ইরিকা বলল, লিনা ৬মাসের প্রেগন্যান্ট ছিল। হাতের নখ দিয়ে নিজের পেট ছিড়ে নিজ বাচ্চা বের করে খাওয়া শুরু করেছিল।
আমি বললাম, কথাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত? নখ দিয়ে কি পেট ছেড়া যায়?
ইরিকা বললেন, লিনার নখ বিশাল বড় হয়েছিল এই পাগলখানায়। এখানে থাকতে থাকতে উনার চেহারা ফ্যকাসে হয়ে গিয়েছিল। শেষবার যখন উনার বাবা দেখতে এসেছিল। নিজ মেয়েকে চিনতে পারেননি। কান্না করতে করতে চলে গেছিলেন।
আমি বললাম, ধরলাম না হয় লিনা পেট থেকে বাচ্চা বের করলো। এটা তার তো রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যাওয়ার কথা। তবে সে জিবীত ছিল কিভাবে?
ইরিকা বলল, সবকিছু যুক্তি দিয়ে বোঝা যায় না। আর তাকে এরকম করতে গার্ড নিজ চোখে দেখেছেন। তারপর আমাদের বলেন।
আমি বললাম, তারপর কি লিনাকে বাচানো গিয়েছিল?
ইরিকা বলল, নিজের বাচ্চাকে খেয়ে সে হজম করতে পারেনি বমি করে দিয়েছিল। শুধু বাচ্চার পা টা কামড়ে মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে চাবিয়েছিল। তারপর হয়তো রক্তক্ষরণে মারা গেছে লিনা।
আমি বললাম, তার বাচ্চা কি জিবীত আছে?
ইরিকা বলল, না। তার বাচ্চাও মারা গেছে। আচ্ছা আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর দিলেন না আপনি লিনার কি হন? বয়ফ্রেন্ড নাকি বন্ধু?
আমার ঠোটের কোনায় হাসি। উত্তর দিলাম না আমি।
আমি বললাম, লিনা কিভাবে প্রেগন্যান্ট হয়েছিল সেটা তো জানেন।
ইরিকা বলল, খরবেও ব্যপারটা প্রকাশ্যে এসেছিল এরকম ধনী ঘরের মেয়ের সাথে এমন হবে ভাবেনি কেউ। লিনা তখন একা পাহাড়ি জঙ্গলে ঘুরতে গিয়েছিল। তার ঘুরাঘুরি পছন্দ ছিল। এমনকি ভ্লগ ভিডিও বানাতো। সেখানে যাওয়াই তার সর্বনাশ হয়েছিল জঙ্গলের মাঝে কিছু ছেলে তার সাথে। তারা হয়তো সংখ্যায় বেশি ছিল কত সেটা জানি না। আপনি বুঝতেই তো পারছেন যে কি হয়েছিল নিলার সাথে। তারপর মেয়েটা ট্রমায় চলে যায়। তার বাবা তাকে আমাদের এই মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। ৬মাস পর তার পেটে বাচ্চা আসে। আর সেই বাচ্চা বের করে খেয়ে ফেলে লিনা।
আমি দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম।
আমি বললাম, মারাত্মক কাহিনী। এটা নিয়ে আমার গল্প লেখা উচিত।
ইরিকা বলল, তার মানে আপনি একজন কবি। তাই তো?
আমি হেসে বললাম, হয়তোবা।
তারপর সেখান থেকে চলে আসলাম।
#Truma_Girl
#রুদ্র_সিয়াম