সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে গুলিস্তানের কোলাহল থেমে গেলে,
আমি তখন একা একা হাঁটি পুরান ঢাকার সরু গলি ধরে।
পকেটে স্রেফ একটা গোল্ডলিফ আর পুরোনো নোটবুক,
আর মাথার ভেতর তোমার গলার সেই চেনা স্বরের রিনঝিন।
তুমি হয়তো তখন ঘুমের ঘোরে জড়িয়ে ধরো পাশ বালিশকে,
জানলার দিয়ে ভেসে আসা রিকশার ঘণ্টা ছুঁয়ে যায় তোমার কপাল।
অথচ আমার এই শহরের আকাশে কোনো তারাও ওঠে না বহুদিন,
এখানে কেবল বুড়িগঙ্গার কালো জল আর গ্যাসের চুলার ধোঁয়া।
ছবি, তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছো এই ঢাকার ভিড়ে,
আমরা দুজন কত দূরে আছি দুই ভিন্ন কামরার অন্তরীক্ষে?
আমি যখন একা রিকশায় ফিরি শাহবাগের মোড় পেরিয়ে,
তখন সিগন্যালের লাল বাতিটার আলোয় কেবল তোমার মুখ ভাসে।
জীবনের হিসাব মেলাতে মেলাতে ফুরিয়ে এলো কেরোসিনের তেল,
টেবিলের ওপর জমে উঠল ঠান্ডা চা আর মাকড়সার জাল।
তবু যদি কোনো দিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায় জ্যামে আটকে থাকা বাসে,
জেনো, এই জীর্ণ শহরেও আমি কেবল তোমাকেই ভালোবেসে যাবো।