আমি আসলে ছোটবেলা থেকেই মনস্টার,
বাল্যকালে জঙ্গলের মাঝে বিড়ালছানাকে
পুকুরে ডুবিয়ে রেখেছিলাম অনেক্ষণ,
যখন সে মেউ বন্ধ করে দিল।
যত্নসহকারে বালুর মাঝে দাফন করেছিলাম।
আমি ছিলাম আবেগহীন সত্তা,
হয়তো ৪র্থ বছরে সেই বাবা মায়ের বিচ্ছেদ
আমাকে আবেগহীন করে তুলেছিল।
দাদার কাছে আর কতটুকুই ভালোবাসা ছিল?
বাল্যকালে স্কুলে কুস্তি লড়তাম,
গলা পেচিয়ে লক করে দেওয়াই ছিল
আমার টেকনিক।
শত্রুপক্ষ হার মানলে ছেড়ে দিতাম।
দহনে দহনে রাতের আঁধারে,
কে যেন ফিসফিস করতো।
আমি শুনতাম তার কথা মনোযোগ দিয়ে,
সে বলিতো, নিজেকে শক্তিশালি করো এতোটা।
যাতে সমাজ তোমাকে ভেঙ্গে দিতে না পারে।
একবার স্কুলের দুষ্টছেলে কোন কারন ছাড়াই
আমার ওপর ক্ষেপে আমাকে মেরেছিল,
এমনকি নোংরা পড়ে থাকা সিগারেট জোর করে
মুখে ঢুকিয়ে দিয়েছিল।
৬ষ্ঠ শ্রেণিতে একটা ছেলে ছিল,
কোন কারন ছাড়াই আমাকে মারতো।
যে ছিল বলশালী আমি ছিলাম দুর্বল।
ক্লাসে আমাকে সবার সামনে মেরেছিল,
যেখানে কোন ভুল ছিল না আমার।
সেদিন আমার মনস্টার আসলো,
আমি প্রতিশোধ নিলাম।
এলাকার বড় ভাইদের দিয়ে বন্ধুকে দিয়ে
মার খাওয়ালাম তাকে।
মার খেয়ে ছেলেটা একদম সোজা হয়ে গেল,
খানিকটা চুপচাপ মানসিকভাবে ভেঙে পড়লো।
আমার খুব মায়া হলো।
তবে সেই পরবর্তীতে আমার বেস্টফ্রেন্ড হলো।
এমনকি আমার জীবন বাচিয়েছিল ডুবতে থাকা পুকুরপাড়ে।
কৈশোরে দাদা মারা গেল।
আমার চোখে অশ্রু নেই দেখে
ফুপুরা বলতে লাগিল এই ছেলে আবেগহীন।
আমিও চমকে উঠলাম নিজেকে দেখে
আসলেই তো চোখে জল না থাকাও তো পাপ।
#আবেগহীন_মনস্টার
#রুদ্র_সিয়াম