কর্নেল মোজামেল টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, আরাকান আর্মি বাংলাদেশে ঢুকে গুলি করে গেছে। খবর রাখো তুমি? ৭ দিনের ছুটি নিয়ে বাসায় গেছো। ফিরছো ১০ দিন পর এরকম করলে কি হবে?
জাহিদ মাথা নিচু করে আছে। নিজেকে অপরাধী মনে করছে।
জাহিদ সাহস করে বলল, আমি তো একা বর্ডার গার্ড না। বাকিরা কই ছিল?
মোজামেল এবার আরো রেগে গেলেন। উনি চেচিয়ে বললেন, বাকিরা কই ছিল? মানে? মুখে মুখে তর্ক করছো? তোমার পোষাক ও রাইফেল জমা দিয়ে বাসায় চলে যাও। তুমি ডিসমিস।
জাহিদ ভয় পেয়ে গেল। চাকরী ছেড়ে দিলে পরিবারকে চালাবে কিভাবে? তার চেয়ে বড় কথা জাহিদ বর্ডার গার্ড হয়ে যে সম্মান পায়। সেটা চলে যাবে। যা জাহিদ কখনই চায় না। জাহিদ নিজের দেশের জন্য কাজ করছে চায়।
জাহিদ মাথা নিচু করে বলল, বলুন। স্যার আমাকে কি করতে হবে?
মোজামেল এবার সিগারেট ধরালেন। উনার রাগ কিছুটা কমলো মনে হলো।
মোজামেল এবার শান্ত গলায় বললেন, এবার তোমাকে আবার গুপ্তচর হতে হবে। এবার মায়ানমার যাবে। বিচ্ছু বাহিনীর সকল তথ্য আমাদের দিবে।
জাহিদ হতাশ হয়ে মনে মনে বলল, আবার গুপ্তচর। আমি তো গুপ্তচর হতে চাই না। পরিস্থিতি কেন বার বার আমাকে সেখানে ঠেলে দিচ্ছে?
জাহিদ সাহস করে বলল, স্যার। আমি গুপ্তচর হতে পারব না। অন্যকাউকে পাঠান।
মোজামেল শান্ত স্বরে বললেন, তাহলে রাইফেল টা রেখে চলে যাও। আর আশা লাগবে না বউয়ের শাড়ির আচল ধরে বসে থাকো।
কথাটা জাহিদের ইগোতে লাগলো। মন চাইলো মোজামেল কে থাপ্পড় দিতে।।তবে সিনিয়র অফিসার তাই কিছু বললো না।
জাহিদ ভেতরে কষ্ট পাচ্ছে। নিজেকে সামলে জাহিদ বলল, ঠিক আছে আমি মায়ানমার যাবো। গুপ্তচর হবো।
মোজামেল হেসে বললেন, গুড বয়। আমি জানতাম তোমার সাহস আছে। তোমাকে দিয়েই কাজ হবে। মিশন 'হেরিজন্ট্রাল' তোমাকে দিয়েই হবে। আরেকটা মিশন করছি ইন্ডিয়ান সেভেন সিস্টারস। শিলিগুড়ি করিডর সেখানে আরমানকে পাঠিয়েছি। ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্ক খারাপ। আরমান বলেছে শিলিগুড়ি করিডরে ইন্ডিয়ান বর্ডার গার্ড বাড়িয়েছে। আর ওখান প্লান নাকি নৌপথে মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ ঢুকে আক্রমণ করবে। অলরেডি এটা দেখছি আমরা। ইন্ডিয়া বেশি বাড়াবাড়ি করলে সেভেন সিস্টারস দখল করব আমরা। আর আমাদের সাথে চাইনা আছেই।
জাহিদ বলল, টিভিতে দেখলাম রহিঙ্গারা অস্ত্র হাতে আরাকান দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। রহিঙ্গারা অস্ত্র পেল কোথায়?
মোজামেল এর ঠোঁটে একটা হাসি। মোজামেল বললেন, ওসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। আরামান রাজ্য স্বাধীন হবে বা বাংলাদেশ এর অংশ হবে। ইনশাআল্লাহ।
জাহিদ মোজামেল এর কথার কোন মানে বুঝলো না। শুধু এইটুকু ধারনা করলো বাংলাদেশ তাদের গোপনে অস্ত্র দিয়ে হেল্প করবে। যেমনটা ১৯৭১ সালে ইন্ডিয়া বাংলাদেশ এর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়ে হেল্প করেছিল।
তবে জাহিদের মনে একটা প্রশ্ন আসলো। এই যুদ্ধের শেষ কোথায়? আর এই যুদ্ধে বাংলাদেশ হেরে যায়। হাজার মানুষ মারা যাবে। তখন কি হবে?
মোজামেল তাড়াহুড়ো করে বললেন, রেডি হ জাহিদ। এখন ই জিপগাড়ি করে তোমাকে বর্ডারে ছেড়ে দেওয়া হবে। ওখান দিয়ে মায়ানমার চলে যাও। মিশনের অগ্রিম শুভেচ্ছা।
জাহিদ বলল, আচ্ছা স্যার ৫মিনিট।
জাহিদ সাইডে কক্ষের বাইরে এসে দাড়ায়। তারপর সাকিবাকে ফোন করে।
জাহিদ বলে, সাকিবা ভালো থেকো। হয়তো এটাই আমাদের শেষ কথা। তারপর আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবো।
সাকিবা বলে, এতো মন খারাপ করে কথা বলছেন কেন? আপনি ঠিক আছেন তো।
জাহিদ বলল, আমি মারা গেলে তুমি আরেকটা বিয়ে করো না। আমাকে প্রমিজ করো।
সাকিবা অবাক হয়ে বলল, হঠাৎ এসব কথা কেন? আচ্ছা তাও প্রমিজ করছি আপনার কিছু হলে আমি আর বিয়ে করব না। এখন খুশি।
জাহিদ দেখলো জিপ গাড়ি এসে পড়েছে। তাই ফোনটা কেটে দিল। তারপর কাধে ব্যাগ নিয়ে জামা চেন্জ করে সাধারন পোষাক পড়ে জিপগাড়িতে উঠে পড়লো।
সামনের পথ অজানা। এই অজানা ভয়ের দিকে জাহিদ এগিয়ে চলছে। কি হবে খোদা মালিক জানে। জাহিদের ভাগ্য তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।
সাকিবা জামা খুলে জাহিদকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু দিতে লাগলো।
জাহিদ হেসে ফেলল। সাকিবাও হাসছে। জানালার পর্দাটা বাতাসে হাল্কা নড়ছে বৃষ্টি আশার পূর্বাবাস।
সাকিবা জাহিদের কোলের ওপর বসলো। জাহিদও তাকে দুহাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
সাকিবা উদাশ হয়ে বলল, মাত্র ৭ দিনের জন্য আসলেন। আবার চলে যাবেন। কেন থেকে গেলে হয় না।
জাহিদ বলল, মন তো চায় তোমার কাছে থাকি। তবে দ্বায়িত্ব বলেও তো একটা কথা আছে। ৭দিনের ছুটি নিয়ে আসছি আজ ৮দিন হয়ে গেল। আগামীকাল ই চলে যাব। কর্নেল কি বলে কে জানেন।
সাকিবা বিরক্ত হাত নেড়ে বলল, ইন্ডিমেসির সময় কোন সংসারী আলাপ চলবে না, কোন ব্যবসায়ীক আলাপ না। শুধু রোমান্টিক গল্প করবা।
জাহিদ হেসে সাকিবাকে কোল থেকে খাটের ওপর শুইয়ে দেয়। তারপর নিজের শার্ট খুলে ফেলে।
এদিকে জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছে সেই বৃষ্টির কিছু ছিটে খোলা জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকছে। বৃষ্টি চমকে উঠছে বার বার। যেন আজ প্রকৃতি সমগ্র সুখ এই দম্পতির জন্য নিয়ে এসেছে আপন মহিমায়।
বৃষ্টির ছিটে এসে জাহিদের মুখে লাগতেই জাহিদ চোখ খুলে ফেলল। এতোক্ষণ এসব অতীত কল্পনা করছিল জাহিদ। এখন জিপে করে সীমান্তে যাচ্ছে। সেখান দিয়ে মায়ানমার যাবে। কিন্তু তার মন পড়ে আছে সাকিবার সাথে কাটানো মূহুর্তের প্রতি।
ড্রাইবার বললেন, স্যার। আমি আর যেতে পারব না। ওই যে দেখেন পাহাড়। আপনাকে পাহাড় টপকিয়ে ওপাড়ে গেলেই মিয়ানমার। বেস্ট অফ লাক।
জাহিদ দেখলো বৃষ্টি ফোটা ফোটা পড়ছে। কাধে ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়লো মাটির রাস্তায়। এদিকে জিপগাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল।
জাহিদ পাহাড়ে উঠতে লাগলো। তখনই দেখলো বিজিবির এক গার্ড রাইফেল হাতে দাড়িয়ে আছে। জাহিদ বুঝে গেল এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না।
হঠাৎ জাহিদের পেছন থেকে এক বিজিবি গার্ড আলম বলে উঠলো, এখানে কি?
জাহিদ পেছনে তাকিয়ে দেখল তার বন্ধু আলম।
আলম মজা করে বলল, এখানে কি গুলি করে দিব স্যলেন্ডার কর।
তারপর জাহিদের সাথে কোলাকুলি করলো আলম।
এখন জাহিদ ও আলম একটা চায়ের দোকানে চা খাচ্ছে।
জাহিদ বলল, ভালোলাগে না। কিছু ভালোলাগে না।
আলম মজা করে বলল, কেন ভাবীর কথা মনে পড়ে নাকি?
জাহিদ বলল, মজা বাদ। সিরিয়াস কথায় আসি। ২দিন আগে যে আরাকান আর্মি বাংলাদেশে ঢুকে একটা ১০ বছরের মেয়েকে গুলি করে মারলো। তো তোরা কিছু করলি না কেন?
আলম চায়ে চুমুক দিয়ে শান্ত গলায় বলল, গ্রামবাসী আমাদের খবর দেয় দেরীতে। আমরা খবর পেয়ে সেখানে যাই আর ৭জন আরাকান আর্মি কে গ্রেফতারও করেছি। এই পসিটিভ নিউজও তোর জানা দরকার।
জাহিদ বলল, ওরা বাংলাদেশে কেন ঢুকেছিল?
আলম বলল, রোহিঙ্গাদের সাথে ওদের অস্ত্র যুদ্ধ চলছিল। তো কিছু রহিঙ্গা বাংলাদেশ ঢুকে পড়ে। তাদের মারতে ওরা ঢুকেছিল।
জাহিদ বলল, আমি এখন মায়ানমার যাচ্ছি। আমি বিজিবির কাজ থেকে আপডেট হয়ে এখন বাংলাদেশ স্পাইতে যোগ দিয়েছি।
খুশি হয়ে আবারো জাহিকে জড়িয়ে ধরে আলম। তবে আলম জাহিদের উন্নতি দেখে হিংসা করে। সেটা প্রকাশ করে না।
চা খাওয়া শেষে জাহিদকে নিরাপদে এগিয়ে দেয় আলম। আলম শেষবিদায়ে বলে, এখান থেকে এক রাস্তা সোজা গেলেই ওপাড়ে মিয়ানমার এর রাখাইন অন্চল।
জাহিদ গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে। তার ভাগ্যে যা হবে সেটাই দেখা যাবে।
এদিকে জাহিদ চলে যাওয়ার পর আলম বিচ্ছুকে ফোন দিয়ে জানায়।
আলম বলে, বাংলাদেশ থেকে একটা গুপ্তচর যাচ্ছে ওখানে। সাবধান। আপনাদের ইয়াবা চোরাচালান, বাংলাদেশ নিয়ে কুটনৈতিক। সব বের করে বলে দিবে।
বিচ্ছু নোকিয়া ফোনটা কানে ধরে বাথটবে বসে ছিল। সব শুনে বিচ্ছু বলল, এসব গোয়েন্দা আমার ব*ল ও ছিড়তে পারবে না।
তারপর কল কেটে দিল।
তবে আলমের ভয় একটাই যদি একদিন সে ধরা পড়ে নিজের দেশের কাছে তখন কি জবাব দিবে? তার চাকরী চলে যাবে এমনকি মৃত্যুদন্ডও হতে পারে। কারন জাহিদ মাত্র রাখাইনে গিয়েছে সেখান থেকে সব তথ্য পাবে এমনকি আলমের তথ্য পাবে যে বর্ডারে ইয়াবা চোলাচালান এ আলম জড়িত। এই তথ্য যাতে না পায়। তাই আলম রাখাইনের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিজের ছন্দনাম দিয়েছে। সেটা হলো ইয়াবা স্নেক। এই নামেই তাকে চিনে।
তবুও ভয়ে আলম নিজের ফোন থেকে সিম বের করে ভেঙ্গে ফেলল। আলম মনে মনে বলল, আগে যত যা করছি বাদ। এখন আমাকে কিছুদিন অফ রাখতে হবে। জাহিদ ফিরে আসলে আবার শুরু করবো।
এদিকে বিচ্ছুকে চিন্তিত দেখা গেল। বিচ্ছু নোকিয়া ফোন দিয়ে নিজের চুলগুলো চুলাকাচ্ছে আর ভাবছে।
গোয়েন্দা আর তাকে চিনবে কিভাবে? এখনই প্লান বি বানাতে হবে। আর্মিদের ফোন করে বিচ্ছু বলে দিল। একটা গুপ্তচর ঢুকেছে দেশে। সবাই এলার্ট।
রাখাইন আর্মীদের কর্নেল অং চু বললেন, ওকে স্যার।
এদিকে জাহিদ রাখাইন রাজ্যে ঢুকে রাস্তায় হাটা শুরু করলো গন্তব্যহীন ভাবে। জাহিদের হঠাৎ মনে হলো পেছনে থাকা হলুদ জামা পড়া ছেলেটা তাকে ফলো করছে। ছেলেটা কে?
ছেলেটাকে বিপদ মনে করে জাহিদ পকেট থেকে রুমাল বের করে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল। জাহিদের মাথায় এখনও প্রশ্ন ঘুরছে ছেলেটা কে?
জাহিদ একটা পাবলিক টয়লেটে ঢুকলো। হলুদ জামা পড়া ছেলেটি সেখানে ঢুকলো। জাহিদ এবার নিশ্চিত হয়ে গেল ছেলেটা তাকে পিছু করছে। তবে ছেলেটা কে?
জাহিদ কমোডে হিসু করতে লাগলো। তখন পাশে দাড়িয়ে ছেলেটাও হিসু করছে আর জাহিদের দিকে তাকাচ্ছে। ছেলেটা হিন্দি তে বলে উঠলো, হাই। মে আপকা পিছা নেহি কররাহা। মে ইন্ডিয়া সে আয়া। আপ কেয়া ইন্ডিয়ান জাসুস হো?
জাহিদ বলল, হ্যা। আমি ইন্ডিয়ান স্পাই।
ছেলেটা এবার ডান হাত বাড়িয়ে দিল হ্যন্ডশেক এর জন্য। জাহিদ চেইন লাগিয়ে হাত না ধুলেই হ্যন্ডশেক করলো।
ছেলেটা বলল, আমার নাম অজয়। বস বলেছিল যে একজনকে পাঠাবে কাধে ব্যাগ নিয়ে যে আমাকে দেখে রুমাল পড়ে নিবে।
জাহিদ বুঝলো এবার। অজয় তাকে সেই গোয়েন্দা ভাবছে। জাহিদ ভাবলো এটার ফায়দা নিবে।
অজয় বলল, আসুন। চা খেতে খেতে গল্প করি।
পাবলিক টয়লেট থেকে বেরিয়ে দুজনে চা খাচ্ছে মাটির কাপে।
চাপে চুমুক দিয়ে অজয় বলল, বসকে একটা কল দিতে হবে। আমি এখানে আসার পর রহিঙ্গারা আমাকে বন্দুক দেখিয়ে আমার ফোন টাকা পয়সা সব কেড়ে দেয়। তখন একটা দোকান থেকে বসকে কল দিয়ে ব্যপারটা বলেছি। বস বললেন অপেক্ষা করতে লোক পাঠাবে। আর ২দিন পর আজ আপনার সাথে দেখা।
জাহিদ বলল, আমি কোন ইন্ডিয়ান স্পাই না।
অজয় একটু চমকে বলল, তাহলে কে আপনি? ইন্ডিয়ান তো?
জাহিদ ভাবলো, সত্য তো বলা যায় না। তাই ব্যপারটা ম্যনেজ করতে হবে।
জাহিদ বলল, হ্যা। ইন্ডিয়ান তবে আপনি যার অপেক্ষায় সেই লোক নই।
অজয় জাহিদের হাটুতে হাত রেখে বলল, কোন সমস্যা নাই। আমরা ভাই ভাই।
জাহিদ সন্দেহের নজরে তাকালো অজয়ের দিকে। এই ছেলেটা কি সত্যি ই ইন্ডিয়ান স্পাই? স্পাইরা তো নিজের পরিচয় বলে না। জাহিদ ভাবছে কিছু তো একটা মিসিং।
অজয় বলল, আমি আসলে নেপাল থেকে আসছি। আর প্রথমে মিথ্যা বলছিলাম।
জাহিদ এমন ভাব করলো সে আগে থেকে জানতো। জাহিদ বলল, হ্যা। আমি জানি।
অজয় এবার সাহস করে বলল, চলেন। সাইডে যাই। আমি আসলে সমকামি।
জাহিদ কি বলবে বুঝতে পারলো না। তবে এটা ক্লিয়ার হলো যে কেন অজয় তার পিছু করছিল।
জাহিদ বলল, আমি ওসব সমকামি নই।।আমার স্ত্রী আছে। আর আমি এসব করতে পারব না।
অজয় এবার পকেট থেকে পিস্তল বের করে চায়ের দোকানের চোখের দিকে তাকালো। দোকানদার চায়ের কাপ ধুতে ব্যস্ত। তাই এদিকে নজর নাই।
অজয় পিস্তলটা জাহিদের কোমড়ের পেছনে এমনভাবে দেখলো যাকে পিস্তল দেখা না যায়।
অজয় বলল, তোমাকে প্রথমেই চিনসি আমি। তুমি বাংলাদেশি স্পাই। এবার চলো বিচ্ছুর কাছে। আমি বিচ্ছুর ই লোক। এতোক্ষন তোমার সাথে প্রাংক করলাম। কারন আমি পাগলা অজয়। হাহাহাহ।
এই হঠাৎ বিপদে জাহিদ ভড়কে যায়। তবে চেহারা সেটা প্রকাশ করে না।
জাহিদ ভাবছে অজয় তাকে কিভাবে চিনলো? তার আসল পরিচয় কিভাবে জানলো? জাহিদের মনে পড়লো যে শেষবার আলমের দেখা হয়েছিল? তার মানে কি? আলম বিচ্ছুর সাথে জড়িত। হিসাব মেলানোর চেষ্টা করলো জাহিদ। তবে হিসাব মিলছে না।
এদিকে বিচ্ছুর সাথে ইন্ডিয়ান কর্নেল আজাদ সিং বৈঠক করছেন।
বিচ্ছু টেবিলে থাকা মদে চুমুক দিয়ে বলল, একজন স্পাইকে ধরা হয়েছে। ওকে এখন নিয়ে আসা হচ্ছে।
আজাদের ঠোঁটের কোনায় হাসি।
আজাদ বললেন, বাংলাদেশ একটা পুটিমাছ। ওরা প্লান করেছিল সিঁড়িগুড়ি এট্যাক করবে বোম মেরে উড়িয়ে দিবে। আমাদের সাথে শত্রুতা। তাই তো আমরা আপনার সাহায্য নিয়েছি। সরাসরি বাংলাদেশ আক্রমন করিনি। তবে আরাকান আর্মি দিয়ে করিয়েছি। আপনার আরো হেল্প লাগবে। বাংলাদেশ এর যে বন্ধু চীন। ও আপনার আরাকান আর্মিকে কিছু করতে পারবে না।
বিচ্ছু চিন্তিত হয়ে বলল, কিছু করতে পারবে না এটা ভুল। চায়না কিছু করছে না। রোহিঙ্গারা এদেশের নাগরিক না। ওরা ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশ থেকে আসা জনগন। তাই ওদের বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিসি। চায়নার মাঝে অং সন সুচি ঋন নিয়েছিল। এটা চায়নার ফেরত পেতে হবে। এজন্য চায়না আমাদের সাথে সুস্পর্ক রেখেছে।
আজাদ বলল, তাহলে আবারও বর্ডারে কোলাহল চালু রাখেন। চট্টগ্রাম বর্ডারে কোলাহল করবে রাখাইন। যত অস্ত্র লাগে আমরা দিবে। হাহাহা। বাঙালি ওরা চাইছিল সেভেন সিস্টার দখল করবে। ওদের সরকার কত সাহস। ডাইরেক্ট টিভিতে এসে হুমকি দেয়। সেভেন সিস্টারস দখল করবে। এবার কি হলো? তোমরা সামান্য বর্ডার সামান্য বর্ডার সামলাতে পারো না। আবার ইন্ডিয়া দখল করবে। যুদ্ধ হলে আমরাই জিতবো কি বলেন?
বিচ্ছু সরল উত্তর দেয় না। বিচ্ছুর ঘাড়ে ঘাম দেখা গেল। সম্ভবত মদের কারনে শরীর ঘামছে। উনি গম্ভীর হয়ে বললেন,১৯৭১ সালে পাকিস্তানরাও ভাবছিল যে বাংলাদেশ দখল করবে। ঢাকা তাদের কন্ট্রোলে ছিল৷ পরে ওরা হেরে যায়। কারন বাংলাদেশের ভূগোল খুব জটিল। এখানে যুদ্ধ করা সহজ না। সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
আজাদ হেসে বলল, আমরা তো জমি তে যুদ্ধ করব না। পরমানু মেরে দিব বাংলাদেশে। জয় হিন্দুস্তান।
বিচ্ছু আজাদের আবেগীয় কথায় খুব বিরক্ত হলেন। বিচ্ছু বলল, একটা ভিডিও দেখলাম ইন্টারনেটে কুড়িগ্রামে ইন্ডিয়ান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এর পা ধরে মাফ চাচ্ছে। কারন এখন বাঙালি আগের মতো না। আর শত্রুকে কখনও দুর্বল ভাবতে হয় না।
এই জায়গায় আজাদ অপমানিত বোধ করে চুপ হয়ে গেলেন।
এদিকে জঙ্গলের কাছে এসে পেটে পিস্তল জাহিদের হাত বেধে ফেলল অজয়। তারপর জাহিদের ব্যাগের থেকে কাপড় গেন্জি ছিড়ে জাহিদের চোখ বেধে ফেলল। জাহিদ দেখলো সব অন্ধকার। সামনের কি সেটাও অন্ধকার।
জাহিদ একটা গাড়ির শব্দ শুনলো। জাহিদকে গাড়িতে তোলা হলো। জাহিদ কোমড়ে পিস্তলের খোচা পাচ্ছে। তার মানে অজয় তাকে পিস্তল দিয়ে পয়েন্ট করে রাখসে। তবে গাড়িতে কয়জন? এসব কিছুই জানে না জাহিদ। তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য হলে আগেই করতে পারতো। সম্ভবত বিচ্ছুর কাছে নিয়ে যাচ্ছে।
গাড়ির ঝাকুনি তে বোঝা যাচ্ছে রাস্তা উচু নিচু। জাহিদ কান পেতে শুনলো অজয় ফোনে কথা বলসে কথা বলসে বার্মিজ ভাষায়। তবে কি বলসে বুঝতে পারলো না।
অজয় ফোনে বার্মিজ ভাষায় বিচ্ছুকে বলল, জাহিদকে পাইনি। আমার পেটে লাথি দিয়ে দৌড়ে পালায় গেসে। এখন পেট থেকে রক্ত বের হচ্ছে।
বিচ্ছু জানে অজয় মিথ্যা বলে মজা করে মানুষকে কনফিউজড করতে পছন্দ করে।
বিচ্ছু বলল, পাগলা অজয়। আমাকে কনফিউজড করতে পারবি না।
অজয় হেসে বলল, ঠিক বলসেন। আপনি চালাক। এখন বলেন ওর কি করব?
বিচ্ছু বলল, ফাকা জায়গায় নিয়ে গুলি করে দাও।
অজয় বলল, আপনি না বললেন আপনার কাছে নিয়ে আসতে।
বিচ্ছু ধমক দিয়ে বলল, পাগলা। সেটার দরকার নাই। প্লান বি তাকে গোডাউনে নিয়ে খুন করে ফেলো।
অজয় ধমকে ভয়ে বলল, ঠিক আছে স্যার।
এদিকে জাহিদ জানেই না। সামনে তার জীবন মৃত্যু নির্ধারিত। কত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
জাহিদের চোখ কাপড় দিয়ে বাধা। তাকে কোথায় আনা হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছে না। জাহিদ শুনলো অজয় কথা বলছে কার সাথে। বড় একটা ফ্যান ঘোরার শব্দ পাচ্ছে কানে। এটা কি কোন কারখানা?
অজয় পিস্তল লোড করলো। জাহিদ সেই শব্দও শুনলো।
অজয় তার সঙ্গীকে বলল, বুঝলে হিমালয়। একে যদি পিস্তল দিয়ে গুলি করে দেই মাথায়। তাহলে কোন কষ্ট ছাড়াই মারা যাবে। আমি আবার স্যডিস্টিক। এতো সহজে মারবো কেন?
হিমালয় বলল, তাহলে এই হাতুরীটা নেন।
জাহিদ বুঝে গেল। এখন অজয়ের হাতে হাতুরী।
অজয় হাতে হাতুরী নিয়ে হাতুরী গন্ধ শুকে দেখলো। অজয়ের এটা বদ অভ্যাস। সব কিছুর গন্ধ নাকে নিতে চায়।
অজয় বলল, আহা। কি খাটি খ্রান।
তারপরই হাতুরী দিয়ে একটা বারি দিয়ে জাহিদের হাটুতে। তীব্র ব্যথায় দাড়িয়ে থাকা জাহিদ কষ্টে বসে পড়লো সেখানে। জাহিদের হাটু থেকে রক্ত নিয়ে সেটা জিহ্বায় ছোড়ায় অজয়।
অজয় বলল, উফ। রক্তের স্বাদ খুব ভালোলাগে।
জাহিদের ব্রেইন এখন এখান থেকে বাচার রাস্তা খুজছে। জাহিদ নিজেকে বলল, হয় বাচো নয়তো মরো। ওরা সম্ভবত ২জন আছে। হাত ও চোখ বাধা। তাই পা দিয়ে ফাইট করতে হবে। এছাড়া উপায় নেই।
অজয় বলল, এবার। এবার এবার এবার।
কথাটা বলে অজয় জাহিদের কানের উপরে চুলের ওপর হাতুরী ছোয়ালো অজয়।
জাহিদ হাতুরী স্পর্শ পেয়ে আরো এলার্ট হয়ে গেল। অজয় হাত উচু করলো জাহিদের কপালে হাতুরী মারার জন্য।
তখনই জাহিদ মাথা দিয়ে অজয়ের পেটে জোরে ধাক্কা মারলো। এক ধাক্কায় অজয় পড়ে গেল ফ্লোরে তার হাত থেকে হাতুরী পড়ে গেল। তার পাশে থাকা হিমালয় জাহিদের মুখে ঘুষি মারতেই। জাহিদ বুঝে গেল হিমালয় তার ডান পাশে দাড়ানো। তাই অনুমান করে ডান পা একটা লাথি দিল ডান পাশে। অনুমান সঠিক হয়েছে লাথিটা গিয়ে লাগলো হিমালয়ের পেটের ওপর। সৈনিকদের একটা লাথিতেই তার কাজ হয়ে গেল। মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে পড়ছে হিমালয়ের। পেটে হাত দিয়ে বসে পড়লো সেখানেই। যেন দাড়ানোর ক্ষমতা নেই।
কান সরু করে শব্দ বোঝার চেষ্টা করলো জাহিদ। পায়ের শব্দ পেল। অজয় মাটি থেকে দাড়িয়েছে। জুতো খোলার শব্দ পেল। অজয় জুতা খুলে ফেলল। যাতে জাহিদ পায়ের শব্দ না পায়।
জাহিদ হাত দিয়ে হাতুরীটা মাটিতে খুজতেই সেটা পেয়ে পেল। শক্ত করে দুহাত দিয়ে হাতুরী চেপে ধরলো জাহিদ। তার মনে ভয়। তবে বাচতে হবে এটাই এখন লক্ষ্য।
গুটি গুটি পায়ে অজয় জাহিদের পেছনে এসে পড়লো। জাহিদ সেটা বুঝতে পারলো না। অজয় দেখলো জাহিদ অনুমান করে এদিক ওদিক হাতুরী ঘোরাচ্ছে। তবে তার সামনে কেউ নাই।
অজয় একটা লোহার শেকল তুলে নিল হাতে। তারপর শেকলের এক প্রান্ত হাতে পেচিয়ে নিল৷ অজয়ের প্লান পেছন দিয়ে জাহিদের গলা পেচিয়ে ধরবে।
অজয় তাই করলো জাহিদের পেছন দিয়ে আক্রমন করে জাহিদের গলা পেচিয়ে ধরলো শেকল দিয়ে। জাহিদ হঠাৎ আশা বিপদে তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে গেল। তার নিচে অজয় তার গলায় শেকল দিয়ে ফাসি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দম বন্ধ হয়ে আসছে জাহিদের। চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেল। শরীরের মাসল গুলো কেমন রক্ত হয়ে যাচ্ছে। এদিকে ক্রমশ জাহিদ গলায় চাপের তীব্রতা অনুভব করছে। যা সেকেন্ড সেকেন্ডে বেড়ে চলেছে। জাহিদের মনে হলো গলা কেটে শেকল বেরিয়ে যাবে।
তখন এতো চাপ সহ্য করতে না পেরে জাহিদের ব্রেইন অফ হয়ে গেল। জাহিদ তখন অজ্ঞান হয়ে গেল।
অজয় অবাক হয়ে দেখলো জাহিদ নড়াচড়া করছে না। তাই জাহিদকে ছেড়ে দিল।
অজয় উঠে দাড়ালো। তার হাতে এখন লোহার শেকল। অজয় বলল, কি ব্যপার এতো তাড়াতাড়ি মারা গেল। দূর মজা পেলাম না।
অজয় একটা সিগারেট ধরিয়ে বিচ্ছুকে কল দিল। অজয় ফোনে বলল, কেস সলভ সালাকে মেরে ফেলছি। এখন কি করব?
বিচ্ছু বলল, গুড। লাশটাকে গুম করে দাও। তারপর তোমার জন্য আজকে পার্টি দিয়েছি। সেটায় ইনজয় করো। মদ, নারী সব তোমার জন্য।
এদিকে জাহিদের জ্ঞান ফিরে এলো। জাহিদ শুনলো অজয় ফোনে কথা বলছে। সেই শব্দ অনুসরন করে উঠে দাড়ায় জাহিদ।
তারপর আবার হাতুরী খুজে ফ্লোরে। হাতুরী টা তুলে নিল জাহিদ। এবার শব্দ অনুসরন করে জাহিদ অজয়ের পেছনে আসলো এক টা বারি মারলো অজয়ের মাথায়। অজয়ের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল মাটিতে। অজয়ের কপায় বেয়ে রক্ত গলিয়ে পড়তে লাগলো। একটুপর অজয় মাটিতে পড়ে গেল। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে জাহিদ। এবার চোখ খুলবে কিভাবে।
এবার অজয়ের দেহটা অন্ধকারে খুজলো জাহিদ। হিমালয় বেচারা এগুলো বসে বসে দেখছে। ভাগ্যিস ফোনটা অফ হয়ে গেছে নয়তো বিচ্ছু সব বুঝে যেত। এদিকে বিচ্ছু ভাবছে এবারো অজয় হয়তো মজা করছে। তাই হঠাৎ ফোন কেটে যাওয়ার তেমন মাথা ঘামালো না।
অজয়ের পকেট থেকে গ্যাসলাইট বের করে। হাতের বাধন টা পুড়িয়ে ফেলল জাহিদ। তারপর অবশেষে নিজের চোখের বাধন খুলে আশেপাশে তাকালো। একটা তেলের গোডাউন এটা। চারিদিকে ট্রাংকে করে তেল রাখা হয়েছে।
তার সামনে পড়ে আছে অজয়ের দেহ। একটুদূরে ট্রাংকে হেলান দিয়ে হিমালয় পেটে হাত দিয়ে বসে আছে। জাহিদ দেখলো মাটিতে আধ-খাওয়া একটা সিগারেট পড়ে আছে।
সেটা তুলে নিয়ে টানতে লাগলো জাহিদ। তারপর জাহিদের মাথায় একটা প্লান আসলো। তেলের ট্রাংকগুলো হাতুরী দিয়ে ফুটো করে দিল জাহিদ। এখন সেখান থেকে তেল পড়ে পুরো গোডাউন ভরে যাচ্ছে।
হিমালয়ের পায়ের কাছে তেলের ছোয়া আসতেই হিমালয় বলে উঠলো, আমাকে বাচাও। আমি তোমাকে হেল্প করব। বিচ্ছুর ব্যপারে তথ্য দিব।
জাহিদ এসব কানে নিল না। এবার গোডাউন থেকে বের হয়ে এলো। গ্যাসলাইটা ফেললেই বড় সড় একটা আগুনের ধামাকা হবে। পুরো গোডাউন আগুনে জ্বলবে।
তবে জাহিদের হাত কাপছে। তার মানবতায় বাধা দিল। হিমায়লের সেই মায়া চোখ জাহিদকে বাধ্য করলো। জাহিদ হিমালয়কে কাধে তুলে বের করে আনলো বাইরে। তারপর বাইরে থাকা জীপগাড়িতে বসিয়ে দিল। হিমায়ল বলল, ধন্যবাদ ভাই।
তারপর জাহিদ গ্যাসলাইটে আগুন ধরিয়ে ছুড়ে মারলো গোডাউনের ভেতর। সেই আগুনের এবার ছড়িয়ে যাচ্ছে ভেতরে।
তাড়াতাড়ি জীপ গাড়িতে উঠে জাহিদ গাড়ি জোরে টান দিয়ে চালাতে লাগলো।
পেছনে ট্রাংক গুলো বিস্ফোরণ এর শব্দ হচ্ছে। জাহিদ একটার পেছনে তাকিয়ে দেখলো আগুনের ফুলকি উঠছে। ধোয়ায় পুড়ো আকাশ কালো হয়ে গেছে।
বিচ্ছু তখন নিজের আস্তানায় বসে মদ্যপান করছিল। এমন সময় দেখানে হিমালয় এসে উপস্থিত।
বিচ্ছু ঝাপছা চোখে হিমালয়কে দেখে বলল, তুই একা কেন? অজয় কই?
হিমালয় কোন কথা বললো না। নিজের জামা খুলে ফেলল। বিচছু দেখলো হিমালয় এর শরীরে বোমা লাগানো।
বিচ্ছু খানিকক্ষণ ভেবে বোঝার চেষ্টা করলো। বিচ্ছু হিমালয় এর কানের দিকে তাকিয়ে দেখলো হেডফোন। বিচ্ছু বুঝলো কেউ তার শরীরে বোম ফিট করে এখন তাকে কন্ট্রোল করছে।
বাইরে জিপে বসে আছে জাহিদ। কানে হেডফোন দিয়ে সব শুনছে। হাত থাকে বোমের রিমোর্ট। সুইচ টিপ দিলেই পুরো বিচ্ছু বাহিনীর আস্তানা উড়ে যাবে।
জাহিদ হিমালয়কে হেডফোনে শিখিয়ে দিল।
হিমালয় বলল, অজয় জাহিদকে মেরে তারপর আমাকে বোমা শরীরে লাগিয়ে পাঠায়। যাতে এখন আপনার জায়গা অজয় নিতে পারে।
বিচ্ছু দেখলো হিমালয় এর ঠোঁট কাপছে। বিচ্ছু বুঝলো কোথায়ও তো একটা গোলমাল হচ্ছে। হিমালয় বিপদে এটা ঠিক। তবে অজয়ের তো কিছু একটা হয়েছে৷
বিচ্ছু একটা কাগজে লিখলো আমি জানি তুমি বিপদে আছো। তোমার বোমার মেইন লাইন কেটে তোমাকে মুক্ত করব। একটু অপেক্ষা করো।
কাগজটা ধরলো হিমালয় এর সামনে। হিমালয় সেটা জোরে জোরে পড়ে ফেলল। আর তার সাথে তো জাহিদ ফোনে সংযুক্ত জাহিদ সব শুনেই। বোমের রিমোটে টিপ দিয়ে দিল।
আশংকা বিপদ বুঝে বিচ্ছু দৌড়ে লাফ দেয় কাচের জানালা দিয়ে। আর তখনই বোমা বিস্ফোরণ হয়। কাচের জানালা ভেঙ্গে জাহিদের জিপ গাড়ির সামনে পড়ে বিচ্ছু।
জাহিদ গাড়ি থেকে নামে। বিচ্ছুর গালে একটা কাচ ঢুকে গিয়েছিল। আর হাটুতে একটা কাচের টুকরো। সেটা বের করে বিচ্ছু। এদিকে পুরো বাড়িতে আগুন ধরে গেছে। আর বাড়ির সামনে মুখোমুখি দাড়ানো বিচ্ছু আর জাহিদ।
বিচ্ছু নিজের শার্ট খুলে ফেলল। বিচ্ছু বুঝে গেল এই জাহিদ ই তার শত্রু। এদিকে জাহিদ শার্টের কলার ভাজ করলো। মারামারির জন্য প্রস্তুতি হলো।
বিচ্ছু জাহিদকে ঘুষি মারতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। বুঝলো তার শরীরে তেমন শক্তি নাই। জাহিদ বিচ্ছুর চুল ধরে গালে ২টা থাপ্পড় দিল। বিচ্ছুর গাল লাল হয়ে গেল।
তারপর বিচ্ছুর মুখে লাথি মারতেই বেচারার গাল কেটে বেন্চের কাছে গিয়ে উল্টে পড়লো। তবুও আবার উঠে দাড়ায় বিচ্ছু রক্তমাখা থু ফেলে মাটিতে।
বিচ্ছু বলে, আমাকে মেরে ফেললে তোর কোন লাভ হবে না। তার চেয়ে ভালো সওদা করে নে। ৫০০কোটি টাকা দিব। আমাকে ছেড়ে দে।
জাহিদ বলে, তুই আরাকান আর্মিকে ফোন দিয়ে বল যুদ্ধ থামাতে।
বিচ্ছুর ফোনের কোনায় হাসি। বিচ্ছু পকেট থেকে ফোন বের করে পাবলোকে কল দেয়।
পাবলো ফোন ধরে বলে, জাহিদের বউ সাকিবা আমার সামনে তাকে কি মেরে ফেলবো?
বিচ্ছু বলে, ওয়েট না। শেষবার সাকিবার সাথে ফোনে কথা বলাও জাহিদের।
বিচ্ছু ফোন লাউড স্পিকারে দেয়।
ফোনের থেকে শব্দ আসে। সাকিবা বলছে আপনি কেন আমার থেকে লুকালেন এসব কথা। আপনার কি দরকার ছিল গুপ্তচর হওয়ার। আর আপনি এটাও জানেন না। আমি ৩মাসের প্রেগন্যন্ট।
তারপর ই সাকিবার চুল টেনে ধরে পাবলো। পাবলো পিনাকীকে বলে, ঘরের ভেতর থেকে বঠি টা নিয়ে আয়।
জাহিদ ভাবছে পাবলো ও পিনাকী জেলখানা থেকে ছাড়া পেল কিভাবে? আর তার বাসার ঠিকানাই বা জানলো কিভাবে? তখনই জাহিদের মনে পড়ে। তার ফোন টা সে পায়নি বড়ুয়া মিশনে। হয়তো সেখান থেকে তার ফোন পায় পাবলো আর তার বাসার ঠিকানা বের করে। এখন জাহিদের কাছে সব পরিষ্কার।
বিচ্ছু বলে, নে এবার আমাকে মেরে ফেল। হাহাহাহা।
জাহিদ থমকে যায়। এতোবড় আসামি তার হাতের কাছে তবে তার স্ত্রীর জন্য এখন কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না৷ রাগে কষ্টে ভেঙ্গে পড়ে জাহিদ।
বিচ্ছু ফোন করে কাকে যেন। কিছুক্ষণ পর আকাশে হেলিকপ্টার দেখা যায়। হেলিকপ্টার দড়ি ফেলে মাটিতে বিচ্ছু দড়ি ধরে চলে যায়।
সেখানে একা মাটিতে বসে থাকে জাহিদ আর চিন্তা করতে থাকে। পাবলো সাকিবার সাথে কি করছে। তাড়াহুড়ো করে জিপগাড়ি ঘুরায়। বর্ডারের দিকে রওনা দেয়।
সময় যেন থমকে গিয়েছে। জাহিদের উদ্দেশ্য বাসায় যেতে হবে। তারপর সাকিবাকে একনজর দেখবে। তাকে অবশ্যই সুস্থ অবস্থায় দেখতে চায়। এদিকে রাস্তা যেন শেষ ই হচ্ছে না। জাহিদের চোখে জল। সেটা মুছে সামনে এগোতে থাকে। কারন সৈনিকদের চোখে কখনও অশ্রু মানায় না।
#গুপ্তচর
#সিজন_৩
#রুদ্র_সিয়াম