ঘড়ির কাঁটা ঠিক চারটে ছুঁই,
ফারুক সাহেব উঠে বসেন।
আজও মনে পড়ে, মেয়ের কন্ঠে
শেষ দুটো শব্দ: ফিরে আসবো।
ছ'বছর কেটে গেছে,
কিন্তু আসেনি ভোরের সেই বাস।
আলো এসে থমকে দাঁড়ায় ধুলোভরা জানালায়,
একটা পাখি এসে বলে,
তুমি তো আর দরকারি নও,
তোমার ঘরে এখন নীরবতার কাঁটা জ্বলে।
তুমি মানেই একটা অবহেলা এখন।
সাহানা বেগম চুপ করে থাকেন,
তার বালিশের নিচে আজও
নাতির দেয়া নীল শাড়ি।
সে ছেলেই নিয়ে এসেছিলো এই ঘরে,
যেনো মা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে।
দেয়ালের ক্যালেন্ডারে রোজ
জন্মদিন, মৃত্যুদিনের গোল্লা আঁকা।
মনে পড়ে না, কার কোনটা।
এখানে সবার গল্পে বসে আছে
শুধু অভিমানের কুয়াশা।
কেউ কেউ একা বসে বসে কান্না করে।
কেউ কাউকে কারণও জিজ্ঞেস করে না।
গা সওয়া হয়ে গেছে।
বরং যেদিন কেউ কান্না করেনা,
সেদিন সবাই অবাক হয়।
আজ পৃথিবীর হলো কী!
চায়ের ট্রেতে পড়ে থাকে টোস্ট বিস্কুট।
কারো দাঁত নেই,
কারো কথা বলার মতো সময় নেই।
শরীরে সবার রাজ্যের অসুখ।
শুধু হঠাৎ হঠাৎ
কেউ বলে ফেলে,
ভুল করে ফেলেছিলাম বুঝি,
ভালোবেসে।