Story

"শেষ বিকেলের স্বপ্ন "

October 16, 2026

36 views

রবি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ;উৎসুক নয়নে প্রকৃতির দৃশ্য অবলোকন করছে। মাঝে মাঝে গ্রীষ্মের তপ্ত বাতাস, থমকে থমকে তার শরীরকে দোলা দিয়ে যাচ্ছে।চুলগুলো বাতাসে সাথে যুদ্ধ করতে করতে ;পরাজিত সৈনিকের মতো নুয়ে পড়ছে। আপন মনে সে বলতেছে,"এই গ্রীষ্মের বাতাস, এতো রাগ করছো কেনো?তোমার রাগিণী কি তোমায় অনেক বকেছে!
হঠাৎ তার চোখ পরে;সামনের বাসার ছাদে,একটি মেয়ের দিকে।মেয়েটি আপন মনে ছাদ বাগানে ; গাছের পরিচর্যা করছে।রবিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ;সেও আড় চোখে বার বার তাকাচ্ছে।মেয়েটি গাছে পানি দিচ্ছে, আর যেসব গাছে ফুল ফুটেছে সেসব আলাদা করছে।
রবির জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, " কি গো,বাহিরের বাগানে তো অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটিয়েছেন ; তা মন বাগানের কি খবর!বাহিরের বাগানের পরিচর্যা করে ক্ষনিকের জন্য সুখ পাওয়া যায়। কারন ফুল ফোঁটার কিছুক্ষণ পরেই তা ঝরে যায়। বরং মন বাগানের পরিচর্যা করেন।মন বাগানের ফুটন্ত ফুল সহজে ঝরে যায় না।
সারা জীবন সুবাস বিলিয়ে দেয়;আমায় তোমার মন বাগানের মালি করে নাও না।মনের মাধুরি মিশে পরিচর্যা করে;ভালবাসার ফুল ফুটিয়ে দেব;যা কখনো ঝরে পরতে দেব ন।পানি না থাকলেও ;চোখের জল দিয়ে হলেও বাঁচিয়ে রাখবো। "
এসব ভাবতে ভাবতে, রবিও চোখে ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে।আধো ঘুম চোখে সে দেখে;মেয়েটি একটি ফুল ধরা গাছের টব নিয়ে,রবির দিকে এগিয়ে এসে।ছাদের সামনের বেদীতে বসিয়ে দেন।
বাতাসে তার ওড়না, গোলাপ গাছের কাঁটায় বিঁধে যায়।
খোলার জন্য আলতো করে টান দিলে,আরো শক্ত করে জরিয়ে যায়।  এগিয়ে গেলে মনে হলো,টবসহ গাছটি নিচে পরে যায়।
রবি মেয়েটিকে আর ছাদে দেখতে না পেয়ে, রুমে এসে শুয়ে পরে। মেয়েটিকে ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পরে।
এই রবি...রবি,এই ওঠো...
রবি ওঠে পরে জিজ্ঞেস করে; আপনি!এখানে কেনো?কেনো! আমি ছাড়া অন্য কেউ আসবে না কি?
রবি আবার জিজ্ঞেস করে - কি হয়েছে?
কি আর হবে! তোমার দিকে তাকাতে গিয়ে টবসহ যে গাছটা, নিচে পরে গিয়েছিল। তা একটা লোকের মাথায় পরে!লোকজন এসে বাগানের মালিক আর বিকেলে ছাদে কে গিয়েছিল, তাকে খুজতেছে।
এখন তুমি আমাকে বাঁচাও!তোমার জন্যেই তো এতকিছু!
রবি প্রচুর ঘামতে থাকে,গলাও শুকিয়ে যায়।
হায়রে মানুষের মন! একটু আগেই ছিল চনমনে রোদের মতো আর মুহূর্তেই কালো মেঘের ঘনঘটা।
সে অনেক্ক্ষণ চুপ থেকে বলে-চলো পালিয়ে যাই।
মেয়েটি শুধায়-কোথায়?
রবি বলে - কোনো এক অজানা গ্রামে!
মেয়েটি মাথা দুলিয়ে সম্মতি দেয়। দু'জনে বেড়িয়ে পরে,অজানার উদ্দেশ্যে।
রেললাইনের পাশ দিয়ে দুজনে হাটতে থাকে। রবি ভাবতে থাকে -কোনো ভালোবাসা  সম্পর্ক নেই; নেই কোনো রক্তের! অথচ তারা আজ পাশাপাশি, একসাথে। অজানা কোনো এক পথের পথিক!
বিপদ অপরিচিত মানুষকেও মুহূর্তে পরিচিত ও আপন করে দেয়।
কিছুদূর হাঁটার পর ;রেল লাইনের দুপাশে খেজুর গাছের সারি দেখে,মেয়েটির দুচোখে উচ্ছ্বাস ফুটে ওঠে। আরো কিছুদূর হাঁটার পর ;চোখের সামনে দেখা যায়।আমবাগান,লিচুবাগান ও কাঁঠালবাগান।
শহরের মেয়ে; গ্রামের এমন সৌন্দর্য দেখে ছোট ছেলে-মেয়েদের মতো লাফালাফি শুধু করে দেয়।
কে বলবে"! একটু আগেই,ভয়ে এই মেয়ের চোখে কালো মেঘ জমেছিল। ছিলো প্রবল দুর্যোগের আভাস। অথচ এখন সেই মেঘ কেটে গিয়ে;সেখানে এখন ভাললাগা,ভালবাসার হাতছানি!
এমন উচ্ছ্বাস দেখে রবি, মেয়েটিকে নিয়ে লিচবাগানে নেমে যায়।মেয়েটি বাগানে গাছে গাছে থোকা থোকা লিচু দেখে, হাত বুলায় আর সতেজ লিচুর ঘ্রাণ নিতে থাকে।
রবি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেন, " লিচু খাবেন?"
মেয়েটি বলে উঠে,  "কেউ কিছু বলবে না!"
না।মেয়েটি আবার জিজ্ঞেস করেন,"কেনো?"
আমরা তো আর লিচু চুরি করতে আসিনি ; এসেছি দেখতে।
বাগানে মেয়েটির লাফালাফি দেখে অনেকে হাসতে থাকে।হঠাৎই একটি ছোট ছেলে এসে;মেয়েটির হাতে কিছু লিচু দিয়ে যান।
মেয়েটি লিচু মুখে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ;এর সতেজতা অনুভয় করতে থাকে।
আবার তারা একটি আমবাগানে প্রবেশ করে।কিছু কিছু গাছের আম মাটিতে নুইয়ে পরেছে।অনেক গাছে পাখি আম খেয়ে রেখেছে। মেয়েটি একটি পরে থাকা আম হাতে নিয়ে মুখে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বলতে থাকে, এতো মজার আম তার কখনোই খাওয়া হয়নি। এভাবে চলতে চলতে দুজনেই ক্লান্ত;রবি একটি বড় আম গাছের নিচে গিয়ে বসে পরে।গাছের গোড়ায় মাথা রেখে পা এলিয়ে দেয়। পাশে এসে মেয়েটি রবির কাঁধে হাত রেখে শুয়ে পরে।ক্লান্তিতে রবির চোখ কিছুটা লেগে যায়।রবির চোখ বন্ধ দেখে,মেয়েটি রবিকে টানতে থাকে।রবি চোখ খুলে দেখে,মেয়েটি তাকে জরিয়ে ধরে কাঁপতে থাকে।
রবি জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে?
মেয়েটি বলে-এখানেও যদি পুলিশ আসে!
পাগলী মেয়ে,আমি তো আছি।ঘুমাও।
মেয়েটি রবিকে জরিয়ে ধরে ;বুকে মাথা রেখে, ঘুমিয়ে পরে। উষ্ণ আলিঙ্গনে রবির পুরো শরীরে বিদুৎ খেলে যায়।মেয়েটির শরীর থেকে বেরুতে থাকে অনুভূতির ঘ্রাণ। যা রবির চৈতন্যকে শিহরিত করে তোলে!চুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে, রবির চোখ আবার লেগে যায়।
হঠাৎ রবির ঘুম ভেঙে যায়। সে দেখে, কোথায় সে মেয়ে,কোথায় সে আম বাগান!
বিছানা থেকে উঠে আবার সে বারান্দায় আসে।দেখে-মেয়েটি আপন মনে বাগানের পরিচর্যা করেই যাচ্ছে।
রবি স্বপ্নে কথা ভাবে মনে মনে হাসতে থাকে। আর ভাবে-শুধু স্বপ্নই পারে, এতো সামান্য মুহূর্তে  মানুষকে এতোটা কাছেকাছি আনতে।
মেয়েটিকে দেখে আফসোস করে বলে-এতটা পথ চলা হলো;এতোটাই কাছাকাছি আসা।অথচ নামটা পর্যন্ত জানা হলো না!

মো: ফরহাদ

Picked up where you left off

Comments

Abu Hanif was this story’s first reader

+40 XP

    Please login to post comment. Login

  • Abu Hanif 1 hour ago First reader

    খুব সুন্দর হয়েছে। স্বপ্নের অনুভূতিতে গল্পের লেখনিটা অনেক দুর এগিয়েছে অথচ নামই জানা হলো না নায়িকার😁