ঝরে গেছে বসন্তের লাল পলাশ, থমকে গেছে চেনা অলকানন্দা;
আমাদের যে দিনগুলো আগুন রঙের মতো দাউদাউ করে জ্বলেছিল,
তারা আজ ধুলো ঢাকা রূপালী ছাইয়ের নিচে ঘুমায়।
যে পথ ধরে তোমার আঙুলের ছোঁয়া এসে লেগেছিল আমার হাতের তালুতে,
সেখানে আজ কেবল শুকনো পাতার মর্মর আর বাতাসের হাহাকার।
তুমি কি শোনোনি সেই বিলীয়মান মলহারের সুর?
যে সুরে একদিন আমাদের প্রথম অনুরাগের কাঁপন লেগেছিল,
আজ তা সুদূর পাহাড়ের কোলে আছড়ে পড়া এক প্রতিধ্বনি মাত্র।
তোমাকে আমি কোনোদিন বাঁধতে চাইনি,
চেয়েছিলাম রক্তের গভীরে এক চিরন্তনী নদীর মতো প্রবহমান রাখতে।
অথচ সময়ে আমরা আজ অচেন এক ধূসর প্রান্তরের দুই পারে!
যেখানে রোদ্দুরও এখন বড্ড ফ্যাকাশে, বড্ড অচেনা।
এই বুকের ভেতর জমে থাকা প্রাচীন অনুভূতির আকাশে
তোমার রেখে যাওয়া চাহনি আজও এক অলৌকিক নক্ষত্র হয়ে জ্বলে;
হারিয়ে গেছে বসন্তের দিন,
কিন্তু মনের গভীরে তুমি রয়ে গেলে এক অবিনশ্বর দহন হয়ে।