Poetry

ঘরে ফেরা

October 5, 2026

49 views

যে দিন ঘর ছেড়েছিলাম,

মা বলেছিল-

“সই-সালামতে ফিরে আসিস।”

কত সহজ ছিল কথাটা,

কতটা গভীর ছিল তার প্রার্থনা-

তখন বুঝিনি।

আমি ভেবেছিলাম,

পথ তো শেষ হয়,

দূরত্ব তো একদিন কমে আসে,

মানুষ তো ঘরে ফেরে।

কিন্তু আমার আর ঘরে ফেরা হলো না।

শহর বদলেছে,

ঠিকানা বদলেছে,

বদলে গেছে আমার চারপাশের মানুষগুলোও

শুধু বদলায়নি

মায়ের সেই অপেক্ষা।

কখনো গভীর রাতে

ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয়,

দরজার ওপাশে বুঝি মা দাঁড়িয়ে আছে,

চোখে সেই পুরোনো মায়া,

ঠোঁটে সেই একই কথা-

“ফিরে এসেছিস?”

আমি দরজা খুলতে যাই,

কিন্তু দেখি..

সামনে শুধু অন্ধকার।

তখন বুঝি,

ঘরটা আর আগের মতো নেই,

আমিও আর আগের মতো নেই।

যে উঠোনে আমার শৈশব পড়ে ছিল,

সেখানে এখন অন্য কারও ছায়া,

যে ঘরে মায়ের ডাক শুনতাম,

সেখানে এখন নীরবতা বাস করে।

অথচ আমি তো ঘর ছেড়েছিলাম

ঘরকে ভুলে যাওয়ার জন্য নয়…

একদিন অনেক কিছু নিয়ে

আবার ফিরে আসব বলে।

জীবন আমাকে ফিরতে দেয়নি।

কতবার মনে হয়েছে..

সব ছেড়ে ফিরে যাই,

মায়ের কাছে বসি,

মাথাটা তার কোলে রাখি,

বলতে চাই..

“মা, আমি ক্লান্ত।”

কিন্তু সময়ের কিছু দরজা

একবার বন্ধ হয়ে গেলে

আর খোলে না।

আজ বুঝি,

ঘর আমাকে তাড়ায়নি,

আমি ঘরকে ছেড়ে গিয়েছিলাম।

তবু কেন জানি

অভিযোগটা ঘরের বিরুদ্ধেই..

ঘর আমাকে পর করেছে।

হয়তো ঘর পর করেনি,

পর করেছে সময়,

পর করেছে দূরত্ব,

পর করেছে আমার নিজের জীবন।

তবুও শেষ রাতে

চোখ বন্ধ করলে

আমি সেই পুরোনো ঘরটাই দেখি

মায়ের মুখ দেখি,

দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা

একজন অপেক্ষমান মানুষ দেখি।

আর কানে ভেসে আসে সেই কণ্ঠ

“সই-সালামতে ফিরে আসিস।”

মা,

আমি ফিরতে চেয়েছিলাম।

সত্যিই ফিরতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু!

আমার আর ঘরে ফেরা হলো না।

Picked up where you left off

Comments

Abdul Khaiyam আবদুল খৈয়াম was this story’s first reader

+30 XP

    Please login to post comment. Login

  • এটি হয়তো কোনো প্রবাসী ভাইয়ের গল্প।মা মাটি,দেশ ছেড়ে অনেক দূরে।মায়ের সান্নিধ্যে তার কখনও আর আসা হয় না।