রাইত গভীর অইলে যখন খাঁ খাঁ করে গোরস্থানের পার,
তখন আমি দরজাটা আস্তে বুজিয়া দিয়া চিরাগটা জ্বালাই;
চুলের গোছা শক্ত করি বাঁধি, যেন মনডা আবার
উড়াল পাখি অইয়া ওই হিজল বনের দিকে চইলা না যায়।
কপালে একটা কালা টিপ বসাইয়া যখন আয়নার সামনে
দাঁড়াই, তখন আয়নার ভেতরের মাইয়াডা কেমন জানি
একদৃষ্টিতে চাইয়া থাহে, যেন সেও এই কাঁচা বয়সের
উথাল পাথাল গোপন তুফানটার সবখবর এক্কেবারে জানে।
আমি তার সাথে শলা করি, হুনছস রে আয়না, পরানের ভেতর
আইজ যে কী এক আজব আগুন জইলা উঠছে নিশিরাইতে,
ওই পুব পাড়ার ছুড়াটা যখন ঘাটের পন্থে চোখ তুইল্লা চায়,
তখন পরানের কলিজাডা আমার কেমন ধুকপুক করিয়া কাঁপে!
আয়নাডা কোনো কথা কয় না, খালি ঝিকমিক কইরা হাসে,
যেন আমার এই ছটফটানি আর নিঘুম চোখের আকুলতা
তার কাছে খুব চেনা এক পরানের সুর; আমি আবার
তার কাঁচের গালে হাত রাইখা ফিসফিসাইয়া শুধাই,
বল না রে মাইয়া, এইডা কি প্রেমের রোগ অইল আমার?
রাইতে ঘুম আসে না, চাউলের হাঁড়িতে হাত দিলে চাল
ঝইড়া পড়ে, রাইন্দা বাড়তে গিয়া কেবল তার মুখডাই
ভাইসা ওঠে ওই ধোঁয়ার আড়ালে; আমি অহন কই যাই?
আয়নার ওই পারের রূপডা অহন আস্তে লাল অইয়া ওঠে,
যেন আমার বুকভাঙা লাজুক কথাটা শুইনা সেও প্রেমে পড়ছে!