ভিডিওটা হয়তো অনেকেই দেখছেন। ইন্সটাগ্রামে খুব চলে। একটা বিন্দু একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র কে ঘিরে ঘুরতে থাকে। প্রতিঘূর্ণন শেষ করার পর সে অপর বিন্দুটির আরেকটু কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। দূরত্ব কমতে কমতে এই দুটি বিন্দু এতোই কাছে চলে আসে যে মনে হয় এই বুঝি তারা এক হয়ে যাবে, তবে কখনোই হয়না। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর দূরত্ব সর্বদা থাকেই। অসীম পর্যন্ত এই বিন্দুর যাত্রা চলবে কিন্তু এই দুটি বিন্দু কখনোই মিলিত হয়না, হবেনা। বিজ্ঞানের ভাষায় মনে হয় এটাকে ইনফিনিট অ্যাপ্রোচ বলে। জিনো'র অ্যাখিলিস প্যারাডক্স এর সিমিলার একটা ব্যাপার।
ভিডিওতে ব্যাপারটা দুটো মানুষ দিয়ে উপস্থাপন করতে দেখি প্রায় ই; এরা দুজন কেউ ই কখনো একসাথে হতে পারেনা। না পাওয়া ভালোবাসা! আমার এক বন্ধু ঢাবি তে পড়ে, ওর কথাবার্তা শুনে মাঝে মাঝে মনে হয় সেইম ব্যাপারটা ওর ক্ষেত্রেও হয়। বুয়েটের প্রতি ওর এতো তীব্র টান, যা ও ছাড়া কেউ ই বুঝাতে পারবেনা। ওর বুয়েটে চান্স হয়নাই। ভার্সিটির এক স্টুডেন্ট এর মা নেই, বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছে সাত বছর হতে চললো। ওর বাবার সাথে ওর দূরত্ব টাও এমন। দুজনে এক জায়গায় পৌছাতেই পারছে না। গিনিপিগ ও চাকার ভেতরে ঝুলে থাকা খাবারের পেছনে এভাবেই দৌড়ায়। এতোটা কাছে যেতে পেরেও দূরে থাকার যে বেদনা, যে অপ্রাপ্তি, তার রেশ যে কাউকে ছুঁয়ে দেয়। দিতে পারে।
অনেকটা সমান্তরাল দুটো লাইনের মতো না? কিন্তু যে দুটো বিন্দুর তৈরি করা লাইন সমান্তরাল না, যে দুটো লাইন বিপরীত দিকে চলে যায়, তাদের বেলা? যে লাইনদ্বয় আস্তে আস্তে দুদিকে যেতে থাকে, যারা আস্তে আস্তে টের পেতে থাকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে এবং দূরত্ব বাড়বেই, বাড়েই তাদের বেলা? ইনফিনিট অ্যাপ্রোচে তো দুটো বিন্দু কাছে আসতে গিয়েও আসে না, এই দুমুখী লাইনদুটোর ব্যবধান তো অনন্তকাল ধরে বাড়তে থাকে। অসীম সময়ে এদের ব্যবধান অসীম হয়ে যায়। এই না মিলিত হওয়া, এই না পাওয়া মানুষকে ছুঁতে পারেনা। এই অসমাপ্তি, এই ঘাটতি, এই অপূর্ণতা কে মানুষ সাধারণ ভাবে দেখে। বড়ই অদ্ভুত মানবজীবন আর তার নিয়মকানুন; যেখানে অপ্রাপ্তি'র থেকে বেশি মূল্য রাখে অপ্রাপ্ততার কারণগুলো। বড়ই অদ্ভুত!বড়ই বিষণ্ণ!