মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র। এই হাসি, এই কান্না—দু’টিই পাশাপাশি হাত ধরে চলে। কিছু কিছু ঘটনা এমনভাবে ঘটে যায়, যা একদিকে প্রবল হাসির জন্ম দেয়, আবার অন্যদিকে ভয়ানক বিব্রতও করে তোলে। ঠিক তেমনই কয়েকটা ঘটনার কথা বলা যাক—যেগুলো ভাবলে এখনও হাসি পায়, আর মনে পড়লে লজ্জায় কান লাল হয়ে যায়।
অফিসে ঢুকেছেন। দেখছেন সবাই আপনাকে দেখে মিটিমিটি করে হাসছে। আপনি ভাবছেন—সমস্যাটা কী? প্রতিদিন যেমন আসি, আজও তো সেভাবেই এসেছি। একটু পর এক সহকর্মী এসএমএস করলো—
“ভাই, আজ জিপার লাগাতে ভুলে গেছেন।”
বাজারে চাল কিনতে গেছেন। দোকানদার নেই। যে বসে ছিল, তাকেই দোকানদার ভেবে পাঁচ কেজি চাল দিতে বললেন। দেরি হওয়ায় রীতিমতো ঝাড়িও দিলেন। লোকটা ঠান্ডা মাথায় বললো—
“কোন এঙ্গেলে আমাকে আপনার দোকানদার মনে হচ্ছে?”
বোনের শ্বশুরবাড়ি গেছেন। হেভি মাঞ্জা মেরে ওয়াশরুমে ঢুকেছেন। দরজাটা ঠিকমতো লাগেনি। এমন সময় সদ্য দাড়ি ওঠা বেয়াই সাহেব হুট করে ঢুকে গেলেন—গান গাইতে গাইতে!
কারেন্ট নেই। বউ ভেবে পৃথিবীর সব আবেগ নিয়ে যাকে জড়িয়ে ধরে চুমুতে ভরিয়ে দিলেন—কারেন্ট আসার পর দেখা গেল, তিনি আপনার বউয়ের বড় বোন। দুই সন্তানের জননী।
পাশের বাসার রুমাকে প্রেমপত্র লিখলেন। ভুল করে সেই প্রেমপত্র পৌঁছে গেল তার বড় বোনের হাতে। তিনি আবার সেটা তার মাকে দেখালেন। মা রাতে আপনাকে ডেকে এনে পোলাও–কোরমা খাইয়ে, সবার সামনে ভদ্রভাবে এমন লজ্জা দিলেন—যেন, আর কোনোদিন েমন ভুল হওয়ার সাহস না হয়।
বাসে উঠে ভাবলেন কন্ডাক্টর আপনাকে ডাকছে। পকেট থেকে টাকা বের করে এগিয়ে দিলেন। পরে বুঝলেন, সে আসলে পেছনের যাত্রীকে ডাকছিল—আপনি শুধু মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
“জানপাখি, ভাত খেয়েছো? আমার চুমু নাও”—
এমন আবেগী মেসেজ ভুল করে পাঠিয়ে দিলেন অফিসের এক অবিবাহিত নারী সহকর্মীকে।
মেসেজ দেখার পর অফিসে যে কী পরিমাণ কফি ঠান্ডা হয়ে গেল, আর চায়ের কাপ কাঁপলো—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দিনশেষে আপনি বুঝলেন, ‘সেন্ড’ বাটন চাপার আগে দুই সেকেন্ড ভাবাই জীবনের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমত্তা।
আপনার লেখার ভক্ত এক সুন্দরী নারী। আপনাকে ম্যাসেজ দিলো,আপনার লিঙ্গটা দেন। লিংকের জায়গায় লিঙ্গ লিখেছে ভুলে কিন্ত আপনি এই নিন্ লেখার লিংক বলার পরেও সে তার ভুল বুঝতে পারলো না। এদিকে আপনার বউ লিঙ্গ চাওয়ার ম্যাসেজ দেখে বললো,অফিসে বসে আজকাল এসব দাও নাকি।
আসলে জীবন এমনই—
কখনো আপনাকে হাসাবে,
কখনো জনসম্মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে,
আর কখনো বলবে—“ভাই, সাবধান।”