সময়টা তখন পৃথিবীব্যাপী এক উত্তাল যুদ্ধের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলমান।নাৎসিরা পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য তখন ব্যবহার করছে 'Enigma' নামে এক বিশেষ ধরনের কোড। এরই সাহায্যে ঘটিয়ে চলেছে একের পর এক সফল অপারেশন। এই 'Enigma Code' কে বলা হয় ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এনক্রিপশন সিস্টেম।এটি ছিল এক বিশেষ ধরনের টাইপরাইটার যা প্রতিটি বার্তাকে এমনভাবে কোড করত যে, তা পাঠোদ্ধার করার ক্ষমতা তৎকালীন পৃথিবীর কারোর ছিল না।
গাণিতিকভাবে এই যন্ত্রের সেটিংস ছিল প্রায় ১৫৮কুইন্টিলিয়ন(১৫৮,৯৬২,৫৫৫,৫২১,৮৭০,০০০,০০০) অর্থাৎ,মানুষ যদি দিন-রাত মিলিয়েও চেষ্টা করত, তবুও একটি কোড ভাঙতে সময় লাগত প্রায় ২০ বিলিয়ন বছর! আর জার্মানরা এই কোড বদলে ফেলত প্রতি ২৪ ঘণ্টায়!!
মিত্রবাহিনীর কাছে এই কোড ব্রেক করা হয়ে পড়েছিল এক অসম্ভব মিশন। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন অ্যালান টুরিং নামক এক প্রতিভাবান।
রাত-দিন এক করে টুরিং তৈরি করলেন 'The Bomb'—যা ছিল ইতিহাসের প্রথম ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার। তাদেরই কোডের একটি ছোট্ট গাণিতিক ত্রুটি ধরে টুরিং হানা দিলেন নাৎসিদের অভেদ্য দুর্গে !
জার্মানরা মনে করত 'Enigma Code' অভেদ্য।তবে এনিগমা মেশিনের একটি বিশেষ নিয়ম ছিল— কোনো অক্ষর কোড হওয়ার পর কখনোই নিজের আসল রূপে ফিরে আসবে না। অর্থাৎ, আপনি যদি 'A' টাইপ করেন, তবে কোডে সেটি B, C, D যা খুশি হতে পারে, কিন্তু কখনোই আর 'A' হবে না। এই ছোট্ট একটি লজিক ব্যবহার করেই টুরিং কোটি কোটি কম্বিনেশন বাদ দিতে পেরেছিলেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই কোড ভাঙার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল অন্তত ২ বছর আগে এবং প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল প্রায় ২ কোটি মানুষ!