Novel

যৌদ্ধা (পর্ব ০১) রুদ্র সিয়াম

October 8, 2026

10 views

খালতো বোন নুসাইবা কল করে বলল, নানী মারা গেছে। তুই কই তাড়াতাড়ি আয়।

রিয়াদ তখন ঘুমাচ্ছি। এই মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার ঘুম চলে গেল৷ চাদরের ভেতর থেকে বের হয়ে কালো শার্ট ও কালো জুতো পড়ে নিল। ঘড়ির দিকে একনজর তাকিয়ে দেখলো দুপুর ১টা বাজে। উবারে বাইক ভাড়া করলো তাড়াতাড়ি যেতে হবে তাই। অনলাইন কাজের জন্য রিয়াদ শুরু ল্যপটপ টা নিল আর কিছু না। আর তার প্রিয় গান শোনার জন্য ব্লুটুথ এয়ারফোন।

১ঘন্টায় বাইক রিয়াদের গ্রামে এসে পৌছায়। রিয়াদ পকেট থেকে সেন্টার ফ্রেশ বের করে চিবুতে থাকে। চোখে সানগ্লাস পড়ে নেয়। কারন রাত জাগতে জাগতে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে।

গেটের কাছে আসতেই কান্নায় ভিড় পড়ে গেল। রিয়াদের ২ খালা ও তাদের ছেলেমেয়েরা কাদছে। ২খালার দুইছেলের নাম ইরান ও মকবুল। দুজনই ১ বছরের বড় ছোট। আর রিয়াদের মা ছোটবেলায় মারা যায়। তারপর আর রিয়াদ গ্রামে আসেনি। আজ ২০বছর পর আসলো।

রিয়াদ তার নানীর লাশের সামনে দাড়ালো। দূর থেকে তাকে ইরান ও মকবুল দেখে ফেলল।

ইরান বলল, দেখ রিয়াদ আসছে৷ ওর উদ্দেশ্য এখন নানীর জায়গার ভাগ নিবে। ওকে আজ রাতেই বেহেশতে পাঠিয়ে দিতে হবে।

মকবুল বলল, কোন সমস্যা নাই। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে যাবে। তখনই একটা গামছা আর মাংস কাটার চাপাতি নিব। প্রথমে গামছা নিয়ে ওর গলায় ফাঁস দিব। তারপর ওকে মেরে চাপাতি দিয়ে কেটে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দিব। দরকার হলে পরে পুলিশকে টাকা খাওয়াবো।

ইরান এগিয়ে গেল রিয়াদের দিকে। ইরান বলল, ভালো আসিস ভাই। এতো বছর পর আবার দেখা। যেহেতু এসেছিস ২দিন থেকে যা।

রিয়াদ বলল, অবশ্যই। অনেক হিসাব নিকাশ বাকি আছে।

হিসাবের কথা শুনে ইরানের মুখ মলিন হয়ে যায়। ইরান ভাবে এখানে হয়তো রিয়াদ জায়গা জমিন হিসাব করার কথা ভাবছে।

ইরান বলে, তুই কি জায়গা জমিন এর কথা বললি?

রিয়াদ মজা করে বলে, হ্যা। আম্মুর ভাগের জায়গা আমার চাই। এজন্যই আমি আসছি দরকার হলে রক্ত দিয়ে হলেও এই জায়গায় ভাগ ছাড়বো না।

গ্রামের ছেলে ইরান রিয়াদের কথা গভীরতা বুঝে না বরন্চ আরো সিরিয়াস হয়ে যায় রিয়াদের ব্যপারে।

ইরান ভেতরে সিরিয়াস হলেও বাইরে নরমাল থেকে বলে, এই জামাকাপড় চেন্জ করে নে। গোসল করে লুঙ্গি পড়ে জানাজায় চল।

রিদায় বলে, অবশ্যই।

রাত ২টা বাজে। সারাদিন মানসিক ভাবে টায়ার্ড রিয়াদ। তাই এখন ল্যপটব রেখে বিছানায় শুয়ে পড়েছে। তখনই লক্ষ্য করলো দরজায় বাইরে কার যেন ছায়া। সঙ্গে সঙ্গে রিয়াদ সতর্ক হয়ে গেল। খাটের নিচের থেকে হাত দিয়ে দেখে নিল রিয়াদ কুড়াল আছে কি না। দেখলো হ্যা আছে। একটু নিশ্চিত হলো রিয়াদ।

এদিকে দরজার বাইরে চাপাতি ও গামছা হাতে ফিসফিস করে কথা বলছে তুই ভাই ইরান ও মকবুল৷

ইরান বলল, রিয়াদ এখনও ঘুমায়নি। আরেকটু অপেক্ষা করি।

মকবুল বলল, তুমি হুদাই ভয় পাও। ও যে চিকন আমি একাই ওরে শক্তিতে হারাই দিব।

ইরান বলল, শুনেছি রিয়াদ নাকি নেশাপানি করে। যারা নেশাপানি করে তাদের কৃত্রিম শক্তি থাকে। আরেকটা কথা শত্রুকে কখনও দুর্বল ভাববি না।

মকবুল বলে, আচ্ছা ভাই।

রিয়াদ বিছানা থেকে উঠে বসে। তার ব্লুটুথ ইয়ারফোনটা নেয় কানে গুজে সেখানে গান প্লে করে। তারপর খাটের নিচ থেকে কুড়াল হাতে নিয়ে বসে৷

এদিকে আজকের আবহাওয়া ভালো নয়। প্রচুর বিজলী চমকাচ্ছে বৃষ্টি আশার পূর্বাভাস।

#যৌদ্ধা_১
#রুদ্র_সিয়াম


Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login