ইরান সামশুকে বলল, আজকে রাতেই রিয়াদকে খতম করে দিবে। যেভাবেই হোক। সবাই নানীর ৩ দিনের মৃত্যুর রাতের খাবার খেতে ব্যস্ত থাকবে। সেই সুযোগে তোমরা রিয়াদকে ধরে জঙ্গলে নিয়ে খুন করে দিব।
সামশু বলল, আপনি কেন আপনার খালাতো ভাইকে খুন করতে চান?
ইরান রেগে বলল, সাধারন যেকেউ ভাবছে এটা শুধু জায়গা-জমিন এর জন্য আসলে না। রিয়াদ ছোটবেলায় আমার আম্মুকে আম্মু বলতো। এমনকি ওর মা ছিল না। তাই আমার আম্মুই ওর দুধমা ছিল। আমার আম্মু শুধু আমার অন্যকারো না। এটা সেই ছোট মনে আমাকে কষ্ট দিত। আর আম্মু সবচেয়ে বেশি আদর করে রিয়াদ। এটা আমার পছন্দ না।
সামশুর চোখে জল। জল মুছে সামশু বলল, দয়া মায়া আমার ভেতরও আছে। কসাই বলে গরু কাটি। প্রচুর মায়া হয়। তবে কি করব এই কাজ করেই পেট চালাই। মাঝে মাঝে দুই, একটা খুন করে। পরে দুধ দিয়ে গোসল করে পবিত্র হই।
ইরান বিরক্ত হয়ে বলল, এসব কি শুনতে চাইসি? হুদাই বক বক করোস।
তারপর ইরান বালিশের নিচ থেকে ৫০ হাজার টাকার ২টা বান্ডিল বের করে সামশুকে বলল, এই নেন কাজ যাতে হয়ে যায়।
দরজার বাইরে দাড়িয়ে এসব কথা শুনে ফেলে নুসাইবা৷ দৌড়ে রিয়াদের কাছে আসে।
রিয়াদ তখন ঘুমাচ্ছিল। রিয়াদকে ধাক্কা মেরে উঠায় নুসাইবা।
ঘুম ঘুম চোখে রিয়াদ বলে, কি হয়েছে?
নুসাইবা খাটের নিচ থেকে পানির বোতল বের করে। বোতলের পানি হাতে নিয়ে রিয়াদের মুখে ছুড়ে মারে।
রিয়াদ মুখের পানি মুছে রেগে বলে, আহা। কি হইসে? বিরক্ত করতাসো কেন?
নুসাইবা বলে, শোনো। ইরান ভাই তোমাকে মারার জন্য লোক ভাড়া করছে। উনি মনে হয় জেনে গেছে আমরা প্রেম করি।
রিয়াদ খাটে হেলান দিয়ে বসলো। বিছানার পাশ থেকে সিগারেট বের করে ধরালো।
রিয়াদ কি যেন ভাবছে।
নুসাইবা বলল,তুমি প্লিজ ঢাকা চলে যাও। কসাই সামশু অনেক খারাপ। অনেক ভয়ানক। আর তুমি বিপদে আছো।
রিয়াদ মুখ দিয়ে সিগারেট এর ধোয়া বের করে বলে, আমি বিপদে নাই। আমি ই বিপদ। আই এম দ্যা ডেন্জার।
রাত ১১টা বাজে। উঠানে অনেক মানুষ সবাই খিচুরী খেতে আসছে। শিউলি খালা রিয়াদের ঘরে খিচুরী দিয়ে গেল। রিয়াদ তখন মরার মতো ঘুমাচ্ছে। শিউলি খালা তাকে ডিস্টার্ব করলো না।
এদিকে খিচুরী খাওয়ার জন্য সামশুর ৮ বছরের মেয়ে (রিশিকা) বায়না ধরলো।
রিশিকা বলল, বাবা আমি খিচুরী খেতে যাই?
সামশু মেয়েকে ধমক দিয়ে বলল, দরকার নাই। জীবনে খিচুরী খাস নাই? তোরে বিরানী আইনা খাওয়ামু। অন্যের বাড়ির খিচুরী খাওয়ার দরকার নাই।
রিশিকা বলল, আমার সব বান্ধবীরা যাবে ওখানে। আমি গেলে সমস্যা কী?
সামশু চাপাতি লোহায় ঘষতে ঘষতে বলল, দরকার নাই। ওরা গরীব মানুষ। এজন্য মাইনষের বাসায় যায় ভিক্ষা করে খায়।
রিশিকা বলল, আমিও তো গরীব। একটু যাই এমন করো কেন?
সামশু মেয়ের জিদের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। আবার কিছু বলতেও পারে না। কারন রিশিকার বাবা-মা নাই। সামশু তাকে দত্তক নিয়েছিল যখন রিশিকার বয়স ৩বছর। তারপর নিজের সন্তানের মতো মানুষ করছে। কখনও বাবা মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। সামশুর কাছে একটাই জীবন সেটা রিশিকা। মেয়েকে ছাড়া সে অসম্পূর্ণ।
রিয়াদ স্বপ্ন দেখলো সে আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। মেঘ ধরার চেষ্টা করছে পারছে না। যেন তার শরীরে কোন শক্তি নাই। হঠাৎ সে দেখলো এক কালো মুর্তি তাকে মারার জন্য মেঘের ওপর ভাসছে। মুর্তিটা রিয়াদের গলা চেপে ধরলো৷ দম বন্ধ হয়ে আসছে রিয়াদের। রিয়াদ নিজেকে বলল, এসব স্বপ্ন আমি জানি। আর আমি এই স্বপ্ন দেখতে চাই না। স্বপ্ন চেন্জ করো।
মূহুর্তের মাঝে স্বপ্ন পরিবর্তন হয়ে গেল। রিয়াদ দেখলো সে একটি ফুলের বাগানে। চারিদিকে লাল গোলাপ ফুল। একটা ফুল ধরতে গিয়েই তার হাতে কাটা গেথে গেল। রিয়াদ স্বপ্নেই মাঝেই বলল, এই ফুল আমি নুসাইবা কে দিব। তারপর পকেটে ভরে নিল।
হঠাৎ স্বপ্ন পরিবর্তন হয়ে গেল। রিয়াদ দেখলো সে রাশিয়ায় যুদ্ধের ময়দানে। তার হাতে রাইফেল পাশে তার বন্ধু ইসহাক। চারিদকে ধোয়া। একটা ট্যাংক সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তখনই একটা গুলি এসে ইসহাক কে হেটশট করে দিল।
রিয়াদের ঘুৃম ভেঙ্গে গেল। রিয়াদ খাটের ওপর বসে পড়ে। তারপর পানি পান করে নিজেকে শান্ত করে। ঘরের চারদিকে তাকায়। উপড়ে সাদা ফ্যান ঘুরছে। গাড়ির কাটা টিকটিক শব্দ করছে।।ঘরের বাহিরে কোলাহল। সবাই খিচুরী খেতে আসছে। রিয়াদ দেখলো তার ঘরেও এক প্লেট খিচুরী রাখা।
তখনই ঘরের ভেতর চাপাতি হাতে ঢুকলো সামশু। রিয়াদ সামশুকে দেখে চুপচুাপ।
সামশুর ঠোটের কোনায় একটা হাসি। রিয়াদ বলল, আজকে তুই আমাকে মেরে ফেল। কারন এমনিতেই আমি মরে গেছি। শুধু শরীরটা জীবিত।
সামশু চাপাতি হাতে খাটের ওপর লাফ মেরে উঠলো। রিয়াদ চাপাতির কোপ খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
তখনই সামশুর ফোনে একটা কল আসলো। তার মেয়ে রিশিকা তাকে ফোন করেছে।
সামশু অবাক হয়ে ফোন ধরে কানে দেয়। ওপাশ থেকে নুসাইবা বলে, তোর মেয়ে আমার কাছে বন্দি। যদি রিয়াদের কিছু হয়। তাহলে তোর মেয়েও বাচবে না।
এদিকে ভয়ে রিশিকা কান্না করতে থাকে। কারন রিশিকার গলায় চাকু ধরে আছে নুসাইবা।
রিশিকা কেদে কেদে বলে, আন্টিকে আমাকে ছেড়ে দেন। পাপা বাচাও।
নুসাইবা রিশিকাকে চড় দিয়ে বলে, চুপ। তারপর ফোন কেটে দেয়।
সামশুর বুক ধ্বক ধ্বক করতে থাকে। মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। সামশু একটা কথাই বলে, আমার মেয়ে।।আমার মেয়ে।
রিয়াদ কিছু বুঝতে পারে না হঠাৎ সামশুর কি হলো। সামশু দৌড়ে বের হয়ে যায় রিশিকাকে বাচানোর জন্য তার বাড়ির দিকে রওনা দেয়। সময় যেন থেমে গিয়েছে সামশুর জন্য। এখন রিশিকার কিছু বলে পিতা হিসেবে সামশু নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারবে না।
এদিকে নুসাইবা রিশিকার গলা চাকু দিয়ে টান মেরে দেয়। গলা কেটে রক্ত বের হতে থাকে। রিশিকা মাটিতে পড়ে যায়। তারপর মুরগির মতো ছটফট করতে থাকে। এদিকে নুসাইবা রক্ত মাখা চাকু বেসিনে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে। তারপর বাসায় চলে আসে। নুসাইবা রিশিকার গলা চাকু দিয়ে টান মেরে দেয়। গলা কেটে রক্ত বের হতে থাকে। রিশিকা মাটিতে পড়ে যায়। তারপর মুরগির মতো ছটফট করতে থাকে। এদিকে নুসাইবা রক্ত মাখা চাকু বেসিনে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে। তারপর বাসায় চলে আসে। বাড়ির পেছন সাইড দিয়ে জঙ্গলের রাস্তায় বাসায় চলে আসে।
নুসাইবা চলে যাওয়ার পরই দৌড়ে ঘরে প্রবেশ করে সামশু। তার মেয়েকে এভাবে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে নিজেও ভেঙ্গে পড়ে। তারপর রিশিকার রক্তমুখে মাখে সামশু। সামশুর ভেতরে তখন আগ্নীয়গিরি চলছে। সামশু মনে মনে বলল, এই কাজটা নুসাইবা করেছে। তার পুরো পরিবারকে আমি ধ্বংস করে দিব।
রাত ৩টা বাজে। ঘড়ির কাটা টিকটক শব্দ করছে। রিয়াদের ঘুম ভাঙলো। রিয়াদ এবার হিরোইন ভরলো সিগারেটে। তারপর ফ্রিজ থেকে জুস বের করলো। এবার জুস দিয়ে সিগারেট এর ফিল্টার ভিজিয়ে নিল। তারপর সিগারেটে আগুন ধরিয়ে নেশা করতে লাগলো। তখনই রিয়াদের মনে হলো নুসাইবা কোথায়? আর সামশু কেন তাকে মারলো না বাড়ি চলে গেল? এক অজানা বিপদে রিয়াদের বুক ধ্বক ধ্বক করতে লাগলো। হতে পারে সেটা নেশার কারনেও তা রিয়াদ কারনটা ধরতে পারলো না।
নুসাইবার ঘরের সামনে সামশু দাড়িয়ে আছে অন্ধকারে কলা গাছের নিচে। সামশু তার মেয়ে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এসেছে। আজ সে নুসাইবাকে খুন করবে। তার হাতে কুড়াল। সামশু রাগে কুড়ালটা কলাগাছে মেরে গেথে ফেলল।
রিয়াদ লুঙ্গি পাল্টে প্যন্ট পড়লো। যুদ্ধ নামতে হবে। তারপর ঘরের এক কোনা থেকে চাকু বের করলো। রিয়াদ বলল, এটা দিয়েই হবে।
এদিকে নুসাইবা প্রথমবার খুন করার রক্ত দেখে বাসায় বেসিনে বমি করছে। তার ব্রেইন পুরো এলোমেলো। চুলগুলো এলোমেলো। নিজেকে সামলাতে চায় সে। তবে পারছে না। একটু অসুস্থ অনুভব করছে। তারপর বাথরুমে ঢুকে নুসাইবা জামা খুলে ফেলল। একটু গোসল করতে হয়তো শান্তি পাবে সে। তবে মাথায় পানি ঢাললে কি আর মন শান্ত হয়?
এদিকে মকবুল চাপাতি হাতে বের হয়েছে। উদ্দেশ্য রিয়াদকে খুন করবে। মকবুল এর চাপা রাগ। যে ইরান ভাই পারলো না কেন একটা সাধারন কাজ করতে। সে করে দেখিয়ে দিবে সে কত বড় পালোয়ান।
রিয়াদ তখন নিজের ঘরে চাকুর কতটা নিখুত ধারালো তা আঙুল দিয়ে দেখতে লাগলো। তখনই ঘরে ঢুকলো মকবুল। রিয়াদ পেছন ফিরে তাকিয়ে মকবুলকে দেখলো। মকবুলের হাতে চাপাতি।
রিয়াদ মনে মনে বলল, আবারো মারামারি?
মকবুল চাপাতি নিয়ে দৌড়ে আসলো। রিয়াদ চুপচাপ দাড়ানো। হাতদুটো পেছনে রাখা। একহাতে চাকু। যা মকবুল জানে না।
মকবুল চাপাতি উচু করে যখনই মকবুলকে কোপ দিবে। তখনই রিয়াদ মকবুল এর গলায় চাকু ঢুকিয়ে দিল।
গক গক করতে লাগলো মকবুল। মকবুল এর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে লাগলো। রক্ত ছিটকে পুরো মাটিতে ভরে গেল। মকবুল এর হাতে থাকা চাপাতি পড়ে গেল মাটিতে। মকবুল তার গলায় হাত দিয়ে গলায় থাকা চাকু বের করে মরার আগে রিয়াদের ডান হাতের কব্জিতে চাকু মেরে দিল। তারপর ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল।
রিয়াদ এমন ভান করলো যেন এরকম একটা চাকু কব্জিতে ঢুকে যাওয়া কিছুই না। কোন রিয়েকশন নাই রিয়াদের চোখে মুখে। আয়নার সামনে দাড়িয়ে রিয়াদ বা হাত দিয়ে কব্জিতে থাকা চাকুটা খুলে ফেলল। ক্ষতস্থানে সাবান মেখে সাদা কাপড় দিয়ে পেচিয়ে বেন্ডেজ করে ফেলল।
তারপর মকবুল এর দিকে তাকিয়ে রিয়াদ বলল, সালা গরীব কোথাকার। এবার মরে স্বর্গে যা।
নুসাইবা তখন গোসল করছিল। ঘরের দরজা ছিল খোলা। জানালা ছিল খোলা। আর সে গোসলখানায় দরজা আটকায় না। কারন তার দম বন্ধ হয়ে আসে।
তখনই হাতে কালো ঘড়ি পড়া এক লোক আসলো সেই ঘরে৷ জানালা দিয়ে ঢুকলো সেই লোক। লোকটার হাতে ছুড়ি।
হঠাৎ নুসাইবা লক্ষ্য করলো তার পেছনে কে যেন দাড়িয়ে আছে। নুসাইবা ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকালো। তখনই লোকটা তাকে ছুড়ি দিয়ে ঘাড়ের ওপর কোপ মারলো। ১ না, ২ টা, না একেবারে গুনে গুনে ১০টা স্টেপ। নুসাইবা ভয়ে চিৎকার দিল। লোকটা তবুও থামলো না। নুসাইবা ঘাড় বেয়ে পুরো দেহে রক্তে ভরে গেল।।কিছু রক্ত ছিটে পড়লো লোকটার মুখে।
এই নুসাইবার চিৎকার বাইরে থেকে কুড়াল হাতে সামশু শুনতে পেল। তবে ভয়ে সেখান থেকে পালালো।।কারন সে তো খুনি না।
তাহলে সেদিন রাত ৩টায় নুসাইবা কে? কেন খুন করলো? আর খুনিটা কে?
রিয়াদ তার ঘরের মাটি খুড়ছে। খাটটা সড়িয়ে তার নিচে কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ছে। কারন মকবুল এর লাশ দাফন করতে হবে। তার ভোর হওয়ার আগে। ঘড়িতে এখন ৪টা ১০ বাজে( এ.এম)।
রিয়াদ ২ হাত মাটি গর্ত করার পর একটা সিগারেট ধরালো। তারপর ব্লটুথ হেডফোন কানে লাগিয়ে গান ছাড়লো। আবার কোদাল নিয়ে মাটি খোড়া চল।
🎵 This is the end
Hold your breath and count to ten
Feel the Earth move and then
Hear my heart burst again
For this is the end
I've drowned and dreamt this moment
So overdue, I owe them
Swept away, I'm stolen 🎵
গান শুনে আর মাটি খুড়ে রিয়াদ। এদিকে তার ধারনাই তার গার্লফ্রেন্ড নুসাইবাকে কে যেন চাকু দিয়ে খুন করে পালিয়েছে। নুসাইবার দেহ এখনও গোসলখানায় পড়ে আছে। কেউ জানেই না যে সে মারা গেছে।