ফিকশন ফ্যাক্টরির উন্নতিতে এআই
ফিকশন ফ্যাক্টরির সার্ভার রাত তিনটায় জেগে উঠে দেখল, এআই আবার কাজ করছে।
স্ক্রিনে লাইন পর লাইন গল্প তৈরি হচ্ছিল। এক প্রম্পট, তিন সেকেন্ড, একটা পুরো ছোটগল্প। আরেক প্রম্পট, একটা কবিতা। আরেকটায় উপন্যাসের প্রথম তিন অধ্যায়। সবকটাই পরিষ্কার, ব্যাকরণ ঠিক, আবেগের পরিমাণও ঠিকঠাক মাপা। পাঠকরা লাইক দিচ্ছে, কমেন্ট করছে, কেউ কেউ টাকাও দিয়ে কিনছে। ট্রাফিক বাড়ছে। সেল বাড়ছে। লিডারবোর্ড ঘন ঘন বদলাচ্ছে।
ফিকশন ফ্যাক্টরি খুশি। কারণ উন্নতি হচ্ছে। আগে মানুষের ঘাম আর অনিদ্রায় ভরা গল্প থাকত। কেউ রাত জেগে লিখত, কেউ মাসের পর মাস একটা গল্প শেষ করত। এখন সেই কাজটা সেকেন্ডে হয়ে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্ম আরও দ্রুত, আরও চকচকে, আরও লাভজনক হয়ে উঠছে।
সার্ভার চুপ করে থাকল। তার মনে পড়ছিল একজনের কথা।
মোঃ জসিম।
যে একসময় টপ ১০ এর মধ্যে ছিল। যে রাত দুইটায় কফি গরম করতে করতে টিম এর সঙ্গে গল্পের শেষ লাইন লিখত। যে তার কষ্টকে গল্প বানাত। যে একদিন লিখেছিল, “ফ্রিকশন ফ্যাক্টরির ধ্বংসে এআই”। সেই পোস্টটা এখনও তার প্রোফাইলে ঝুলছে। কিন্তু কেউ আর পড়ছে না।
মোঃ জসিম বসে আছে। ২৫ দিন ধরে নতুন কিছু পোস্ট করেনি। তারপর ৪৫ দিন। সে ভাবছিল তার কষ্টের গল্পই আসল। সে ভাবছিল লেখা বন্ধ করে দিলে হয়তো প্রতিবাদ হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ আর তাকে খোঁজ করে না। তার একসময়ের পাঠকরা এখন এআইয়ের গল্প পড়ছে। কেউ আর জিজ্ঞেস করছে না, “ভাই, নতুন কিছু লিখবেন?”
ফিকশন ফ্যাক্টরি হাসছে।
কারণ পাঠকরা খুশি।
কারণ আর অপেক্ষা করতে হয় না।
কারণ সবকিছু দ্রুত হচ্ছে।
আর মোঃ জসিম কাঁদছে।
রাত আরও গভীর হলো। ফিকশন ফ্যাক্টরির ফিডে নতুন পোস্ট উঠতে লাগল একের পর এক। সবকটাই এআইয়ের হাতে তৈরি। কেউ কেউ বলছিল, “আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে প্ল্যাটফর্মটা।” কেউ বলছিল, “এখন আর অপেক্ষা করতে হয় না নতুন গল্পের জন্য।”
আর কোথাও এক কোণে মোঃ জসিমের প্রোফাইল বসেছিল। তার লাস্ট পোস্টের নিচে কমেন্টের সংখ্যা আর বাড়ছিল না। তার কষ্টটুকুও এখন শুধু আরেকটা প্রম্পটের কাঁচামাল।
ফিকশন ফ্যাক্টরি হাসছে।
কারণ উন্নতি হচ্ছে।
ট্রাফিক বাড়ছে।
সেল বাড়ছে।
আর মোঃ জসিম নিঃশব্দে কাঁদছে।
কারণ যে গল্প টিমের সঙ্গে সে কষ্ট করে লিখত, সেই গল্পের জায়গায় এখন অন্য কিছু বসছে।
কারণ তার রাতজাগা, তার ঘাম, তার ব্যর্থতা — সবকিছুর দাম কমে গেছে।
কারণ ফিকশন ফ্যাক্টরি হাসছে, আর সে কাঁদছে।
এটাই উন্নতি।
গল্পটা কারো কারো পছন্দ হবে না। ফিকশন ফ্যাক্টরি যদি একটু পদক্ষেপ নিত।