রক্তমাখা তলোয়ার এর ওপর মাছিগুলো উড়ছে। যেন তারা রক্ত খেতে চাচ্ছে। তলোয়ারটা ডোবায় পড়ে আছে। তার পাশেই তলোয়ারের মালিক শুয়ে আছে চিরকালের মতো। তার মতো হাজার যোদ্ধা সেখানে শুয়ে আছে চিরকালের মতো। কারো বুকে তলোয়ার আঘাতে শহীদ হয়েছে। কেউবা গলা কাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তাদের থেকে একটু দূরে তাবু টাঙিয়ে বিশ্রাম করছে রাজা আশিষ। আশিষের সামনে রয়েছে পোড়া শুকরের মাংস। উনি মাংস খাচ্ছেন আরাম করে।।উনার সভাকবি ফেরদৌস বক বক করে যাচ্ছে। তাই খানিকটা বিরক্ত হচ্ছেন।
ফেরদৌস আবেগি গলায় বলল, আপনার মনে কি একটুও দয়ামায়া নাই। হাজার মানুষ খুন করে আপনি কিভাবে এরকম নির্বাক হয়ে খেতে পারেন।
কোন উত্তর দেয় আশিষ। খাবারের সময় উনি কথা বলেন না। এটা উনার নিয়ম।
হঠাৎ সেখানে সেনাপতি আইয়ুব এসে বলল, জনাব। রানীকে নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে।
ভ্রু কুচকে তাকালেন আশিষ। রানির কথা তো ভুলেই গেছিলেন। খাবারের থালাতেই হাত ধুয়ে নিজের জামায় হাত মুছলেন আশিষ । তারপর উঠে দাড়ালেন।
তাবুর বাইরে এসে দেখলেন ২জন যৌদ্ধা ( রিদ ও আরচার) আসলেই ঝগড়া করছে কে রানীকে বিয়ে করবে তা নিয়ে। তবে রানী কোথায়?
আশিষ কে দেখে তারা দুজন লড়াই বন্ধ করে কেমন চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো।
আশিষ বলল, ঝগড়া করছো কি নিয়ে?
রিদ বলল, দেখেন না জনাব আমি চাইছি রানীকে বিয়ে করতে। এখন আরচার বলছে তার নাকি পছন্দ হয়েছে। আমি বলছি অন্যকাউকে পছন্দ কর। বলে না।
আশিষ বলল, রানী কোথায়? নিয়ে আসো।
তাবু থেকে রানীকে নিয়ে আসা হলো। সবুজ চোখ, ফর্সা গাল ও গোলগাল চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলেন আশিষ।
আশিষ বললেন, তোমরা কেউ না। রানীকে আমি বিয়ে করব।
তারপর আশিষ রানির সামনে হাটু গেড়ে বসে বলল, তুমি কি আমার স্ত্রী হবে?
রানী আশেপাশে তাকালো দূরে তার বাবা ও ভাই ও স্বামীর গলা কাটা দেহ পড়ে আছে। এই লোকটা খুনি। তার পরিবার খুন করেছে। এখন আবার তাকে বিয়ে করতে চায়। তবে রানী ভাবলো আশিষকে বিয়ে করলে তো তাও ভালো। নয়তো তার যৌদ্ধাকে তাকে ছিড়ে খাবে।
রানী মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
আশিষের হাতের ওপর হাত রাখলো রানী।
আশিষ যত্নসহকারে চুম্বন বসিয়ে দিল হাতে। যে লোকটা খানিকঘন্টা আগেই খুনে লিপ্ত ছিল। সে জুকে পড়েছে রানীর সামনে ব্যপারটা রানীর ভালোই লাগলো।
হঠাৎ উঠে দাড়িয়ে আশিষ সবাইকে লক্ষ্য করে বলল, বিয়ের আয়োজন করো। আজ সবার জোড়া জোড়া বিয়ে হবে। সন্ধা হয়ে এসেছে। রাতটা এখানে কাটিয়ে আমরা সকালে রওনা হবো নিজেদের শহরে।
যোদ্ধারা তলোয়ার উচু করে স্বাগতম জানালো আশিষের কথাকে।
যোদ্ধারা মুখে শব্দ করতে লাগলো 'হু হু হু হু কা কা' বলে তলোয়ার উচু করে একপ্রকার নৃত্য করতে লাগলো।
দূরে দাড়িয়ে ছিল ফেরদৌস। তার কাছে রাজার বিয়ের খবর টা ভালোলাগলো না। অন্তরে ব্যথা অনুভব করিল সে। চোখে খানিকটা জলও দেখা দিয়েছে।
#কিং
#পর্ব_০১
#রুদ্র_সিয়াম