জানালার ধারের বকুল গাছটায় ফুল ধরেছে,
ঠিক যেমনটা তুমি ভেবেছিলে,
সাদা নক্ষত্রের মতো ফুট ফুটে ছেয়ে আছে চারপাশ।
তুমি গাছটি লাগিয়েছিলে আশ্চর্য এক অপরাহ্ণে,
বলতে, একদিন এর গন্ধে আমাদের সমস্ত অভিমান ধুয়ে যাবে।
আজ বাতাস বয়ে গেলেই ঝরে পড়ে বিষণ্ণ সুবাস,
ঘরের নির্জন মেঝেতে জমা হয় তোমার রেখে যাওয়া স্মৃতির তোড়া।
গাছটি বেড়েছে, তার ডালপালা ছুঁয়েছে আমার একাকী জানালার কাচ,
শুধু তুমিই আর নেই সেই জানালার ধারে বসে থাকার জন্য।
যে হাত দুটো একদিন পরম মমতায় মাটি খুঁড়েছিল বকুল গাছটির জন্য,
সেই হাত আজ মাটির গভীর অন্ধকারে চিরতরে ঘুমিয়ে আছে।
আমি প্রতিদিন সকালে উঠে ঝরে পড়া ফুলগুলো কুড়িয়ে নিই,
যেভাবে প্রতিদিন কুড়িয়ে আনি তোমার সাথে কাটানো পুরোনো মুহূর্তগুলো।
মৃত্যু তোমাকে আমার দৃশ্যমান সীমানা থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ঠিকই,
কিন্তু এই বকুলের মাখনের মতো সাদা
পাপড়িগুলোতে আজও তোমার হাতের স্পর্শ স্পষ্ট।
প্রতিটি সুবাস যেন তোমার ফিসফিস করে বলা সেই শেষ কথাটির সুর,
আমি থাকব, তোমার এই জানালার কাছেই, বাতাসে বাতাস হয়ে।
ঝরে যাওয়া বকুল আর নিঃসঙ্গ আমি, একই ছায়াতলে দাঁড়িয়ে আছি,
আমরণ ভালোবেসে যাওয়া এক অমলিন বিচ্ছেদের সাক্ষী হয়ে।