত্রে
আমার তখন কাঁপুনী দেখে ফেলায় মুচকি
হেসে আশ্বস্ত করে বলেছিল,
ভয় পাস নে। তুই তো আমার আপন লোক।
সাহস করে- এখন করছিস কি, জিজ্ঞেস করতেই
জ্বলজ্বলে চোখে জবাব দিয়েছিল, সমাজে
শিরিষ কাগজ ডলছি। সবাই সমান হবে।
ধনীরা কেবল শুষে খাচ্ছে গরীবের রক্ত।
আমি তখন অবাক হয়ে বলেছিলাম, ওহ তোরাই
তবে ওরা? লোকেতো তোদের ডাকাতও বলে!
জবাবে সে বলেছিল, তুই বাড়িতে কেন? তোর কি
এখানে থাকার কথা! রাজপথ ছেড়ে ঘরে লুকিয়ে
নীতিবাক্য শোনাতে আসিস না। হয় আমার
সাথে চল, নইলে রাস্তায় নাম, মিছিলে তোকেই
দরকার। পার্টিতে তোরা আসিস নি- এজন্যে
লজ্জায় তোকে বন্ধু বলিনা। আজ যদি না
আসিস, একদিন শোষকদের আস্ফালন দেখে
তুই ঠিক ঠিক আমার কথা ভাববি। দেয়ালে পিঠ
ঠেকে যাবে। সেসময় গ্রীষ্ম, বর্ষা বা হেমন্ত, বসন্তের
বছর থাকলেও শুধু শোষকেরা ঋতূ পরিবর্তন
টের পাবে, বাকীরা ক্ষুধায় সারা বছর পেটের
ভেতর তপ্ত বৈশাখ নিয়ে ঘুরবে। তখন তুই ভাববি,
এ সমাজ দেখার আগে মরে যাসনি কেন! তখন
তোর মনে পড়বে, এই দেশে যুদ্ধ হয়েছিল একদিন।
পাশের গ্রামে খালের পাড়ে তোর গুলি খাওয়া
শরীরটা আমি দেখে এসে কেঁদেওছিলাম।
তোর মৃত্যুর পর আজ কত বছর হলো?
সারাক্ষণ দেয়ালে পিঠ ঠেকা অনুভূতি। চারপাশ দেখে
আমি সত্যিই ভাবি, মরে যেতে চাওয়ার ইচ্ছাটা
এতবছর আগে তুই কেমন করে জানতি! এখন
খুব মনে পড়ে, এ দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল!