বাস থেকে নেমে সে যখন ফুটপাথে পা রাখে,
তখন শহরের গায়ে হাজারটা বাতির আলো,
ঝলমলে ট্রাফিক, ফেরিওয়ালার চিৎকার, রিকশার বেল;
অথচ এই সমস্ত কোলাহল তাকে একটুও ছোঁয় না।
সে শুধু শার্টের বোতামটা একটু আলগা করে দেয়,
হাতে ধরা সস্তা চামড়ার ব্যাগটা ভারী লাগে আজ।
তার মাথার ভেতরে তখন অন্য এক ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে,
কাল সকালে আবার সাড়ে ন'টায় পাঞ্চ করতে হবে কার্ড,
আবার সেই বসের তর্জনী, ফাইলের পাহাড়, আর অন্তহীন হিসাব।
অথচ একটা সময় তার চোখের কোণে আস্ত একটা নীল আকাশ ছিল,
পকেটে জমা হতো ল্যাম্পপোস্টের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল কিছু স্বপ্ন।
ছবি নামের একটা মেয়ে ছিল, যার আঙুলের ছোঁয়ায়
হঠাৎ করে থমকে যেত সময়, শুরু হতো অন্য এক পৃথিবী।
আজ সেই ছবি অন্য কারও ঘরের ঘরণী,
আর তার স্বপ্নগুলো পুড়িয়ে সে বানিয়ে নিয়েছে একখানা চাকরির আইডি কার্ড।
একজোড়া জুতো ক্ষইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মাসশেষে কিছু টাকা আসে ঠিকই,
কিন্তু বুকের বাঁ পাশে জমে থাকা সেই পুরনো বিকেলগুলো
কোথায় যে হারিয়ে গেল এই ধোঁয়া আর পিচের রাজপথে!
যুবকটি হাঁটতে হাঁটতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা কেনে,
তারপর ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,
আমি বেঁচে আছি ছবি, আমি বেঁচে আছি;
শুধু আমার ভেতরে যে মানুষটা তোমায় ভালোবাসত,
সে প্রতিদিন আট ঘণ্টার ডিউটি শেষে মরে যায়।