Novel

যৌদ্ধা (পর্ব ১০) রুদ্র সিয়াম

October 8, 2026

5 views

আসাদ কাবেরী কে দেখিয়ে বলল, এই হচ্ছে আমার বোন কাবেরী।

রিয়াদ বলল, ও আচ্ছা।

কাবেরী তখন কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিল আর চোখের পাতা না ফেলে রিয়াদের দিকে অপলক ভাবে চেয়ে ছিল। কাবেরী মনে মনে বলল, হ্যন্ডসাম ছেলে। একে পটাতে হবে।

আসাদ কাবেরীর হেডফোন খুলে দিয়ে বলল, সারাদিন খালি গান শুনোস। যা পড়তে বস।

কাবেরী আসাদের পিঠে থাপ্পড় মেরে বলল, তো তোর কী গান শুনলে? তুই পড়তে বস।

রিয়াদ মনে মনে বলল, খুব ডেঞ্জারাস মেয়ে সাবধানে থাকতে হবে এখানে।

আসাদ ঘরের ভেতরে ঢুকলেই দেখা গেল পুরো পরিবার সকালের নাস্তা করছে টেবিলে।

আসাদ পরিচয় করিয়ে দিল। আসাদ বলল, এই রিয়াদ আমার বন্ধু।।কয়েকদিন বেড়াতে এসেছে।

আসাদ রিয়াদের কানে কানে বলল, ভাই সালাম দেন সবাইকে?

রিয়াদ বলল, আমি নাস্তিক। ধর্ম বিশ্বাস করি না।

আসাদ বলল, আরে ভাই ফর্মালিটি।

রিয়াদ বলল, হোয়াটস আপ। ভালো আছেন সবাই।

সবাই হতবাক। এ কোথাথেকে এলো? কোন আদব কায়দা নাই।

আসাদের নয়ন চাচা বলে উঠলেন, তোমার বাসা কই? পরিবারে কে কে আছে?

রিয়াদ বিরক্ত হয় ব্যক্তিগত প্রশ্ন করলে। তবু ভদ্রতার খাতিরে নিজেকে সামলায়।

রিয়াদ বলল, পুরান ঢাকা থাকি।

নয়ন চাচা বললেন, আচ্ছা নাস্তা করে নাও।

রিয়াদ কোন কথা বলল না এমনিতেও তার অনেক ক্ষুদা লেগেছিল। তাই নাস্তা করে নিল।

রিয়াদকে আসাদ নিজের রুমে নিয়ে গেল। আসাদ বলল, আপনি থাকেন এখানে। কোন সমস্যা হলে জানাবেন।

রিয়াদ বলল, আচ্ছা। আমাকে কেউ বিরক্ত না করলে খুশি হবো।

আসাদ চলে যায়। রিয়াদ দরজা চাপিয়ে ফোনে টিকটক দেখতে হবে শুয়ে। এমন সময় দরজা খুলে প্রবেশ করে কাবেরী।

রিয়াদ তাড়াতাড়ি উঠে বসে।

কাবেরী বলে, কি করেন?

রিয়াদ মনে মনে, এই মেয়েটা মিশুক প্রকৃতির। সবার সাথে সহজে মিশতে পারে। তবে আমি কেন পারি না?

রিয়াদ বলল, এইতো টিকটক দেখি।

কাবেরী বলল, খেলবেন?

রিয়াদ একটু কেশে বলল, কি খেলবো?

কাবেরী বলল, ফোনের মধ্যে লুডু খেলি চলেন।

রিয়াদ বলল, আচ্ছা ঠিক আছে।

ফোনে লুডু খেলছে কাবেরী ও রিয়াদ।

কাবেরী বলল, আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই?

রিয়াদ হাসলো। উত্তর দিল না।

কাবেরী বলল, তার মানে আপনি সিঙেল। আমাকে অনেক ছেলে প্রপোজ করে পাট্টা দেই না।

রিয়াদ বলল, ভালো।

কাবেরী বলল, আপনার হাসিটা সুন্দর।

রিয়াদ বলল, জানি।

কাবেরী বলল,আচ্ছা আমি কি আপনাকে বিরক্ত করছি? করলে বলবেন। চলে যাবো।

রিয়াদ কোন উত্তর দিল না।

কাবেরী বলল, আমি আসলে ইচ্ছাকৃতভাবে লুডু খেলায় হেরে গেছি।

রিয়াদ বলল, খেলা না পারলে সবাই এমন ই বলে।

>>

এদিকে রিয়াদ এর খালতো ভাই ইরান এর কাছে খবর এলো চেয়ারম্যান বাড়িতে রিয়াদ লুকিয়ে আছে।

ইরান কোপা সামশুকে খবর দিয়ে ডাকলেন।

ইরানের সামনে বসে আছে কসাই সামশু।

ইরান বলল, ও আমার ভাই মকবুলকে খুন করেছে। তোমাকে টাকা দিলাম অর্ধেক কাজের। তবুও রিয়াদ কে খুন করলে না কেন?

সামশু বলল, আমি ভাই খুব মানসিক কষ্টে আছি। আমার মেয়ে মারা গেল। এজন্য এখন এসব ছেড়ে দিতে চাই।

ইরান বলল, অবশ্যই ছেড়ে দিবে। তবে তোমার সাথে যে আমার ডিল টা হলো ওইটা কম্পিলিট করো। তারপরের টা পরে।

সামশু বলল, আচ্ছা দেখবোনে।

ইরান বলল, কোন দেখাদেখি নাই। আজ রাতেই তুমি চেয়ারম্যান বাড়ি গিয়ে রিয়াদকে খুন করো। না হলে রিয়াদ চেয়ার ম্যান সাহায্যে নানীর জায়গায় ভাগ বসাতে আসবে। আর এই জায়গা আমি একা খাবো কাউকে দিব না।

সামশু বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে। কাজ হয়ে যাবে।

>

এদিকে হাসপাতালে ইসহাক ইন্সপেক্টর মারজান এর সাথে কথা বলছেন। এমন সময় সেখানে সামির আসলো।

ইসহাক সামিরকে বলল, উনি ম্যাডাম। আর রিয়াদকে খুজছে মকবুলকে নাকি রিয়াদ খুন করছে।

জসিম বলল, রিয়াদ এর লোকেশন পেয়ে গেছি। ও এখন ওর নানীর বাড়ির ১০ কি.মি. দূরে চেয়ারম্যান বাড়িতে আছে।

ইসহাক বলল, চেয়ার ম্যান বাড়িতে আপনাদের পুলিশরা কিছু করতে পারবেন না। আমি আর সামির সামলে নিব।

সামির বলল, আচ্ছা ম্যডাম আপনি কেন রিয়াদ মতো ছোট আসামির জন্য এতো কষ্ট করছেন?

মারজান বলল, আমার বড় মেয়ে সাবিনা তখন কলেজে পড়ে রিয়াদের সাথে। ওরা প্রেম করতো। তবে রিয়াদ ওর সাথে ফিজিক্যাল করে পরে বিয়া না করে সৌদী আরব পালিয়ে যায়। তারপর আমার সাবিনাকে দেখি সিলিং ফ্যান এর ওপর তার মৃত দেহ ঝুলছে।

কথাটা বলে গলায় আটকে উঠে মারজান। যেন এখন মৃত সাবিনার দেহ তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। উনি ভুলতে পারেন না।

সামির বলল, রিয়াদ সবাইকে ধোকা দিসে। অনেক খারাপ। তো আমরা ওকে মেরে ফেলবো।

ইসহাক সামিরকে ইশারায় চুপ হতে বলল। কারন ইসহাক জানে পুলিশের লোক চাইবে রিয়াদকে জীবিত ধরতে। তবে তাদের প্লান ভিন্ন। যা সামিরও বুঝে গেল।

ইসহাক বলল, তো আজ রাতে আমরা রিয়াদের ওখানে যাচ্ছি। দোয়া করবেন। আর পুলিশ চেকপোস্ট এ পিস্তল দেখলে যাতে আমাদের ছেড়ে দেয় সেই দ্বায়িত্ব আপনাদের।

মারজান এর মনের ভেতর খুশি ও দ্বায়িত্ব একসাথে কাজ করছে।।উনি চান রিয়াদকে খুন করতে। তবে ইন্সপেক্টর বলে সরাসরি বলতে পারেন না। কারন এটা আইনের বিরুদ্ধে।

>

রাত ১২টা বাজে। বাইরে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ। গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে সামশু চাপাতি হাতে ঘাষের ওপর হেটে চলেছে গন্তব্য চেয়ার ম্যান বাড়ি।

এদিকে পিস্তল নিয়ে বাইকে ইসহাক ও সামির ও চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে আসছে।

ঘরের ভেতর শুয়ে শুয়ে ফোন টিপসে আসাদ ফ্রি ফায়ার গেম খেলছে। এদিকে রিয়াদকে দেখা গেল চিন্তিত, মন খারাপ।

আসাদ বলল, ভাই মন খারাপ কেন?

রিয়াদ বলল, একটু মদ খেলে ভালো হতো।

আসাদ বলল, এই ব্যপার। আসাদ খাটের নিচের থেকে ফরেইন মদ বের করলো। এক চুৃুমুকে পুরো বোতল খালি করে ফেলল রিয়াদ।

মদ খাওয়ার পর রিয়াদের মুড চ্যন্জ হয়ে গেল। রিয়াদ বলল, একটা ডিজে গান বাজাও নাচবো।

আসাদ হেসে বলল, মদ খেয়ে কি পাগল হয়ে গেলেন? এতো রাতে গান বাজালে বাড়ির সবাই উঠে পড়বে। ওয়েট। এই নেন হেডফোন দিয়প গান শোনেন।

রিয়াদ হেডফোনটা নিল। তারপর গান প্লে করলো।

দেয়ারের ওপাশে ঘরের বাইরে তখন সামশু দাড়িয়ে আছে। ভেতরের কথা শোনার চেষ্টা করছে।

আসাদ বলল, আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসি।

দরজা খুলে আসাদ বাইরে বের হলো। তখনই দেখলো দূরে একটা বাইক দাড়িয়ে আছে। আসাদ পাট্টা না দিয়ে একটু দূরে গিয়ে হিসু করতে লাগলো।

এই সুযোগে খোলা গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলো সামশু। তার হাতে চাপাতি।

নাচতে নাচতে হঠাৎ রিয়াদের মনে হলো কে যেন পেছনে দাড়ালো। রিয়াদ পেছনে তাকিয়ে দেখলো একটা লোক দাড়িয়ে আছে গামছায় মুখ পেচানো।

রিয়াদ বলল, কে তুই? ডাকাত নাকি?

সামশু গামছা মুখ থেকে সড়িয়ে বলল, আমি আজরাইল।

রিয়াদ তাকে চিনে ফেলল।

এদিকে সামির ও ইসহাক বাইক থেকে নেমে আসাদের সামনে আসলো। ইসহাক বন্দুক ধরলো আসাদের কোমড়ে।

আসাদ বলল, ভাই বুঝছি এইটা বন্দুক। তবে আমাকে হিসু করতে দেন। ভয় পেলে হিসু করা যায় না।

সামির বলল, গুলি করে দেন ভাই।

ইসহাক বলল, চুপ গুলি করলে শব্দ হবে।।চাকুটা দে।

সামির চাকু দিল।

ইসহাক বলল, ওর চুপ চেপে ধর।

সামির মুখ চেপে ধরলো। ইসহাক চাকু ঢুকিয়ে দিল আসাদের কোমড়ের ভেতর।

ইসহাক বলল, এবার বল রিয়াদ কই?

এদিকে সামশু রিয়াদের হাতের কব্জিতে একটা কোপ মেরে দিল।

রিয়াদ মদে পুরো দিশেহারা। তারপর কোপ খেয়ে তার নেশা কেটে গেল।

রিয়াদ বলল, আজব। আমাকে মারছেন কেন?

এরকম সেখানে কাবেরী এসে উপস্থিত।

কাবেরী ভয়ে পা কাপতে লাগলো। কাবেরী দেখলো রিয়াদের হাত কেটে রক্ত বের হচ্ছে। পেছনে তাকিয়ে সামশু কাবেরীকে দেখে ফেলল।

কাবেরী দৌড় দিয়ে যাবে। তখনই পেছন থেকে সামশু কাবেরীর চুলের মুঠি ধরে ফেলল একহাত দিয়ে আরেক হাতের চাপাতি গলায় ধরে কাবেরীর কানে বলল, চিল্লাচিল্লি করলে গলা কেটে ফেলল।

রিয়াদ এখনও সব কিছু ঝাপছা দেখছে। রিয়াদ নিজেকে বলল, নেশা কেটে যা। এখন ফাইট করার সময়।  আমার কারনে ওর পরিবার বিপদে এখন আমাকেই বাচাতে হবে।

কাবেরীর গলায় চাপাতি ধরে আছে সামশু। তার সামনে দাড়ানো রিয়াদ।

রিয়াদ ভাবছে এখন সে কি করবে? কিভাবে কাবেরীকে বাচাবে?

রিয়াদ দু হাত উচু করে স্যলেন্ডার করে বলল, ওরে ছেড়ে দাও। আমাকে মেরে ফেলো।

তারপর হাটু গেড়ে চোখ বন্ধ করে রিয়াদ বসে পড়লো।

সামশু কাবেরীকে ছেড়ে রিয়াদ এর কাছে এগিয়ে গেল। রিয়াদ সামশুর পায়ের শব্দ শুনছে। এই যে এক পা, দুই পা তিন পা। এবার সামশু তার সামনে। সামশু চাপাতি উঠালো কোপ দেওয়ার জন্য।

তখনই রিয়াদ সামশুর পেটে জোরে ঘুষি মারলো। সামশুর দম বন্ধ হয়ে আসলো। হাত থেকে চাপাতি ছেড়ে দিল। সেটা রিয়াদ ধরেই চাপাতিটা দিয়ে সামশুর গলায় কোপ দিল। ভয়ে কাবেরী চোখ বন্ধ করে ফেলল। রক্ত ছিড়ে পড়লো রিয়াদের মুখে।

এক হাত দিয়ে রিয়াদ নিজের মুখের রক্ত মুছে ফেলল। রিয়াদ বলল, কাবেরী তুমি চলে যাও।

কাবেরী বলল, আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না।

রিয়াদ মনে মনে বলল, অল্প বয়সী কিশোরী মেয়েদের এই একটা সমস্যা। তারা আবেগ দিয়ে চলে বিবেক দিয়ে না।

এদিকে তখন ঘরে প্রবেশ করলো সামির ও ইসহাক। ইসহাক আসাদের মাথায় বন্দুক থেকিয়ে রেখেছে।  আসাদের কোমড়ে চাকু মারা হয়েছে। তাই আসাদ ঠিক মতো দাড়াতে পারছে না৷ তাদের দেখে কাবেরী ভয়ে রিয়াদের পেছনে লুকায়।

কাবেরী ইসহাককে বলে, আমার ভাইকে কেন বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছেন?

ইসহাক বলল, রিয়াদ আমাদের টাকা ফিরিয়ে দে। আমরা আসাদকে ছেড়ে দিব।

সামির বলল, মাটিতে এটা কার লাশ পড়ে আছে?

রিয়াদ উত্তর দিল না। রিয়াদ তার হাতে থাকা চাপাতি পেছনে লুকিয়ে ধরে আছে।সেটা ইসহাক এর নজরে পড়লো।

ইসহাক বলল, চাপাতি ফেলে দে। নয়তো আসাদকে গুলি করে দিব।

রিয়াদ চাপাতি না ফেলে আক্রমণ করে দিল। রিয়াদ চাপাতি দিয়ে ইসহাক হাত কেটে ফেলল কব্জি পর্যন্ত।  হাতে থাকা বন্দুক সহ কাটা হাত ফ্লোরে পড়ে যায়। এই সুয়োগে আসাদ সামিরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

ইসহাক এখন এক হাত দিয়ে ফাইট করবে রিয়াদের সাথে। ভয়ে কাবেরী খাটের নিচে লুকায়। সামিরের সাথে ফাইট করছে আসাদ।

আসাদ সামির পেটে কয়েকটা ঘুষি দিল। সামির মাটিতে বসে পড়ে। রিয়াদ ইসহাক কে কোপ মারতে যায়। ইসহাক সরে গিয়ে পা দিয়ে লাথি দেয় রিয়াদের হাতে চাপাতি দূরে গিয়ে পড়ে। তারপর বা হাত দিয়ে রিয়াদের মুখের ওপর স্বজোরে ঘুষি দেয়। নাক ফেটে রিয়াদের রক্ত বের হতে থাকে।

রিয়াদ উঠে দাড়ায় আর ইসহাকের পেটে লাথি দেয়। তারপর ইসহাক এর চুল ধরে হাটু দিয়ে ইসহাক মুখে স্বজোরে মারে। নাক ফেটে রক্ত পড়তে থাকে ইসহাকের।

এদিকে সামির উঠে চাপাতি টা তুলে নেয়। তারপর আসাদের ঘাড়ে একটা কোপ বসিয়ে দেয়। কোপ খেয়ে আসাদ ব্যথায় কোকড়াতে থাকে। সামির আসাদের পেটে লাথি দিতেই আসাদ ছিটকে দূরে পড়ে।

এবার সামির রিয়াদকে পেছন থেকে পিঠে কোপ মারে। সঙ্গে সঙ্গে পিঠ কেটে রক্ত বের হতে থাকে। সেই সঙ্গে ইসহাক রিয়াদের মুখের ঘুষি মারতেই রিয়াদ নক আউট হয়ে যায়। অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় মাটিতে।

ইসহাক বলে, এবার খাটের নিচ থেকে ওর গার্লফ্রেন্ড কে বের কর। আজকে রক্তের বর্না বইবে।

চুলের মুঠি ধরে সামির কাবেরী কে খাটের নিচ থেকে বের করে। অনেক চেষ্টা করেও কাবেরী নিজেকে ছাড়াতে পারে না। কারন পুরুষের বল অনেক।

নিজের বোনকে বানানোর জন্য পা টেনে টেনে আসাদ এগিয়ে যায় সামিরের কাছে। সামির তার হাতে থাকা চাপাতি ছুড়ে দেয় ইসহাকের হাতে। ইসহাক ক্যাচ ধরে  বা হাত দিয়ে। তারপর এক কোপে আসাদের মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করে নেয়। যেন এক রক্ত বন্যা বয়ে যায় পুরো ঘরে।

রিয়াদ তখনও পড়ে ছিল ফ্লোরে। রিয়াদ অজ্ঞান হয়ে দেখলো তার সামনে পুরো অন্ধকার। কোথাও আলো নাই। একটা আলো তার দিকে আসছে। সেটা তার বাবা। রিয়াদ তার বাবাকে বলল, এখন আমি কি করব?

তার বাবা বলল, পরিস্থিতি থেকে কখনই পালিয়ে বাচা যায় না। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। তুমি বাস্তবে ফিরে যাও। এখন মৃত্যুর সময় নয় বাচার সময়।

রিয়াদ বলে, তবে আমি তো বাচতে চাই না। আমার কেউ নাই। না পরিবার, না আছে সমাজ। তুমিও নাই মা ও নাই। বেচে কি করব?

বাবা বললেন, যার কেউ নাই তার আছে আল্লাহ।

রিয়াদ বলল, আমি গড বিশ্বাস করি না।

বাবা বললেন, একারনেই তোমার মনে শান্তি নাই। বিশ্বাস করো আর নিজেকে তার কাছে সনার্পন করো।  বলো আল্লাহ সর্বশক্তিমান।

রিয়াদ বলল, আল্লাহ সর্বশক্তিমান।

তখনই রিয়াদ বাস্তবে ফিরে এলো। রিয়াদ দেখলো কাবেরীর চুল ধরে আছে সামির। খোকা তাকে চাপাতি দিয়ে মারতে যাবে। তখনই রিয়াদ লক্ষ্য করে খাটের নিচে পিস্তল টা পড়ে আছে। রিয়াদ খাটের নিচ থেকে পিস্তল বের করে হেডশট মারলো ইসহাককে। তারপর সামিরকেও হেডশট মেরে দিল।

কাবেরী মুখে রক্ত ফিটে পড়লো। তার চুল রক্তে লাল হয়ে গেছে।

কাবেরী দৌড়ে আসাদের কাছে গেল। তার মৃত ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাদছে কাবেরী।

রিয়াদ জানে না কিভাবে সান্তনা দিতে হয়।

কাবেরীর কাধে রিয়াদ হাত রাখলো। কাবেরী রেগে হাত সড়িয়ে দিয়ে বলল, আপনার জন্যই এসব হইসে।।আপনার জন্য আমার ভাই মারা গেল। আমি আপনাকে ঘৃনা করি আপনি চলে যায়।

রিয়াদ বুঝলো তাকে কেউ কখনও ভালোবাসবে না। হয়তো সে ঘৃনার ই যোগ্য।

তাই রিয়াদ ঘৃনা নিয়ে বাচতে চাইলো না।

রিয়াদ বলল, আমি আজীবন খারাপ কাজ করেছি। তবে একটা ভালো কাজ করেছি। আমরা (সামির, ইসহাক,রিয়াদ) যে টাকা চুরি করেছিলাম সেটা আমি মাদ্রাসায় এতিম ছেলেদের দান করে দিয়েছি। এখন আমার বেচে থাকার ইচ্ছা নাই।

কাবেরী বুঝলো সে রিয়াকে খারাপ ভাবলেও মনের দিক দিয়ে ভালো। তবে ভাইয়ের মৃত্যুতে কাবেরী কেপে উঠেছে।

রিয়াদ বন্দুক দিয়ে নিজের মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করতে যাবে। তাই চোখ বন্ধ করে ফেলল। তখন কাবেরী তাকে জড়িয়ে ধরলো।

কাবেরী মনে মনে বলল, আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে এই মানুষটাকে ভালো করে দিব।

রিয়াদ হাত থেকে বন্দুক ফ্লোরে পড়ে গেল। রিয়াদ কোন রিয়েক্ট করছে না। এই ভালোবাসা যা রিয়াদ এতো বছর ধরে খুজছিল। অবশেষে রিয়াদ সত্যিকার ভালোবাসা পেল। তবে রিয়াদ জানে সে ভালোবাসার যোগ্য না। তাই কাবেরী কে দূরে ঠেলে দিল।

কাবেরী অবাক হয়ে বলল, কি হয়েছে?

রিয়াদ বলল, আমি খারাপ ছেলে। তুমি আমার থেকে ভালো ছেলে ডিজার্ব করো।

তারপর রিয়াদ বেরিয়ে পড়লো। এখন সে কোথায় যাবে নিজেও জানে না।

রিয়াদের এই ভয়ানক জীবনে রিয়াদ কাউকে জড়াতে চায় না। হয়তো রিয়াদের বাকি জীবন এভাবেই কাটবে। একদিকে তীব্র ভালোবাসা চায়। আরেকদিকে রিয়াদ নিজেকে যোগ্য ভাবে না।

রিয়াদ ঘরের বাইরে এসে দাড়ায়। আকাশে তাকিয়ে রাতের তারা দেখে। তারপর পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরায়। রিয়াদ মনে মনে বলে, এই অন্ধকার কি কখনও দূর হবে না। আমাকে কি পালিয়ে বেড়াতে হবে?

কাবেরী পেছন থেকে বলে, কেন আমার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিলে?

রিয়াদ সিগারেটে ধোয়া ছাড়ে আকাশে কোন উত্তর দেয় না।

এদিকে রিয়াদের খালতো ভাই ইরানের ঘুম ভেঙ্গে যায় টেনসনে। ইরান পাশের টেবিল থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে পান করে। ইরান ভাবে, সামশুকে যে রিয়াদকে খুন করতে পাঠালাম। ও কি সফল হয়েছে নাকি মারা গেছে?

চিন্তায় ইরানের ঘুম হয় না। তাই দরজা খুলে বাইরে এসে দাড়ায়। ইরান একটা সিগারেট ধরায়। আকাশে তাকিয়ে ইরান বলে, এসব সামশু দিয়ে কাজ হবে না। আমি নিজ হাতে রিয়াদকে খুন করবো আমার ভাই মকবুলের হত্যার প্রতিশোধ নিব। যতদিন না প্রতিশোদ নিব আমার রাতে ঘুম আসবে না। আমি ঘুমাতে পারি না। 

সিগারেটেও ইরানের দুশ্চিন্তা কাটে না। ইরান একটা হাতুরী কোমড়ের লুঙ্গিতে গুজে বের হয় রিয়াদের খোজে.....

এদিকে ইন্সপেক্টর মারজান তার ২ দিনের জন্ম নেওয়া ছোট মেয়েকে দুধ পান করাচ্ছিল। এরকম সময় সেখানে জসিম এসে পড়ে।

জসিম লজ্জায় চোখ নিচে নামিয়ে বলে, সরি ম্যডাম এই সময় আশা ঠিক হয়নি। একটা খবর দিতে আসছি। ইসহাক ও সামিরের ওপর ভরসা করা উচিত হয়নি। ওরা দুজনেই মারা গেছে।

মারজান বললেন, আমি জানতাম। এককাজ করো ডার্কওয়েব থেকে হিটম্যান ভাড়া করো রিয়াদকে মারা জন্য। যত বিটকয়েন লাগে আমি দিব। আমার বুকের দুধ পান করা বাচ্চার কসম রিয়াদকে আমি ছাড়বো না।

জসিম বলল, তবে ম্যডাম ডার্কওয়েব তো অবৈধ।

মারজান বলল, আমরা ইন্সপেক্টর আইনের বাইরে যেতে পারি না। আর রিয়াদের কারনে আমার বড় মেয়ে আজ আমার থেকে দূরে আকাশে তারা হয়ে আছে। আমার বড় মেয়ের কথা চিন্তা করো। ও তো তোমার বোনের মতো।

জসিম রাজি হয়ে গেল। ডার্কওয়েব থেকে হিটম্যান (কিলার) ভাড়া করলো। সেখানে রিয়াদের ছবিও দিয়ে দিল।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login