Novel

যৌদ্ধা (পর্ব ০৯) রুদ্র সিয়াম

October 8, 2026

6 views

সোয়াট টিমের একজনের কপালে ঘাম কানে হেডফোন। হেডফোনে কথা বলছেন মারজান হেলিকপ্টারে বসে। সোয়াট টিমের লোক  বললেন, ম্যডাম ওদেরকি কি  গুলি করে দিব? রিয়াদের সাথে আরেকটা ছেলে তাকেও কি গুলি করে দিব?

মারজান বললেন, গুলি করে দাও

রিয়াদ চোখ বন্ধ করে ফেলল। তার পাশে থাকা  আসাদ দাড়ানো। আসাদ অবাক হয়ে আছে?

যখনই সোয়াড টিম গুলি করবে। তখনই দেখা গেল ভিন্ন ঘটনা। হঠাৎ ৫টা গুলির শব্দে রিয়াদ চোখ খুলে দেখলো তার শরীরে একটাও গুলি লাগেনি। এমনকি আসাদের শরীরেও না। সামনে তাকিয়ে দেখলো সোয়াড টিমের ৫ জন পিঠে গুলি খেয়ে মাটিতে পড়ে আছে।

দূরে ২ টা লোক আসছে হেটে হেটে তারাই গুলি করেছে। কিন্তু কেন তারা রিয়াদকে বাচালো।

আসাদ বলল, এই ২ জন কে আসছে?

রিয়াদ উত্তর দিল না।

লোক দুজনের নাম ইসহাক ও সামির। রিয়াদ তাদের চিনে। ইসহাক তার বেস্টফ্রেন্ড।

ইসহাক ও সামির তাদের সামনে মুখোমুখি হলো। ইসহাক বন্দুক তাক করলো রিয়াদের দিকে।

রিয়াদ বলল, ভালো আসিস ইসহাক?

ইসহাক এর চোখে ঘৃনা। ইসহাক বলল, ব্যাংক থেকে হ্যাক করে ১০০কোটি চুরি করেছিলাম ৩জন মিলে তুই,আমি,সামির। তাহলে তুই কেন টাকা নিয়ে একটা পালিয়ে গেলি?

রিয়াদ বলল, টাকা আমার কাছে নাই। বিশ্বাস না হলে আমার একাউন্ট চেক করো। (আসলে রিয়াদ অন্য একাউন্টে টাকা রেখেছে)।

আসাদ বলল, এইটা কি সেই ইসহাক যেকিনা রাশিয়ায় গুলি খেয়ে মরে গেছিল? তাহলে ও জিবীত হলো কিভাবে? আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না।

ইসহাক বলল, রিয়াদ এই পোলাডা কে? ওরেও হয়তো মিথ্যা কোন গল্প বলসোস। তারপর ওই ওইসব বিশ্বাস করছে।।তবে আমাকে মিথ্যা গল্প বলে লাভ নাই।

রিয়াদ বলল, মিথ্যা না। তুই যখন হ্যাক করে টাকা পাঠাস। তখন সেটা আমার একাউন্টে আসেনি। আর আমি জানি তুই আমাকে ভুল বুঝবি।

এদিকে ইন্সপেক্টর মারজান হেলিকপ্টারে বসে অপেক্ষা করছে কখন রিয়াদ কে ধরে আনবে সোয়াড। তবে এখনও তারা আসছে না? এদিকে প্রেগন্যন্ট মারজান এর হঠাৎ  ব্যথা শুরু হয়ে গেল।

মারজান পাইলটকে বললেন, মিশন বাদ। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।

তাদের হেলিকপ্টার চলে গেল হাসপাতালে।

এদিকে ইসহাক রিয়াদ কে বন্দুক পয়েন্ট করে রাখসে। এবার রিয়াদের সামনে গিয়ে রিয়াদের পেটে একটা ঘুষি মারলো। রিয়াদ ব্যথা পেল তবে রিয়েকশন করলো না।

ইসহাক বলল, তাড়াতাড়ি বল টাকা কই? না হলে খুন করে বলবো। তোর লগের পোলারে গুলি করে দিব।

তারপর ইসহাক ভয় দেখানোর জন্য আসাদের হাটু তে গুলি করে দিল। ব্যথায় কুকড়ে উঠলো আসাদ। দুহাত দিয়ে হাটু চেপে ধরলো। হাটু থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

আসাদ বলল, আমাকে কেন গুলি করলেন?

ইসহাক বলল, চুপ কর তুই।তোরে মারলেই ও টাকা ফেরত দিবে।

রিয়াদ বলল, ওকে মেরো না।।আমি লোকেশন বলছি। তোমরা ওখানে গেলেই টাকা পাবে।

ইসহাক বলল, তোরে বিশ্বাস করে কোন হালায়? তুই আমাদের সাথে চল।

তাদের গাড়িতে উঠানো হলো। ইসহাক গাড়ি চালাচ্ছে তার পাশে আসাদ বসা। পেছনে সামির ও রিয়াদ বসা।

খোকা একটা কাপড় দিল আসাদকে। খোকা বলল, এটা দিয়ে পা টা বেধে নে।

রিয়াদ সামিরকে বলল, আমি টাকা লুকাইনি বিশ্বাস কর।

সামির বলল, তোর মতো মিথ্যুক কে বিশ্বাস করি না।

রিয়াদ বলল, আমি আগে মিথ্যা বলতাম এখন বলি না।

রিয়াদ তাদের নিয়ে একটা বন্ধ ফ্যক্টরীর সামনে আসলো। আসলে এটা রিয়াদের ই প্লান করা ছিল। রিয়াদ জানতো একদিন না একদিন সে ধরা পড়বে। তখন তাদের এই ফ্যক্টরীতে আনবে। পুরো ফ্যক্টরীতে বোমা লাগানো। তার সুইচ রিয়াদের পকেটে। সো পুরো গেমটা এবার রিয়াদ কন্টোল করবে।

রিয়াদ মনে মনে বলল, মাঝে মাঝে বোকা সাজতে হয় অন্যকে বোকা বানানোর জন্য। আর আমাকে বোঝা সম্ভব ই না 😂

ইসহাক গাড়ি থেকে নেমে বলল, আমি আগে যাই।।তোরা বাইরেই থাক। এই ফ্যক্টরীতেই টাকা আছে। আর টাকা পেলে রিয়াদকে খুন করে দিবি।

তারপর ইসহাক ফ্যক্টরীর গেটের কাছে যেতে থাকে।

রিয়াদের প্লান সামির একা ওকে ওর বন্দুক দিয়েই মেরে গাড়ি দিয়ে পালাবে। আর খোকা গেট খুললেই বোমা ব্লাস্ট করবে। খোকার কাহিনী শেষ?

তবে রিয়াদ এর প্লান কি সাকসেস হবে? নাকি কাহিনি তে টুইস্ট আছে? ইসহাক কি এতোই বোকা যে রিয়াদকে বিশ্বাস করবে? রিয়াদ কি আসলেই সৈনিক ছিল না মিথ্যাবাদী?

গাড়িতে বসা রিয়াদ সামিরের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে সামিরকে পেটে গুলি করে দিল। আসাদ সামনের সিটে বসা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

বন্দুকের শব্দ শুনে আর সামিরের চিৎকার শুনে ইসহাক এর সন্দেহ হলো। ইসহাক বন্ধ ফ্যক্টরীর সামনে দাড়িয়ে পড়লো। তারপর পেছনে তাকালো গাড়ির দিকে। গাড়ির উইন্ডো গ্লাস লাগানো। ভেতরে কি হচ্ছে দেখতে পেল না। তবুও সন্দেহ কাটলো না ইসহাক এর। ইসহাক কোমড়ের পেছন থেকে পিস্তল বের করে লোড করলো। তারপর গাড়ির কাছে এগিয়ে যাচ্ছে।

এগিয়ে গাড়ির ভেতরে থাকা রিয়াদ আসাদকে বলল, গাড়ি স্টার্ট দাও।

আসাদ তাড়াহুড়া করে গাড়ি স্টার্ট দিল। ইসহাক দৌড়ে গাড়ি ধরতে আসলো। তবে ৫হাত দূরে থাকতেই গাড়ি তার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে। ইসহাক পিস্তল দিয়ে গাড়ির টায়ারে নিশানা করে গুলি করলো। সঙ্গে সঙ্গে টায়ার ফেটে গেল।

রিয়াদ বলল, গাড়ি থামানোর দরকার নাই।

এদিকে গাড়ির টায়ার রাস্তায় ঘষা খেয়ে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। ইসহাক বিরক্ত হয়ে বলল, শিট। শিট শিট।

তখনই রিয়াদ পকেট থেকে সুইচ বের করে টিপ দিতেই পুরো ফ্যক্টরী ব্লাস্ট হয়ে গেল। ইসহাক ফ্যক্টরী থেকে অনেকটা দূরে তাই একটুর জন্য বেচে গেল। তার পেছনে পুরো ফ্যক্টরী আগুনে ঝলছে।।ইসহাক পকেট থেকে সিগারেট বের করে জ্বালায়।

চলন্ত গাড়ি থেকে গেট থেকে সামিরকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয় রিয়াদ। কয়েকটা ডিগবাজি খেয়ে রাস্তায় সামির দূরে গিয়ে পড়ে।

আসাদ বলল, আপনি চাইলে তো ওরে পুরো ই খুন করে পারতেন?  করলেন না কেন?

রিয়াদ কোন উত্তর দেয় না। গাড়ি চলতে থাকে গন্তব্যহীন।

ইসহাক এর ভাগ্য ভালো৷ হঠাৎ সেই জায়গা দিয়ে এক ইয়ং ছেলে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিল। ইসহাক ছেলেটাকে পিস্তল এর ভশ দেখিয়ে বাইক থামায়। তারপর সেই বাইকে উঠে পড়ে ছেলেটাকে মাটিতে ফেলে দেয়।  এবার কিছুদূর বাইক টানার পর সামনে সামির কে পড়ে থাকতে দেখে ইসহাক রাস্তার একপাশে ঘাষের ওপর। ইসহাক নিজের ফোনটা ছুড়ে সামিরকে দিয়ে দেয়। একটুও বাইক থামায় না। কারন রিয়াদকে ধরতে হবে।

এদিকে রিয়াদ আসাদকে বলে, ইসহাক আমাকে ধরতে আসবে। তুমি ওকে গাড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিও।

আসাদ বলল, আপনারা তো বেস্টফ্রেন্ড ছিলেন। শত্রু হলেন কিভাবে?

রিয়াদ বলল, রাশিয়ায় যখন আমি আর ইসহাক যুদ্ধে যাই সৈনিক হয়ে। তখন এক রাশিয়ানকে আমার ভালোলাগে। দা গামা নামের রাশিয়ান সৈনিক এর বোন ছিল মেয়েটা নাম গালগাডর। গালগাডর কে আমি ভালোবাসতাম। আমরা বিয়েও করেছিলাম। তবে মেয়েটা ছিল বোকা। প্রসংশা শুনলে পটে যেত। ইসহাক সেদিন আমার সামনে ওকে প্রশংসা করতো। আমি বুঝতাম ফ্লাট করছে নিজের ভেতর ভয় হতো। এই বুঝি আমার স্ত্রী ওর প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। হলোও তাই। একদিন বাসায় এসে দেখি ইসহাক ও গালগাডর এই বিছানায়, একই চাদের নিচে।

কথা শেষ না হতেই গাড়ির পেছন থেকে পিস্তলের গুলির শব্দ পাওয়া গেল। ইসহাক গুলি করছে গাড়িতে।

আসাদ বলল, আপনার হাতে তো বন্দুক আছে ওরে গুলি করে দেন। আপনি কেন তাকে মেরে ফেলছেন না?

রিয়াদ বলল, আমি তাকে তরপিয়ে তরপিয়ে মারতে চাই। তাকে বোঝাতে চাই আমার স্ত্রী ধোকা দিসে।।সেটায় দুঃখ পাইনি। তবে বেস্টফ্রেন্ড এর ধোকায় দুঃখ পেয়েছি। এটা আমি কখনও ভুলতে পারিনি। তাই সবমসয় বলি ইসহাক মারা গেছে যুদ্ধে। কারন এরকম বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।

আসাদ বলল, সেটা তো বুঝলাম। তবে ব্যাংকে সিস্টেম হ্যাক করে ১০০কোটি চুরি। সেটা তো বুঝলাম না।

রিয়াদ বলল, সবে এসএসসি দিয়েছি ছোটবেলা থেকে সৈনিক হওয়ার ইচ্ছা। তবে বাংলাদেশে ৬ ফুট উচ্চতা না হলে সৈনিক নেয় না। আব্বু বলল, সৌদী আরব পাঠাবেন। তবে টাকার সমস্যা। তখন সামির ছিল হ্যাকার। ও হ্যাক করে ব্যাংক আর আমার একাউন্টে সব টাকা চলে আসে। তখন আমি আর ইসহাক সৌদী চলে যাই। সেখান থেকে সৈনিকের চাকরী পাই। তবে ইসহাক এর বিশ্বাস ঘাটকতায় আমি চলে আসি বাংলাদেশ সব টাকা আমার কাছে। এখন ইসহাক এর কথা সম্পর্ক না রাখ আমার টাকা আমাকে দিয়ে দে।

আসাদ বলল, এতো প্যাচ। আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেছে।

রিয়াদ বলল, গাড়ি থামাও।

আসাদ গাড়ি ড্রাইরেক্ট ব্রেক করলো। পেছনে ইসহাক ছিল। ইসহাক ব্রেক করতে পারলো না বাইক। আসাদের গাড়ির পেছনে বাইক লেগে বাইকটা তখন উড়ে গিয়ে আসাদের গাড়ির সামনে এসে পড়লো ধপাস করে। তাদের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় বাইকে পড়ে আছে ইসহাক।

আসাদ বলল, ইসহাক এর ওপরে বাইক উড়িয়ে দিব?

রিয়াদ বলল, দরকার নাই। তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাও।

তারা পাশ কাটিয়ে চলে আসলো। গন্তব্যহীন ভাবে তাদের গাড়ি চলছে।

আসাদ বলল, আপনাকে ইসহাক মারতে চায়। তো সবচেয়ে নিরাপদ হবে আমার বাসা। আর আমার বাসা আপনার নানী বাড়ি থেকে ১০ কি:মি: দূরে। আর পুলিশ আপনাকে খুজছে। যেহেতু আমার বাবা চেয়ারম্যান। তো আমাদের বাসা থেকে কেউ আপনাকে ক্ষতি করতে পারবে না।

রিয়াদ বলল, তোমার বাসায় কে কে আছে?

আসাদ বলল, আমি,বাবা, মা,  নয়ন চাচ্চু, দাদু, আর ছোটবোন কাবেরী।

রিয়াদ বলল, কাবেরী। সুন্দর নাম।

আসাদ বুঝলো রিয়াদ হয়তো তাার বোনের প্রেমে পড়বে। তবে আসাদ নিজের মনকে বোঝাবো এসব নিচু মনের চিন্তাভাবনা তার মনের উচিত না।

গাড়ি ছুটে চলেছে আসাদের বাড়ির দিকে। এদিকে রিয়াদ গাড়ি থেকে ছুড়ি নিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে আসাদের হাটুর থেকে ইসহাক এর গুলিটা বের করলো।

এদিকে ভোর হতে শুরু করেছে রিয়াদ গাড়িতে শুয়েই কখন যে ঘুৃমিয়ে পড়লো তা সে নিজেও জানে না।

এদিকে হাসপাতলের ২য় তলায় ইন্সপেক্টর মারজান এর একটা কন্যসন্তান হয়েছে। উনি সেটার নাম রাখলেন মরিয়ম। মারজান কে চিন্তিত দেখা গেল। উনি জসিমকে বললেন, রিয়াদকে কি ধরা হয়েছে?

জসিম বলল, না।

এদিকে সেই হাসপাতালেই ইসহাক কে স্থানীয় লোকেরা ভোরবেলা হাসপাতালে ভর্তি করালো। ইসহাক দেখলো তার পাশের বেডে সামির শুয়ে আছে পেটে ব্যন্ডিজ করা। ইসহাক এর পুরো শরীরে ব্যন্ডেজ লাগানো।

ইসহাক পা টেনে টেনে বেড থেকে নেমে বাইরে এসে সিগারেট ধরালো। তখনই তার নজর পড়লো তাদের পাশের রুমে। সেখানে ইসহাক মারজানকে দেখতে পেল।

সিগারেট ফেলে ইসহাক এগিয়ে গেল মারজান এর সামনে। মারজান এর কোলে বাচ্চা।

ইসহাক বলল, কেমন আছেন ইন্সপেক্টর।

মারজান বলল, তুৃমি কে?

ইসহাক বলল, আমি রিয়াদের বন্ধু।

মারজান সতর্ক হয়ে গেলেন। এক হাতে বাবু ধরে বালিশের নিচ থেকে আরেক হাতে পিস্তল বের করে ইসহাকের মুখ বরাবর ধরলেন।

ইসহাক হেসে বলল, ভয় পান কেন? আমরা এখন শত্রু। আমি রিয়াদকে ধরিয়ে দিব আপনার কাছে। প্রমিজ।

ইসহাক হ্যন্ডশেক এর জন্য হাত বাড়িয়ে দিল। মারজান হ্যন্ডশেক করলেন। দুজনের ঠোঁটের কোনায় হাসি।

ইসহাক কি হার মেনে যাবে? নাকি আবার আক্রমন করবে রিয়াদ কে? আর রিয়াদের সাথে কি কাবেরীর প্রেম হতে চলেছে? রিয়াদ যে কঠিন মনের একবার ধোকা খেয়েছে?  সে কি কাবেরীকে বিশ্বাস করবে ভালোবাসার ক্ষেত্রে? কাবেরী মেয়েটাই বা কেমন হবে? আর কাবেরী কেন রিয়াদের সাথে প্রেম করবে?

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login