বানের তোড়ে তলিয়ে গেছে খেতের ফসল, পথঘাট আর ভিটেবাড়ি,
চারিদিকে শুধু ঘোলা জলের থইথই খেলা, শুকনো ডাঙার দেখা নেই।
যে উঠানে রূপোর মতো রোদ উঠত, ধান শুকাতে দিতে গাঁয়ের মেয়ে,
সেখানে আজ পচা আবর্জনা ভাসায় বান, জীবন থমকে গেছে নৌকার খোলে।
কোথায় গেল হাতের রাঙা চুড়ি, সেই কপালে পরা লাল টিপ,
কোথায় গেল আলনায় রাখা শাড়ির সোহাগী আঁচলখানা?
আয়নায় মুখ দেখার জো নেই, সাজগোজের রঙিন দিন ভেসে গেছে জলে,
এখন শুধু ভিজে পরনের থান আর বুক সমান পানির সাথে প্রতিদিনের লড়াই।
কোলে কাদা মাখা ক্ষুধার্ত শিশু, চালের পাত্রে হাত বাড়ালে ভেসে ওঠে শূন্যতা,
চুলা জ্বলে না দুই প্রহর, ভিজে কাঠে শুধু ধোঁয়ার দীর্ঘশ্বাস।
যে হাতে কোনোদিন শক্ত কাজ করতে হয়নি,
সে হাত আজ পলিমাটি আঁকড়ে ধরে,
ত্রাণের নৌকার দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে
চোখের কোল দুটো আজ কেবলই শুকিয়ে গেছে।
চাষির কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ, সেও তো নিঃস্ব, সর্বশান্ত আজ।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের কান্নাটা চেপে রাখে চাষি বউ,
বুকের ভেতর জমে থাকা সব হাহাকার ভাসিয়ে দেয় এই অসীম ঘোলা স্রোতে।
রূপ হারিয়েছে জীবনের সব রূপকথা, ফিকে হয়ে গেছে একালের ভালোবাসা,
তবু এই বান, এই বুকভাঙা দুর্যোগকেই আজ পরম সাথী করে
সে বুনে যায় কেবল একটা শুকনো ডাঙায় ভোরের স্বপ্ন।