তুমি কি জানো?
ভালোবাসা কোনো উপপাদ্য নয়,
তবুও প্রতিদিন আমরা এক নিখুঁত ত্রিভুজ আঁকি।
তোমার অতীত, আমার নৈঃশব্দ্য, আর আমাদের
নিঃশ্বাসের মধ্যবর্তী দূরত্বে।
তোমার চোখ দুটি যেন সেই হাইপোটেনিউজ,
যা দুটো জীবনকে নিঃশব্দে যুক্ত করে।
আর আমি,
তোমার দৃষ্টির কিনার ঘেঁষে থাকা এক ক্ষীণ সূচক,
যে মাত্র এক চুল দূরে তোমার অপেক্ষায় থাকে।
আমরা দুটি উপগ্রহ,
নিয়মের পরিধি ভেঙে চলা দুটি একক কক্ষপথ।
যতক্ষণ না সময় নিজেই ভেঙে গিয়ে
একটি আলোর ঝড় মুহূর্তে আমাদের সংযুক্ত করল,
একটি নিরব অভিকর্ষের মধ্যবিন্দুতে।
তুমি বলেছিলে,
এটা অলৌকিক নয়, এটাই সংলগ্নতার নিয়ম।
তোমার স্পর্শে জেগে ওঠে আমার গহীন স্তর,
সেখানে আমি নতুন ব্যাকরণে কথা বলি।
অচেনা ধ্বনিতে আমার কথায়
তোমার হাসির দমকে
সময় কেবল পিছিয়ে যেতে থাকে,
অসীম অতীতে।
তোমার হাসি বুকের গভীরে দোলা দিয়ে
আমায় নিয়ে যায় তীব্র নীরবতায়।
তোমাকে ভালোবাসা মানে,
সময়ের বাইরে ধরে রাখা,
বরফে মোড়া গ্রহের বুকে
সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণে দিগন্তের ছবি দেখা।
তোমাকে ভালোবাসা মানে,
আকাশের ওজন মাপা হাত দিয়ে,
আর চোখ বন্ধ রেখে রং চিনে নেয়া আত্মার দৃষ্টিতে।
এদিকে দিগন্ত থেকে আশ্চর্য আহবান
এসে সূর্যকে বলে, আমাদেরকে আলো নয়;
অন্ধকার দাও।
তোমার পাশে এলে মনে হয়,
পৃথিবী হঠাৎ হালকা হয়ে গেছে,
যেন মাধ্যাকর্ষণ আমার পায়ের নিচে নয়,
তোমার চিবুকে বসে আছে।
দুর্বোধ্য জ্যামিতির উপপাদ্যের মতো।
হাইপোটেনিউজের সংযোগও এতো মোহময় হতে পারে!
তোমাকে ভালোবাসা মানে,
সব ভুলে যাওয়া,
আর শুধু মনে রাখা
আঙুলের ডগায় আমরা আমাদের
নিঃশ্বাসকে রেখে দিয়ে নি:শব্দে সাগর দেখি।
এই প্রেম, কোনো ঠিকানায় থিতু নয়।
এ এক চিরস্থায়ী ভ্রমণ,
যেখানে গন্তব্য আমাদের পথ,
সেই পথ, যেখানে আমরা চলতে চলতে
একদিন আলোর কণা হবো।
তারপর মহাকাশে সময়কে সাথে নিয়ে বিলীন হবো।