রাতের চার নম্বর বাসটা যখন ডিপোতে ফিরে যায়,
তখন আমরা দুজন মুখোমুখি বসে থাকি।
যেমন কোনো ভাঙা কাঁচের আয়নায় মুখোমুখি বসে থাকে দুটো পুরোনো দিন।
তুমি হয়তো চায়ে চামচ নাড়তে নাড়তে কিছু বলতে চেয়েছিলে,
কিন্তু ফুটপাতে ছড়িয়ে থাকা শুকনো অশ্বত্থ পাতার খসখস শব্দে
মুছে গেল সেই আধো উচ্চারণ।
আমার হাতের আঙুলগুলো ছুঁতে পারতো তোমার হাতের তালু,
অথচ মাঝখানে শুয়ে রইলো কয়েক শ বছরের ক্লান্তি আর নীরবতা।
মানুষের চামড়ার নিচে যে নদীটা নীরবে বয়,
সেখানে কোনো নৌকা ভেড়ে না কোনোদিন।
আমরা ভালোবেসেছিলাম, কিন্তু সেই ভালোবাসা কোনো চিঠি হয়ে ওঠেনি;
তা কেবল সিগারেটের ধোঁয়ার মতো জড়িয়ে রইলো
নিঝুম কার্নিশে বসে থাকা একাকী বাদুড়ের ডানায়।
তোমার চোখের দিকে তাকালে এখন আর প্রেম মনে পড়ে না,
মনে পড়ে কেবল এক বিষণ্ণ ট্রাফিকের কথা,
যেখানে লাল আলো জ্বলে আছে বহু কাল ধরে,
আর কোনো পথচারী আর রাস্তা পার হয় না।
সব কথা বলা হয়ে গেলে হয়তো কিছুই বাকি থাকতো না,
তাই এই না-বলাটুকু থেকে গেল,
শহরের ইট, ল্যাম্পপোস্ট আর আমাদের দৈনন্দিন পথের ধুলোয়।