লিসা বাংলাদেশ এর মেয়ে। পড়াশোনার জন্য কোরিয়া যাচ্ছে। প্লেনে হঠাৎ এক কোরিয়ান ছেলে (লি চু এর পাশেই সিট পড়েছে)
লিসা: হাই৷ আমি কোরিয়ান বিটিএস পছন্দ।
লি চু: সাউয়া পছন্দ তোমার।
লিসা: আপনি কোরিয়ান হয়ে রাগ দেখান কেন?
লি চু : কোরিয়ানদের কি রাগ নাই? ব্রেইন কি তোমার পুটকিতে ড্রামা দেখতে দেখতে?
লিসা: ছি পচা কোরিয়ান।
লিসা: আপনি অনেক রাগি। ডরাইসি। এখন একটু আদর করে দেন।
লি চু: দূর। তোরে কোন দুঃখে আদর করব আমি তুই কি আমার গার্লফ্রেন্ড লাগিস নাকি?
লিসা: গার্লফ্রেন্ড বানালেও তো পারো।
লি চু: তোর মতো কাইল্লা বাংলাদেশি মেয়ে জীবনে চুজ করি না।
লিসা: তার মানে আমরাই কোরিয়ান কোরিয়ান চোদাই ওদিকে ওদের মনে একটুও জায়গা নাই।
লিসা : আচ্ছা। ভাইয়া। বুঝলাম আপনি বিটিএস হ্যটার। তাই বলে কি বন্ধু হবেন না?
লি চু: বন্ধু কেন হতে চাস? তোর মতো বাঙালিকে ভালো করেই চিনি প্রথমে বন্ধু হতে চাস। পরে বলবি ডেট করার কথা।
লিসা: এরকম ব্যবহার খারাপ করলে কিন্তু আমি কান্না করে দিব।
লি চু: ইস কি ঢংগি। তুই কাদলে আবার চুলও ছেড়া যাবে না।
অবশেষে প্লেন ল্যন্ড করলো সাউথ কোরিয়াতে।
প্লেন থেকে নামলো লিসা আর লি চু।
এয়ারপোর্টে লিসাকে নিতে এসেছে তার মামা। যিনি কোরিয়ায় কাজ করেন।
লিসা তার মামাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।
লিসার মামা গাড়ি এনেছেন। লিসা গাড়িতে উঠে পড়লো।
সকালবেলা লিসা ঘুম থেকে উঠে জানালার কাচ সড়িয়ে দেখলো কোরিয়ার বিল্ডিং।
লিসা: ও বিটিএস তোমাদের শহরে আমি। তোমরা কোথায়?
মামা: চলো তোমার স্কুলের সময় হয়ে গেছে। তোমাকে স্কুলে দিয়ে আমি কনট্রাকশন এর কাজে যাবো।
লিসা ও তার মামা বেরিয়ে পড়লো।
লিসা স্কুলের সামনে গাড়ি থামতেই দেখলো লি চু কে। লিসা তো অবাক। এই ছেলে এখানে?
ক্লাসে বসে আছে লি চু তার পাশে লিসা।
লিসা: আরে লি চু চিনসো আমাকে? আমরা যে প্লেনে পরিচয় হয়েছিলাম।
লি চু: চুপ! পড়াশোনা করতে এসেছিস। পড়াশোনা কর। কথা বললে অন্যদের বিরক্ত হবে।
লিসা: এমন বিহেভ করো কেন?
লি চু: তো তোর বয়ফ্রেন্ড লাগি? যে ঢং করবো? আবাল কোথাকার।
ব্লাকবোর্ডে স্যার পড়াচ্ছেন : ইয়োং সাং সাং সাই কসামই তোবাহাতি পুং প্যাঙ।
লিসা দাড়িয়ে: স্যার। বুঝি না। আরেকটু ধীরে ধীরে বলেন।
স্যার রেগে: চয়েং মাইং ছু। ইতুরে মিয়ুং।
লিসা মাথা চুলকে: মানে কি এসবের? কেন যে কোরিয়ায় পড়তে আসলাম।
লি চু: কোরিয়ান ভাষা পারিস না। তাহলে কোরিয়ান পড়তে এসেছিস কেন?
লিসা: ভুল হইসে সরি।
লি চু: ওকে। তুই চাইলে তোকে কোরিয়ান ভাষা শেখাতে পারি। তবে আমি কি পাব?
লিসা: কি চাও তুমি?
লি চু: আমার গার্লফ্রেন্ড হবি?
লজ্জা পেল লিসা।
লি চু: তাহলে ক্লাস ছুটির পর চল জঙ্গলে যাই।
লিসা: না। ওখানে গেলে তুমি আমাকে চুমা দিবা। আকাম করবা আমি জানি।
লি চু রেগে: এক লাইন বেশি বুঝোস। ওখানে একটা পুরানো বাড়ি আছে ভুতুরে ওটা দেখাতাম।
লিসা: ভুতুরে বাড়ি?
এদিকে স্যার রেগে বলল: চুয়াং পাই চিকাপাকা। চোচো রিকুকু।
লিসা: স্যার। কি বললো?
লি চু: স্যার বলসে ক্লাসের বাইরে গিয়ে দুজনে কান ধরে দাড়াই থাকি।
স্যার রেগে বলল: ওহেং চেং পিং পাং পু। নিং চুয়েং পোরা পিপ পিপ।
লিসা: এটার মানে কী?
লি চু: কিছু না বাদ দাও। চলো কানে ধরা যাক।
তারা দুজনে ক্লাসের বাইরে এসে কানে ধরে দাড়ায় রইলো।
ক্লাস শেষে লিসা ও লি চু মিলে জঙ্গলে এলো। এখানে সেই পুরানো কাঠের ভুতুরে বাড়ি।
লিসা: আমার ভয় করছে।
লি চু: ভয় করলে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরিস।
লিসা: ঠিক আছে। যদি বমি করে দেই।
লি চু: ভয় পেয়ে কেউ বমি করে নাকি?
লিসা: আমি করি।
লি চু: কি সব বাজে কথা।
লি চু: চল বাড়ির ভেতরটা দেখা যাক।
লি চু পকেট থেকে চর্টলাইট বের করলো।
লি চু র হাত ধরলো লিসা। তারা বাড়ির দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। ঘরের মাঝখানে চেয়ারে একটা ভুতুরে পুতুল বসে আছে। চারিদিকে মাকড়সা জ্বাল। পুরো ভুতুরে পরিবেশ।
লিসা ভয়ে জড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো লি চু কে।
লিসা: আমার ভয় করছে।
লিসা: দেখো। পুতুলটা নড়ছে।
হঠাৎ পুতুল টা চেয়ার থেকে নড়ে উঠে দাড়ায়।
ভয়ে লি চুর হাত থেকে টর্চলাইট নিচে পড়ে যায়।
পুতুল টা শব্দ করছে 'চেংপুং পেং"
লিসা: কি বলছে? ভুতুরে পুতুল?
লি চু: আমাকে শেষ করে দিবে।
লি চু: চলো পালাই এখান থেকে।
লি চু লিসার হাত ধরে শক্ত করে তারপর দৌড় দিয়ে ভুতুরে বাড়ি থেকে বের হয়।
তারপর দৌড়াতে থাকে জঙ্গলে দুজনে।
লিসা পেছনে তাকিয়ে দেখে ভুতুরে বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে আছে সেই ভুতুরে পুতুলটি।
লিসা: ওই যে ও দেখি ওখানে।
লি চু: ওখানে তাকিও না। পালাও এখন।
লি চু: ভয়ে দেখি তুমি জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছো।
লি চু লিসার বুকে হাত রেখে হার্টবিট চেক করলো।
লিসা লজ্জা পেল।
লি চু: তোমার হার্টবিট তো অনেক ফাস্ট।
লিসা: দৌড়াদৌড়ি করেছি তো তাই।
লি চু: হ্যা। ঠিক বলছো।
লি চু : চলো পার্কে ঘুরতে যাই।
লিসা: ঠিক আছে।
তারা দুজন একটা পার্কে আসলো।
লি চু: আইসক্রিম নিয়ে আসি দাড়াও।
লি চু ভ্যনগাড়ি থেকে কোন আইসক্রিম কিনলো।
তারপর লিসার হাতে দিল।
লিসা আইসক্রিম খাচ্ছে।
লিসা: খুব মজা।
লি চু: মজা তো লাগবেই অন্যের টাকায় আইসক্রিম খাচ্ছো 😁
লি চু: চলো রোলারকোস্টারে উঠা যাক।
লিসা: এতো বিশাল রোলারকোস্টার যে ঘুরছে যদি ভেঙ্গে যায়? আমি উঠব না ভয় করে।
লি চু: আরে আমি থাকতে কিসের ভয়?
লিসা ও লি চু ২টা টিকিট কিনে রোলারকোস্টারে বসে।
লি চু সিটবেল্ট পড়িয়ে দেয় লিসাকে।
রোলারকোস্টারে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় লিসা।
লি চু: আরে হ্যালো। কি হইসে তোমার?
লি চু ভয় পেয়ে যায়। লি চু দম নেওয়ার জন্য লিসার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে শ্বাস দেয়।
কিছুক্ষণ পর লিসার জ্ঞান ফিরে।
লি চু: আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।
লিসা: আসলে এসবে উঠলে আমার মাথা ঘুরায়।
লি চু: কি বলো? কত মেয়ে রোলারকোস্টারে উঠার জন্য পাগল।
লিসা: আমি অন্যদের মতো না।।আমি একটু আলাদা।
লি চু: হ সেটা তো বুঝাই যায়।
লিসা: তুমি আমাকে কিস করছিলে, তাই না।
লি চু: ওইটা কিস না নিঃশ্বাস দিচ্ছিলাম।
লি চু: শোনো। আজ রাতে জং কুক এর একটা কনসার্ট আছে। তুমি গেলে আমি ২টা টিকিট কিনে রাখি।
লিসা খুশিতে লাফায়: অবশ্যই। জং কুক আমার ড্রিম বয়। ওরে একবার দেখা আমার সৌভাগ্য।
লি চু: মুড টাই খারাপ করলি। ওই বেডা একজন সেলেব্রিটি। ওর তো ভক্ত অনেক। আমি তোর বয়ফ্রেন্ড। আমার জন্য তো কোন টান নাই।
লিসা: টান আছে। তবে ওর জন্য আলাদা টান।
রাত ১২টায় পুরো শহর ঘুমিয়ে গেছে। শুধু একটা জায়গায় কনসার্ট হচ্ছে।
লাল গাড়িতে করে যাচ্ছে লিসা ও লি চু।
লিসা: কি মজা প্রথমবার স্বপ্নের নায়ককে দেখব।
লি চু: আমার জেলাস হচ্ছি। বুঝসো।
লিসা লি চুর গালে কিস করলো।
লিসা: এবার শান্ত হও।
স্টিজে নাচছে আর গান গাইছে জং কুক।
জং কুক : আমাকে উড়িয়ে দাও। আমাকে ভাসিয়ে দাও এই নীল আকাশে।
এটা দেখে নিচে দর্শকদের মাঝে লিসা ও লি চু। লিসা হাত তালি দিচ্ছে।
লিসা: বাস্তবে তো জং কুক আরো হ্যন্ডসাম। দেখলেই চুমা দিতে মন চায়।
লি চু: হ যা কোলে উঠে পড় গিয়ে।
লিসা: আরে তুমি রাগ করো কেন?
লি চু: আমার জায়গায় যেকেউ জেলাস হবে।
বাড়ি ফেরছে তারা দুজন। লাল গাড়ি চলছে।
লি চু: আমি আসলে পারছি না। যেই মেয়ে বিটিএস নিয়ে পড়ে থাকে।সে আমার গার্লফ্রেন্ড হতে পারে না।
লিসা: তুমি ভুল বুঝতাসো। আমি ওদের গান ভালোলাগে। নাচগুলো ভালোলাগে।
লি চু: ভালোলাগার একটা লিমিট আছে। আমার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দাও ওদের কেন?
লিসা: আচ্ছা আর দিব না।
লিসা লি চুর রাগ কমাতে গালে কিস করলো।
পরেরদিন ক্লাসে লিসাকে এভোইড করছে লি চু।
লিসা: কি ব্যপার। আমাকে এড়িয়ে চলছো কেন?
লি চু: দেখো। তুমি বিটিএফ ভক্ত এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।
লিসা: কেন কি হইসে?
লি চু: কারন আমার থেকে ওদের গুরুত্বপূর্ণ বেশি দাও। এটা আমার হিংসা হয়।
লিসা: ওহ। আচ্ছা।
লি চু: আমি আসলে ব্রেকআপ চাই। তোমার সাথে হচ্ছে না আমার।
লিসা: ঠিক আছে। সামান্য বিষয়ে ব্রেকআপ করলে করবা। সমস্যা নাই।
লি চু: সমস্যা হবে কিভাবে? তুমি তো কখনও ভালোই বাসোনি। জাস্ট টাইমপাশ করছো।
লিসা: মাত্র ১দিন প্রেম করেই এতো অভিযোগ?
লি চু: বাদ দাও। ব্রেকআপ।
লিসা: শোনো।
লি চু: আবার কি হলো?
লিসা: কিছু না। নিজের যত্ন নিও।
লি চু: অবশ্যই নিবো। তুমিও ভালো থেকো।
লিসা: যাক বাচলাম। টক্সিক বয়ফ্রেন্ড ছিল। উফ।
ক্লাসের বোটকা ছেলে নিহান।
লিসা ক্যম্পাসে বসে কফি খাচ্ছে। নিহান এগিয়ে এলো তার কাছে।
নিহান: তোমার নাম লিসা তাই না? শুনলাম ব্রেকআপ হইসে।
লিসা: হ্যা।
নিহান: তুমি চাইলে আমি বয়ফ্রেন্ড হতে পারি।
লিসা: ঠিক আছে ভেবে দেখবো।
নিহান: ওকে জানাইও আমাকে।
লি চু দাড়িয়ে ছিল নিহান তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল হেটে।
লি চু: এই নিহান এদিক আয়।
নিহান: কি হয়েছে লিচু?
নিহান লি চুর কাছে যেতেই লি চু ওর পেটে ঘুষি মারলো।
লি চু: আমার গার্লফ্রেন্ড থেকে ১০০হাত দূরে থাকবি।
নিহান: এখন তো তোর এক্স গার্লফ্রেন্ড। সো প্রেম করলে কি দোষ?
লি চু দেয়ালে দাড়িয়ে ললিপপ খাচ্ছে। তার সামনে এলো লিসা।
লিসা: তুমি নাকি নিহানকে মেরেছো? কেন?
লি চু: এমনেই। কেন কি হইসে?
লিসা: গুন্ডা হয়ে গেছো? যাকে ইচ্ছা মারবে?
লি চু: আমার জেলাসি হয় তাই।
লিসা: এতো জেলাসি হলে ব্রেকআপ করছো কেন?
লি চু: দূর।
লিসা: তুমি কোরিয়ান পোলা। তোমার ভাব থাকবো ওরকম। তুমি কেন বাঙালি লাভারবয়দের মতো আচরন করো?
লি চু: ভালোবাসায় সব ছেলেই একই রকম আচরন করে। আমিও মানুষ বাঙালি ছেলেও মানুষ। আমরা তো ভিনগ্রহের প্রানী না। হু।
লিসা: আমার ই দোষ। কোরিয়ান কোরিয়ান করি এখন ভাল্লাগে না তগো মতো নাক বোঁচা দের।
লি চু: কি আমার নাক বোচা?
লি চু: নাক বোঁচা তোর বিটিএস। আমি না।
লি চু থাপ্পড় দেয় লিসাকে।
লিসা রেগে থাপ্পড় দেয় লি চুকে।
লিসা: বিটিএফ সেরা। ওদের নিয়ে কোন বাজে কথা হবে না।
লি চু: তোর বিটিএফকে চুদলিংপং করি।
লিসা: চুপ! শুয়োর কোথাকার।
লি চু: তোরে খেয়ে ছেড়ে দিসি৷ এখন যেতে পারিস। হু।
লি চু: সাউয়ার বিটিএফ এর জন্য আমরা হুদাই জগড়া করতাসি। ওদিকে ওরা আমাদের চিনেও না।
লিসা: ব্যথা কি গালে বেশি পেয়েছো। দেখি।
লি চু: যে থাপ্পড় দিসো। কান তব্দা খেয়ে গেছে। ৭দিন শুনবো না কানে।
লিসা: আচ্ছা। সরি।
লি চু: লাভ ইউ।
লিসা: লাভ ইউ ২।
লি চু ঠোঁট বাড়ায়। লিসা ঠোঁটে চুমু দেয়।
(সমাপ্ত)
#কোরিয়ান_বয়ফ্রেন্ড
#রুদ্র_সিয়াম