শামীম রোড এক্সিডেন্ট করেছে। এটা জানার সাথে সাথেই আমি হাসপাতালে রুটি কলা নিয়ে চলে আসি তাকে দেখতে। মিডফোর্ট হাসপাতালে শামীম ভর্তি। ২য় তলায় উঠে দেখলাম বাইরে শামীমের পরিবার দাড়িয়ে কাদছে। কিন্তু একটা মেয়েকে দেখে অবাক হলাম। মেয়েটা একটু দুরে বসে মোবাইল টিপছে। এই মেয়েটা আবার কে?
আংকেল আন্টিকে সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। শামীমকে দেখলাম। শালায়! অবস্থা! খারাপ! ওর পুরো পায়ে মোটা সাদা কাপড় জড়ানো। মনে হয় পায়েই ব্যথা পেয়েছে। সেই পা আবার ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একটা দড়ির সাথে। আমি শামীমের পাশে গিয়ে বসলাম। আমাকে দেখে শামীম মুচকি হাসলো।
আমি: তোর পা ভেঙ্গে গেছে আর তুই হাসছিছ?
শামীম: ভালোই হয়েছে। এখন আর কাজে যেতে হবে না। কয়েকদিন আরামে কাটাতে পারব।
আমি: কিভাবে হলো?
শামীম: আর বলিস না! তুই তো জানিস ই আমি যে দোকানে কাজ করি। আমার কাজ বাইরে থেকে মালামাল এনে দেওয়া। তাই তখন কাজের জন্য সিএনজিতে করে আবদুল্লাহপুর যাচ্ছিলাম। তখন পেছন থেকে এক ট্রাক আমাদের সিএনজিকে ধাক্কা মারলো। কিছু বোঝার আগেই সামনের সিটের দুই পাশের দুইজন সিটকে পড়ে যায় দুইদিকে। তাদের অবস্থা আমার থেকেও খারাপ। আমি বসেছিলাম পেছনে। আমার সাথে একটা ৫বছরের বাচ্চা মেয়ে আর তার মা ছিল। আমি বাচ্চাটা বাচানোর জন্য জড়িয়ে ধরি। আর বাচ্চাটাকে নিয়ে গাড়ি উল্টে যায়। জ্ঞান ফিরলে দেখি ট্রাকের নিচে পড়ে বাচ্চাটার মা মারা গেছে। আর আমার পায়ের ওপর পড়েছে সিএনজি। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বাচ্চাটা বেচে গেছে। ওর গায়ে একটা আচড় ও লাগেনি।
আমি: এখন সেই বাচ্চাটা কোথায়?
শামীম: আমি জানি না। দোস্ত। বাদ দে এসব কথা। (কথাটা শেষ করে শামীম আমার দিকে আঙুর ফল এগিয়ে দিয়ে বলল, নে।এটা খা।)
আমি: (আঙুর ফল খেতে খেতে) তো, সুখেই আসিস তুই? তাই না।
শামীম: (একটু হেসে) হ্যা! আল্লাহ। আমাকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাচিয়েছেন। আমি একটু সুস্থ হলেই দান সদকা করব।
আমি উঠতে উঠতে বললাম, আসি দোস্ত! কথাটা বলার পরই মনে হলো। বাইরে থাকা মেয়েটা কে? তা তো জানা হলো না।
আমি: আচ্ছা! বাইরে একটা মেয়েকে দেখলাম বসে থাকতে। সে মেয়েটা কে?
শামীম: ওটা আমার বোন। আমার এক্সিডেন্ট এর খবর শুনে আমাকে দেখতে এসেছে।
আমি: তোর যে বোন আছে। তা আগে বলিস নাই। কেন?
শামীম: কেন? আগে বলতে হবে। এমন কোন কথা আছে?
আমি কোন কথা না বলে রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে চলে আসলাম।
এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর।
তখন ঘড়িতে বিকেল ৪টা বেজে ৬মিনিট। আমি কালো শার্ট পড়েছি। হাতে নতুন ঘড়ি পড়েছি। সেলুনে গিয়ে চুল কেটে ছোট করে করিয়েছি আর দাড়িগুলো একটু সেটিং এ এনেছি। দুর থেকে দেখলে মনে হবে চাপ দাড়ি। আচ্ছা! এসব কার জন্য? তা কি আপনারা জানেন?
সেদিন যখন প্রথমবার শামীমের বোনকে হাসপাতালে দেখলাম। তখন ই আমার বুকের ভেতরটা কেমন ধ্বুক ধ্বুক করে উঠলো। কারন যে মেয়েটা দাড়িয়ে ছিল। সে খুব সাধারন মেয়ে। গায়ের রং শ্যামলা।
সাধারন থ্রি-পিছ পড়েছে। কোন মেকআপ করে নি। শুধু চোখে কাজল। এটা দেখেই আমি কাহিল। একটা মেয়ে যে এতো মায়াবতী হয়। তা জানতাম ই না। আর এখন আমি শামীমের বোনকে দেখার জন্যই তাদের বাসায় এসেছি।
আরো দু বার কলিংবেল বাজানোর পর দরজা খোলা হলো। আমি দেখলাম যে দরজা খুলেছে সে শামীমের বোন। দেখেই আমার হার্টবিট বেড়ে গেল। কোন কথা বলতে পারলাম না। হাত পা কেমন অবশ হয়ে আসছে। কোন মতে শুধু বললাম, আমি শামীমের বন্ধু।
শামীম বিছানায় শুয়ে আছে। এখন সে একটা কাঠের লাঠির সাথে হাটা চলা করে। ওর অবস্থা আগের থেকে উন্নত হয়েছে।
শামীম এবারো হাসি হাসি মুখ করে বসে আছে। আমাকে দেখে খুশি হয়ে গেল।
শামীম: ভালো হয়েছিছ এসেছিছ। আমার বোনটা বরিশালে থেকেই বড় হয়েছে। সেখানে আমাদের নানার বাড়ি। ও সেখানেই এবার কলেজে পড়ে। আমি চাচ্ছিলাম ওকে ঢাকা শহরটা ঘুরিয়ে দেখাতে। কিন্তু আমার যে অবস্থা। তুই এক কাজ কর। ওকে যদি ঢাকা শহরটা একটু ঘুরিয়ে দেখাতি। তাহলে আমার খুব উপকার হতো।
শামীমের কথা শুনে মনে লাড্ডু ফুটটে থাকলো। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।
শামীম: আর আমার বোন মানে তো তোর ও বোন। তুই ওকে বড় ভাইয়ের মতো শহরটা একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আয়।
এমন সময় চা হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকলো শামীমের বোন।
শামীম: সানিয়া! একটা ভালো ড্রেস পড়ে রেডি হ। তোকে নিয়ে আজ ঘুরতে নিয়ে যাবে রবীন।
(আমি মনে মনে, ও তাহলে ওর নাম সানিয়া)
সানিয়া: আচ্ছা! ভাইয়া।
সানিয়া যখন আমার হাতে চা দিল। তখন চা নেওয়ার সময় ওর হাতের সাথে আমার হাতের হালকা স্পর্শ লাগে আর হঠাৎ যেন আমার বুকের ভেতর কারেন্ট লাগে। এটা কেন হলো? যারা প্রেম করেছেন । তারা জেনে থাকবেন।
সানিয়া একটা কালো থ্রি পিছ পড়ে দাড়িয়ে আছে। তাকে অপুর্ব সুন্দর লাগছে। আমি মনে মনে ভাবছি। হয়তো আমি কালো পড়েছি। তাই আমার সাথে ম্যাচিং করে পড়েছে। তার মানে কী? সানিয়াও আমাকে পছন্দ করে?
আমি আর সানিয়া রিক্সায় বসে লালবাগ কেল্লায় যাচ্ছি। আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। যাতে সানিয়ার শরীরের সাথে শরীর না লাগে। কিন্তু উপায় নেই। রিক্সাটা খুব ছোট। আমাদের দুজন শরীর ঘষা খাচ্ছে। আর আমার মনে কারেন্ট শর্ট লাগছে।
সানিয়া: ভাইয়া! একটা আইস্ক্রিম নেন। আমি আইস্ক্রিম খাবো।
আমি: ভাইয়া মানে? আমি তোমার ভাই না। আমাকে স্যার ডাকবা। বুঝছো?
সানিয়া: আচ্ছা! স্যার! আইসক্রিম নিয়ে আসুন।
আমি বাধ্য হয়ে আইস্ক্রিম নিয়ে আসলাম। আর নিজের জন্য একটা সিগারেট কিনলাম। এখন আমার বিরক্ত লাগছে। ভেবেছিলাম লালবাগে গিয়ে একটু রোমান্টিক মুহুর্ত কাটাবো। এর আগেই ভাইয়া ডাকা শুরু করেছে। মন চাইছিল একটা থাপ্পড় দেই। রিক্সায় উঠতেই রিক্সা আবার চলতে শুরু করলো। সানিয়া আইস্ক্রিম খাচ্ছে।
আমি সিগারেট টা ঠোটে নিয়ে যখন ই ধরাতে যাবো। অমনি সানিয়া আমার ঠোটের থেকে সিগারেট নিয়ে ফেলে দিল রাস্তায় । এই মেয়ের এতো সাহস?
সানিয়া: দেখুন! সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয়। এসব আর খাবেন না। আর আমার সিগারেটের ধোয়া একদম ই সহ্য হয় না।
আমি: তোমার পছন্দ মতো আমি চলতে পারব না। আমি তোমার গাইড। সো আমি যা বলবো তাই তোমাকে মানতে হবে। আর এটা গোল্ডলিফ সুইচ। এই সিগারেট থেকে সেন্টার ফ্রুটের গন্ধ আসে।
এবার পকেট থেকে আরেকটা সিগারেট বের করে ধরালাম। আমাদের ঝগড়া দেখে
রিক্সাওয়ালা বলল : নতুন বিয়ে করলে এমনই হয়। একটু ঝগড়া লাগবোই। কিন্তু নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নিতে হইবো।
আমি: (মজা নেওয়ার জন্য) দেখেন না চাচা! এখন বুঝে না। স্বামীকে কিভাবে খুশি রাখতে হয়।
কথাটা বলার পর সানিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি কেমন রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেন এখন ই খেয়ে ফেলবে।
অবশেষে আমরা দুজন লালবাগ কেল্লায় পৌছালাম।
_
সানিয়াকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে পুরো জায়গাটা দেখালাম। কিন্তু লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গের সামনে এসে সানিয়া দাড়িয়ে গেল।
সানিয়া: এখানে দেয়ালে এ+বি, বি+কে, এসব লেখা কেন?
আমি: (মজা করে) কারন এখানে যারা আগে প্রেমিক প্রেমিকারা আসতো। তারা মনে করতো যে নিজের নামের সাথে প্লাস (+) দিয়ে প্রেমিকার নাম দেয়ালে লিখলে তাদের ভালোবাসা চিরকাল থাকবে।
সানিয়া: তাহলে আমিও দেয়ালে লিখতে চাই।
সানিয়া ইট দিয়ে দেয়ালে লিখলো (R+S).
আমি: R এ আবার কার নাম?
সানিয়া: রবীন ভাই! আমি আপনাকে বলব না। আপনি বুঝে নেন।
আমি: না! বুঝতে পারছি না। R এ তো অনেক এর নাম ই হয়।
সানিয়া আমার কথা শুনে মুখ চেপে হাসতে লাগলো।
সানিয়া: আপনি এতো বোকা। তা আমি জানতাম না। আচ্ছা! আপনি কি কখনও প্রেম করেন নি?
আমি: (উদাশ হয়ে বললাম) না!
কথাটা বলার পর ই আমার মনে পড়ে গেল অতীতের কথা। যেখানে ৩ বছর আগে সুরভী নামের একটি মেয়েকে আমি পছন্দ করতাম। কিন্তু মেয়েটিকে প্রপোজ করার পর সে আমাকে রিজেক্ট করে দেয়। এরপর থেকে আর কখনও কারো প্রেমে পড়িনি। কিন্তু যখন সানিয়াকে প্রথম দেখলাম। তখন আবার আমার ভেতর প্রেমের অনুভুতি শুরু হয়ে গেল। মানুষ প্রেমে পড়ে, একবার না বার বার পড়ে। কিন্তু আমি সুরভীর কথা সানিয়ার থেকে লুকাতে চাই। তাই ওকে মিথ্যা বলেছি।
আমি: প্রেম কী? আমি তো সেটাই জানি না। এটা খায় নাকি পড়ে?
সানিয়া: (রহস্যময় গলায় বলল) আমি আপনাকে শিখাবো কিভাবে প্রেম করতে হয়।
আপনার কি কোন পছন্দের মানুষ আছে?
আমি: (মনে মনে বললাম, এই তো আমার সামনেই তো তুমি আছো, তবুও কেন ছেলেমানুষী করছো। সানিয়া! আমি জানি তুমিও আমাকে পছন্দ করো। কিন্তু এতো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার কি আছে? সরাসরি বললেই পারো।)
আমি: হ্যা! আছে একজন।
সানিয়া: কে সে?
আমি: বলবো না! আগে বলো R এ কার নাম?
সানিয়া: আসলে আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। যদি রাগ না করেন। প্লিজ রাগ করবেন না!
আমি: হ্যা! বলো।
সানিয়া: আসলে আপনাকে প্রথম দেখাতেই আমার ভালোলেগে গেছে। আমি আপনাকে ভালোবাসি।
কথাটা বলেই সানিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমার তখন হার্টবিট দ্বিগুন হয়ে গেল। আমি নিজের হার্টবিট নিজে শুনতে পারছি। আমিও তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম।
এখন বুঝতে পারছি। R এ তাহলে আমার ই নাম রবীন। এটাই লিখেছে।
সানিয়া রিকসার হুড তুলে দিল। আমি আর সে এখন বাসায় ফিরছি। সানিয়াকে তার বাসায় পৌছে দিয়ে আমি চলে আসবো। তাই একটা রিক্সায় নিয়েছি। রিক্সাতে আমি আর সানিয়া। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম তার নিজের হাত আমার হাতের ওপর রাখলো। তারপর আমার হাতটাকে শক্ত করে ধরে রাখলো।
সানিয়া: আচ্ছা! আমার ভাই শামীমের সাথে তোমার কিভাবে পরিচয়?
আমি: শামীম আমার ক্লাস সিক্স এর ক্লাসমেট ছিল। ওখান থেকেই আমাদের পরিচয়। আমার মনে আছে একবার আমি আর শামীম আরো ২জন বন্ধু মিলে যখন পুকুরে গোসল করতে নেমেছিলাম। তখন আমি সাতার জানতাম না। তাই ওরা তিনজন মিলে মজা করছি। আমি সিড়ির ওপর বসে ছিলাম। হঠাৎ এক বন্ধু আমার পা ধরে সিড়ি দিয়ে পানিতে ফেলে দিল। আমি তখন ঠাই না পেয়ে ডুবতে শুরু করেছি। আর অনেক পানিও খেয়ে ফেলেছি। সেই সময় শামীম বিষয়টা লক্ষ্য করে। আর আমাকে বাচায়।
তারপর থেকেই আমরা বেস্টফ্রেন্ড।
সানিয়া: ওহ্। আচ্ছা! যদি কখনও আমাদের সম্পর্কের কথা ভাইয়া জেনে যায়। তখন কি তুমি আমাকে ছেড়ে দিবে?
আমি: আমি জানি না। তখন শামীম খুব রাগ করবে। হয়তো আমার সাথে আর কখনই কথা বলবে না। কারন ও আমাকে অনেক বিশ্বাস করে। আর আমি হয়তো তোমার সাথে রিলেসন করে। ওর বিশ্বাস ভেঙেছি।
( সানিয়া আমার হাতটা ছেড়ে দিল। এবার আমি সানিয়ার হাতটা শক্ত করে ধরে নিজের বুকের ওপর রাখলাম)
আমি: যদি কখনও এমন পরিস্থিতি আসে। যে সবকিছু জানাজানি হয়ে গেছে। তখন আমি আর তুমি পালিয়ে যাব। দুর অজানার গহীন অরণ্যে। সেখানে থাকব তুমি আর আমি।আমাদের আর কেউ পাবে না।
সানিয়া: সত্যি বলছো। এতোটা ভালোবাসো আমায়?
আমি: হ্যা! যদি তুমি নিজের পরিবার ছেড়ে চলে আসতে পারো। তবে..
সানিয়াকে তার বাসায় পৌছে দিয়ে নিজের বাড়ি চলে আসলাম।
রাতে ঘুম আসছে না। সারাক্ষন সানিয়ার কথা মনে পড়ছে। এ কি প্রেম নাকি এল রাত জেগে কাটাবার? সানিয়াকে কল দিব কি না ভাবছি। রাত ৩টা বাজে। সানিয়া ও কি আমার
কথা ভাবছে? নাকি ঘুমিয়ে গেছে। খুব জানতে ইচ্ছে করছে আমার। তাই ওর ফোনে একটা ম্যাসেজ পাঠালাম। কিছুক্ষন পরেই রিপ্লাই আসলো।
সানিয়া: কেন জানি আজকে ঘুম আসছে না। সারাক্ষন তোমার কথা মনে পড়ছে।
আমি: আমারো একই অবস্থা! তুমি এখন কি করছো?
সানিয়া: তেমন কিছু না। বারান্দায় বসে আছি। এখানে প্রচুর বাতাস। ভালোলাগছে। আর তুমি?
আমি: এখানে কারেন্ট চলে গেছে। তাই মশার কামড় খাচ্ছি।
সানিয়া: হাহাহা।
ম্যাসেজ করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। ঘুম ভাঙলো ফোনের ভাইভ্রেসনের শব্দে। ফোন করেছে শামীম। এতো সকালে কেন ফোন করলো? ফোনটা রিসিভ করলাম।
শামীম: গুড নিউজ আছে দোস্ত!
আমি: কিসের? তোর পা ঠিক হয়ে গেছে?
শামীম: আরে না! সানিয়ার বিয়ে আগামী শুক্রবারে। পাত্রপক্ষ আজ সানিয়াকে দেখতে আসবে। দেখে পছন্দ হলেই বিয়ে। ছেলে লন্ডনে থাকে, সেখানেই বিজন্যাস। অনেক টাকা পয়সার মালিক। পাত্রী পছন্দ হলেই শুক্রবারে বিয়ে আর তারপর পাত্রী কে নিয়ে সোজা লন্ডন চলে যাবে।
আমি: সানিয়া তো এখনও অনেক ছোট, মাত্র কলেজে পড়ে। এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার কারন কী?
শামীম: সানিয়ার বয়স এবার ১৮ হয়েছে। ওকে তুই যতোটা ছোট ভাবছিছ, ততোটা না। আর মেয়ে মানুষ পড়াশোনা করে কি করবে। ওদের কাজ হচ্ছে সংসারে থালা বাসন মাজা।
আমি: তারপরও কেমন যেন তাড়াহুড়া হয়ে যাচ্ছে না। আজ সোমবার। আর কয়েকদিন পরই তো শুক্রবার। দোস্ত! তুই একটু ভেবে দেখ। আর সানিয়ার মতামত কী?
শামীম: আমি বড় ভাই হিসেবে সানিয়াকে যা বলবো ও মাথা পেতে মেনে নিবে। আমি ওকে বলেছি ওর কাউকে পছন্দ কি না। মুখে কিছু বলেনি। মাথা নেড়ে না বলেছে। এখানে আমার আর কিছু করার নেই।
( আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, সানিয়া কেন স্বীকার করলো না। যে আমাকে ভালোবাসে। তাহলে কি ওর ভালোবাসা মিথ্যা ছিল। কেন জানি আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। সবকিছু কেমন ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। ফোনের ওপাশ থেকে শামীম কথা বলে যাচ্ছে। সেই কথা আমার কানে যাচ্ছে না। তারপর আমার চারিদিক ঘোলা থেকে আমার স্পষ্ট হয়ে গেল। আর শামীমের কথাগুলো আমার কানে আসতে লাগলো।)
শামীম: কিরে! কথা বলছিছ না কেন? চুপ করে আসিস কেন?
একবার কলিংবেল টিপ দিতেই দরজা খুলে দিল সানিয়া। আমি ওর সাথে কোন কথা না বলে ভেতরে প্রবেশ করলাম। শামীমের ঘরে গিয়ে দেখি শামীম শুয়ে আছে। আমাকে দেখে হাত নেড়ে ওর পাশে বসতে বললো। আমি শামীমের পাশে গিয়ে বসলাম।
শামীম: সানিয়াকে তোর কেমন লাগে?
আমি: ভালো,ভদ্র মেয়ে। কেন বলতো?
শামীম: এখন যদি ওর বিয়ে না দেই। তাহলে কুড়িতে হবে বুড়ি। তখন আর ওকে কেউ বিয়ে করতে চাইবে না। তুই ই বল, তুই কি ২০বছরের কোন মেয়েকে বিয়ে করবি?
আমি মনে মনে বললাম ২০ কেন ৩০ হলেও সমস্যা নেই, যদি সেটা সানিয়া হয়।
শামীম: কিরে! উত্তর দে।
আমি: আরে না! করতাম না।
শামীম তার মানি ব্যাগ বের করে ১হাজার টাকা দিয়ে বলল, এই টাকা দিয়ে কিছু নাস্তা কিনে নিয়ে আয়।
আমি যখনই মেইন দরজা দিয়ে বের হতে যাবো। তখনই দরজার সামনে এসে পড়লো সানিয়া। সানিয়া দাড়িয়ে আছে আমার সামনে।
আমি: দরজা ছাড়ুন! আমাকে বের হতে দিন।
সানিয়া: তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আমি: আমার সময় নেই এখন।
কথাটা বলে সানিয়াকে ধাক্কা দিয়ে দরজা থেকে সড়িয়ে দিলাম। তারপর রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। দুপুরের কড়া রোদে হাটছি আর ভাবছি। সানিয়া কেন বললো না তার ভাইকে সে আমাকে ভালোবাসে? এটা আমার ইগো তে লেগেছে।
বিকেল ৪ টা বাজে।
পাত্রপক্ষ বলতে যা বুঝি। তা ভেবেছিলাম যে ছেলের পুরো পরিবার আসবে। কিন্তু এখন দেখি ঘরে একটা মোটা লোক সোফায় বসে আছে। লোকটা বয়স্ক। বয়স ৩৫-৪০ হবে। এই লোক বিয়ে করতে এসেছে। ভেবেই হাসি পাচ্ছে। আমাকে দেখে লোকটা হাতের ইশারায় ডাক দিল। আমি সামনে এগিয়ে গেলাম।
আমি: আসসালামু আলাইকুম।
লোকটা: ওয়ালাইকুম সালাম। হোয়াট ইজ ইয়োর ন্যাম?
আমি: ভাই। বাংলায় বলেন। আমি ইংরেজিতে খুব কাচা।
লোকটা: তোমার নাম কী?
আমি:মো:রবীন। আর আপনার নাম টা কী?
লোকটা: আমার নাম মোবারক হোসেন। আচ্ছা! এই বাসায় টয়লেটটা কোন দিকে বলতে পারো? আমার একটু টয়লেটে যেতে হবে।
আমি: (মজা করে) এখানে কোন টয়লেট নেই। আপনাকে টয়লেট করার জন্য বাইরে যেতে হবে। পাশেই একটা মসজিদ আছে। সেখানে গিয়ে টয়লেট করে আসুন।
মোবারক সাহেব: ওকে! থ্যাংক ম্যান!
কথাটা বলে তিনি উঠে বাইরে চলে গেলেন। এতো বোকা আর সরল সোজা লোক। আমি আগে কখনও দেখিনি।
এমন সময় আমার শার্টের কলার ধরে সানিয়া ওর ঘরে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। আমি ভয়ে কাপছি। সানিয়া আমার অনেক কাছাকাছি এসে গেছে।
সানিয়া: কিরে! তোকে কখন থেকে বলতেছে একটু কথা আছে।
_
সানিয়া আমার ঘাড়ে একটা কামড় দিল আর তখনই দরজা খুলে গেল। সানিয়ার বাবা দেখে ফেলেছেন। আজ বোধ হয় আর রক্ষে নেই।
কখনও প্রেম করবেন না। আর করলেও বন্ধুর বোনের সাথে তো কখনই না। কারন এর ফলাফল হচ্ছে খুবই ভয়ানক।
সানিয়া বিয়ের গাড়ি থেকে নামছে। তাকে আজ অপুর্ব সুন্দর লাগছে। সে সেন্টারে ঢুকলো। আজ তার বিয়ে। সবাই খুব খুশি। এখন শামীমের পা টাও ভালো হয়ে গেছে কিছুটা। সে এখন পা টেনে টেনে হাটে। বেচারা! শামীমের কোলে ৫ বছরের একটা শিশু। এটাই সেই শিশু। যাকে শামীম সেদিন দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল । আজ সেই শিশুটাকে নিয়ে শামীম বিয়ে বাড়িতে এসেছে।
যখন আমি সানিয়াকে বউ সাজে দেখলাম। তখন তো ওর ওপর থেকে চোখ ই সড়াতে পারলাম না। সানিয়াকে বসিয়ে দেওয়া হলো আমার পাশে। হ্যা! আমি ই বর। আর সেদিন সানিয়ার কামড় দেওয়াতেই এটা হয়েছে। সানিয়ার বাবা ভেবেছে আমরা বোধ হয় দুজন দুজনকে কিস করতেছি। আর তারপর তিনি আমাকে বললেন আমার পরিবার নিয়ে আসতে। আর তারপর পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হচ্ছে।
আমি সানিয়াকে চিমটি কেটে বললাম, সেদিন কামড় দিয়েছো, এখন চিমটি খাও!
সানিয়া: সেদিন তোমার ঘাড়ে কামড়টা না দিলে আজ আমাদের বিয়ে টা হতো না। আমি ওই বুড়োর সাথে বসে হানিমুনে থাকতাম। তাও আবার লন্ডনে। আচ্ছা! বাবু! আমাদের হানিমুন কোথায় হবে?
আমি: আমরা হানিমুনে বরিশাল যাবো। লন্চে সারারাত ইন্জয় করব। সকালে আমার এক বড় আপু সেখানে থাকে। তার বাসায় কয়েকদিন থাকবো।
সানিয়া: দেশের বাইরে যাই চলো।
আমি: দেখা যাক!
বাসর রাতে ঢুকে দেখলাম সানিয়া লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমাকে দেখেই ঘোমটা ফেলে দিল।
সানিয়া: কাছে আসো। তোমার সাথে কথা আছে।
আমি: না! তোমার কাছে গেলে তুমি কামড় দিবে, যা বলার দুর থেকে বলো।
সানিয়া: এখন কামড় দিব না! তোমাকে আদর করব আসো।
আমি সানিয়ার সামনে গেলাম। আর তখনই সানিয়া আমার কানে একটা কামড় দিল।
(সমাপ্ত)